পুলিশের বিরুদ্ধে দলের কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর এবং মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ তুললেন বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা। শনিবার বিকেলে ওই বিজেপি কর্মীর দুই দিদি সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এই দাবি করেন ধ্রুব। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ ভিত্তিহীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লাভপুর থানা এলাকার মানপুর গ্রামের বাসিন্দা, বিজেপি কর্মী জগন্নাথ কোনাইয়ের বাড়িতে শনিবার যায় লাভপুর থানার পুলিশ। জগন্নাথের বোন নন্দিতা কোনাইয়ের দাবি, পুলিশ গিয়ে জগন্নাথের খোঁজ করে। কিন্তু পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানান যে তিনি বাড়িতে নেই। এরপরেই পুলিশ বাড়ি তল্লাশি শুরু করতে চায়। অভিযোগ, তল্লাশির সময় জগন্নাথের দুই দিদি, নন্দিতা ও আশার সঙ্গে পুলিশ কর্মীরা অশালীন আচরন করেন। এমনকি বাড়ির গয়না ও নগদ টাকা চুরি করা হয় বলে অভিযোগ।
এ দিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আশা দাবি করেন, ‘‘ওঁরা অশালীন ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করেন। আমি গর্ভবতী। তাও ওঁরা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। আমি এর সুবিচার চাই।’’
নন্দিতার দাবি, ‘‘ওঁরা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। টিভিটা ভাঙতে যাচ্ছিল আমি বাধা দিতে গেলে আমার ডান কানের দুলটা ছিঁড়ে নেয়।’’ বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহার অভিযোগ, ‘‘রক্ষকই ভক্ষক হয়ে গেলে আইনের শাসন থাকে না। পুলিশ উর্দি পড়ে তৃণমূলের ঝান্ডা ধরার কাজ করছে।’’
বিজেপি দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁরা মেল মারফত জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠীর কাছে ঘটনার অভিযোগ জানাবেন। পাশাপাশি আগামী সোমবার জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা দেখা করবেন। এ দিনই বিজেপির তরফে এই ঘটনা নিয়ে রাজ্যপালের কাছে ই-মেলে অভিযোগ জানানো হয়। জেলা পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘একে বারেই ভিত্তিহীন অভিযোগ। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ ওঁদের বাড়ি গিয়েছিল। কেবল বলা হয়েছিল ঘরে আছেন কি না সেটা দেখতে দিতে। পুলিশ কোনও জিনিসে হাত দেয় নি। সমস্যাটি ওঁদের পরিবার শুরু করছে।’’
লাভপুর বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ বলেন, ‘‘এই কড়া বিধিনিষেধের সময় পুলিশ প্রশাসন খুব ভাল কাজ করেছে। বিজেপির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা দরকার এবং কোনও অভিযুক্তের গ্রেফতারিতে পুলিশকে বাঁধ দেওয়ার জন্য এই অভিযোগ করা হচ্ছে কি না সেটাও দেখা দরকার।’’