ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে বীরভূমে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এ বার বিজেপি করায় রেশন কার্ড কেড়ে নিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা—এমনই অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল অভিযোগ মানতে চায়নি।
সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত, সদাইপুর থানা এলাকার করমকাল গ্রামের ঘটনা। বিজেপি-র অভিযোগ, ভোট মেটার পরই পারুলিয়া পঞ্চায়েতের এই গ্রামের ৩০টি পরিবারের রেশন কার্ড কেড়ে নেয় শাসকদল। কাদের রেশন দেওয়া যাবে না, তার একটি তালিকাও স্থানীয় রেশন ডিলারকে ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সিউড়ির বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বুধবারই এই অভিযোগের বিষয়টি রাজ্য প্রশাসনের নজরে আনেন। তিনি বলেন, ‘‘লকডাউনের সময় এ ভাবে গরিব মানুষকে রেশন থেকে বঞ্চিত করা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই অভিযোগ করেছি।’’
প্রশাসন সূত্রের খবর, জগন্নাথের অভিযোগ পেয়ে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। জেলা খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের তরফে বৃহস্পতিবারই তদন্ত করে একটি রিপোর্ট রাজ্য খাদ্য সচিবকে পাঠানো হয়েছে। তবে, সেই রিপোর্টে রেশন কার্ড আদৌ কেড়ে নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি। তাতে বলা হয়েছে যাঁদের কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁদের রেশন কার্ডগুলি ই-পিওস (ইলেকট্রনিক পয়েন্ট অব সেল) মেশিনে ব্যবহার করে রেশন সামগ্রী তোলা হয়েছে। তদন্ত করে এমন একটি রিপোর্ট যে খাদ্য সচিবের কাছে গিয়েছে, তা এ দিন মেনে নিয়েছেন জেলা খাদ্য দফতরের এক কর্তা।
যদিও করমকাল গ্রাম সূত্রে জানা যাচ্ছে, যাঁদের কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ, তাঁরা কেউ রেশনের জিনিস পাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের একাধিক বাসিন্দার প্রশ্ন, ‘‘যেহেতু ই-পিওস মেশিনে কার্ড থাকলেই জিনিস তোলা যায়, তাই প্রকৃত গ্রাহক রেশনে জিনিস পাচ্ছেন কি না, সেটা কী করে বোঝা যাবে?’’ তাঁদের দাবি, ‘‘ভোটের ফল প্রকাশের পরে পরেই আমাদের রেশন কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যা কিছু হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা স্বপন মণ্ডল ও স্বপন ঘোষেদের নির্দেশে। তৃণমূলের নির্দেশে রেশন ডিলার জিনিস দিতে চাইছেন না। আমরা খুবই সমস্যায় পড়েছি।’’
স্থানীয় রেশন ডিলার সন্তোষ নন্দীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে, দুবরাজপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা স্থানীয় নেতা স্বপন মণ্ডল রেশন কার্ড কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘কারও রেশন কার্ড কাড়া হয়েছে বলে জানা নেই। ভয়েই হয়তো রেশন দোকানে যাচ্ছেন না কেউ কেউ।’’ যদিও তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘এমন অভিযোগের কথা শুনিনি। তবে, অভিযোগ সত্যি হলে, যে-ই সেটা করে থাকুন, তাঁর বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নেবে।’’