কেউ বোমার পাল্টা নাড়ু ছুড়ে মারার নিদান দিলেন। কেউ আবার হাত-পা ভেঙে, চোখ উপড়ে নেওয়ার। পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে জল্পনার আবহে বাঁকুড়ার মঞ্চে দলীয় সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের সামনেই একের পর পর এমনই বেলাগাম মন্তব্য করতে দেখা গেল বিজেপি বিধায়ক থেকে শুরু করে দলের মণ্ডল সভাপতিদের। এ নিয়ে কটাক্ষ করেছে শাসকদল তৃণমূলও।
বুধবার বাঁকুড়ার বাঁশি গ্রাম সংলগ্ন দারকেশ্বর নদের চরে জগদল্লা-১ অঞ্চলে সভার আয়োজন করেছিল বিজেপি। সেখানে হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট এসেছিলেন। সেই মঞ্চ থেকে বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা বলেন, ‘‘মেশিন, অস্ত্র, বোমা, গুলিতে আমরা বিশ্বাস করি না। কিন্তু আমরা থেমে থাকব না। আমাদের যদি কেউ বোমা মারে, আমরা কি তাঁদের দিকে মিষ্টি ছুড়ব?’’ এর পরেই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বিজেপি বিধায়ক বলেন, ‘‘আপনারা প্রস্তুত থাকুন। আপনারা চাষি পরিবারের মায়েরা এই শীতকালে বেসন দিয়ে মোটা মোটা চানা তৈরি করুন। তা রোদে শুকিয়ে নিন। তার পর খাঁটি সরষের তেলে ভাল করে মালিশ করে গুড় দিয়ে ভাল করে ফুটিয়ে বড় বড় নাড়ু তৈরি করে রাখুন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে আপনাদের যদি বোমা মারে, তা হলে আপনারা নাড়ু ছুড়ে মারবেন। মনে রাখবেন, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি।’’
নির্বিঘ্নে ভোটে শাসকদলের কেউ বাধা দিলে, তাঁদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বাঁকুড়া-১ মণ্ডলের সভাপতি বিকাশ ঘোষও। বলেন, ‘‘আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য আপনারা সবাই তৈরি থাকুন। এই নির্বাচনে যদি কোনও তৃনমূল নেতা বা কোনও গুন্ডাবাহিনী আপনাদের আক্রমণ করতে আসে, তা হলে নিজেদের মতো করে বুঝে নেবেন। আমাদের কর্মীদের কোনও কাজে যদি কেউ বাধা দিতে আসে, তা হলে হাত-পা ভেঙে দেবেন। বিজেপির কেউ পিছিয়ে নেই। সরাসরি চোখ উপড়ে নেবেন। মেরে সোজা হাসপাতালে ভর্তি করে দেবেন। আমি মণ্ডল সভাপতি হিসাবে এ কথা বলে গেলাম।’’
বিজেপি নেতাদের এই সব মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে তৃণমূল। তালড্যাংরার তৃনমূল বিধায়ক অরুপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বিধায়কদের মুখে এ ধরনের কথা শোভা পায় না। নীলাদ্রিশেখর দানা অপরিণত এক বিধায়ক। তাঁর রাজনীতি শিখতে এখনও অনেক দেরি আছে। এ ধরনের উত্তেজক মন্তব্য করে এলাকায় নতুন করে অশান্তি তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব। ভোটে হেরে গেলে এই নেতারা সব পালিয়ে যাবেন।’’