Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

প্রতিরোধের কথা বলছেন বিরোধীরা

আজ, সোমবার হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশনের ধার্য করা মনোনয়নের বাড়তি দিন। তার আগের ছুটির দিনটা সবার কেটে গেল ছোটাছুটি করেই।

নিজস্ব সংবাদদাতা
বাঁকুড়া ২৩ এপ্রিল ২০১৮ ০০:৪৪
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

প্রশাসনিক দফতর থেকে থানা— শান্তিপূর্ণ মনোনয়ন প্রক্রিয়ার দাবি নিয়ে রবিবার দিনভর সব জায়গাতেই গেলেন বিরোধীরা। এলাকায় নেতারা গেলেন প্রার্থীদের মনোবল বাড়াতে। বাধা এলে কী করা হবে, তা ঠিক করতে হল বৈঠক। শাসকদলের দফতরেও আলোচনায় বসলেন নেতা-কর্মীরা। আজ, সোমবার হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশনের ধার্য করা মনোনয়নের বাড়তি দিন। তার আগের ছুটির দিনটা সবার কেটে গেল ছোটাছুটি করেই।

রবিবার সকাল থেকেই সতীঘাট বাইপাস এলাকায় জেলা তৃণমূলের দফতরে দফায় দফায় বৈঠক হয়। দল সূত্রের খবর, পঞ্চায়েত ভোটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই জেলা জুড়ে তাদের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা করে দিয়েছেন। তাহলে মনোনয়নের বাড়তি দিনটিতে শাসকদলের ভূমিকা কী হবে? জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যের পরিবেশ নষ্ট করতে বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসের মতো কিছু ভাইরাস ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের হাতে উন্নয়নের অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে। সেটা কেবল ছড়িয়ে দেব।”

নির্বাচন কমিশন গোড়ায় মনোনয়নের জন্য সাত দিন সময় দিয়েছিল। কিন্তু মনোনয়ন জমা করতে যাওয়া বিরোধী প্রার্থীদের জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি অফিসে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। অফিসের সামনে ছিল সশস্ত্র জমায়েত। বাঁকুড়া সদর মহকুমাশাসকের দফতরের বাইরে ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে হেলমেটে মুখ ঢাকা লাঠিধারীদের। এখনও পর্যন্ত এই জেলায় জেলা পরিষদের অর্ধেক আসনেও বিরোধী মনোনয়ন জমা পড়েনি। বিষ্ণুপুর মহকুমার ছ’টি পঞ্চায়েত সমিতি এবং পঞ্চায়েতগুলিতে বিরোধীদের মনোনয়নই জমা পড়েনি। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের প্রশ্ন, বাড়তি একটা দিন মিলেছে বটে, কিন্তু তা কি আদৌ কাজে লাগানো যাবে?

Advertisement

এ দিন মহকুমাশাসক (বাঁকুড়া সদর) ও জেলা পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়ে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল মনোনয়নে অশান্তি রোখার দাবিতে আবেদন জানায়। উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য নেতা সুভাষ সরকার, বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ
পাত্র প্রমুখ।

সুভাষবাবু বলেন, “আমরা চাই হাইকোর্টের নির্দেশে বিরোধী প্রার্থীরা যে বাড়তি একটি দিন মনোনয়নের জন্য পেয়েছেন তা কাজে লাগাতে। শান্তিপূর্ণ ভাবে যাতে মনোনয়ন জমা দেওয়া যায় সেই দাবি নিয়েই প্রশাসন ও পুলিশের কাছে গিয়েছিলাম।”

সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কিঙ্কর পোশাক বলেন, “জেলাশাসককে হোয়াটসঅ্যাপে অশান্তি রুখতে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছি।”

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে শুধু ব্লক অফিসেই। জেলা পরিষদের আসনের জন্য মহকুমাশাসকের অভিসে মনোনয়ন পর্ব চলবে।

এ দিন ওন্দা থানায় বিজেপি এবং বড়জোড়া থানায় বামফ্রন্ট মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অশান্তি রুখতে পুলিশকে সক্রিয় হওয়ার দাবি জানিয়েছে। এদিন বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি সেলের রাজ্য আহ্বায়ক উজ্বল পারিখ বাঁকুড়ায় এসে একটি বৈঠক করেন। অশান্তির ঘটনা বিজেপির ফেসবুক পেজে ‘লাইভ’ সম্প্রচার করার জন্য জেলার তথ্যপ্রযুক্তি সেলের সদস্যদের নির্দেশ দেন তিনি। বিজেপির বাঁকুড়া তথ্যপ্রযুক্তি সেলের আহ্বায়ক শানু কুণ্ডু বলেন, “প্রতিটি ব্লকে দলের যুব কর্মীদের সমস্ত অশান্তির ঘটনা মোবাইলে রেকর্ড করে রাখতে বলা হয়েছে।”

বাধা পেলে পাল্টা প্রতিরোধে নামা হবে বলেও দাবি করেছেন জেলার কিছু বিজেপি নেতা। মনোনয়নে বাধা পেয়ে ওন্দা, রানিবাঁধ, রাইপুরের মতো কয়েকটি জায়গায় পালটা প্রতিরোধ করতে দেখা গিয়েছিল বিজেপিকে। রানিবাঁধে সংঘর্ষে খুন হয়েছেন বিজেপির এক প্রার্থী। জেলার এক বিজেপি নেতা বলেন, “যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমরা সব রকম ভাবেই তৈরি থাকছি। কেউ অ্যান্টিবায়োটিক দিতে এলে পাল্টা ওষুধও আমাদের কাছে থাকবে।”

রবিবার দলীয় প্রার্থী ও কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করতে ছাতনায় গিয়েছিলেন সিপিএম নেতা কিঙ্করবাবু। বিষ্ণুপুরে গিয়েছিলেন সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মনোরঞ্জন বসু। কিঙ্করবাবুর অভিযোগ, “আমাদের প্রার্থীদের বাঁকুড়ায় আসা আটকাতে ছাতনা-সহ বেশ কিছু জায়গায় ছোট গাড়ির মালিকদের হুমকি দিয়ে গাড়ি ভাড়া দিতে মানা করেছে তৃণমূলের লোকজন। আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করে প্রার্থীদের নিয়ে যাব। বাধা পেলে আন্দোলন হবে।” তবে ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি তৃণমূলের।

মনোনয়ন নিয়ে আজ কী হয়, বাঁকুড়ার সাধারণ মানুষও তা নিয়ে জল্পনা করছেন। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সুখেন্দু হীরা আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, “সব জায়গায় যথেষ্ট পুলিশ মোতায়েন করা হবে।”

জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলেন, “নির্বাচন কমিশন যেমন নির্দেশ দেবে সেই মোতাবেক আমরা কাজ করব।”



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement