Advertisement
E-Paper

CBI: শুয়ে ওসি দেখালেন, এ ভাবেই ছিল দেহ

ভোট গণনার দিন ইলামবাজার থানার অন্তর্গত গোপালনগর গ্রামে বিজেপি কর্মী গৌরব সরকারকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৯ অগস্ট ২০২১ ০৭:১০
ইলামবাজারে সিিবআইয়ের প্রতিনিধিরা। শনিবার।

ইলামবাজারে সিিবআইয়ের প্রতিনিধিরা। শনিবার। নিজস্ব চিত্র।

আদালতের নির্দেশে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগের তদন্তে জেলায় সিবিআই আসবে বলে জল্পনা ছিল ক’দিন ধরেই। শেষ পর্যন্ত শনিবার পশ্চিম বর্ধমান থেকে বীরভূমে এসে পৌঁছন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। নানা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কাঁকরতলা ও ইলামবাজারে যান তাঁরা। জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, ‘‘এ ব্যাপারে ওঁরা (সিবিআই আধিকারিকরা) আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেন নি। তবে দিনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছনো দেখে মনে হচ্ছে একটিই দল জেলায় এসেছে।’’

এ দিন বেলা আড়াইটে নাগাদ আইজি পদমর্যাদার এক মহিলা আধিকারিকের নেতৃত্বে সিবিআইএর দলটি কাঁকরতলা থানায় পৌঁছয়। জানা গিয়েছে, আইজি ছাড়া ডিআইডি, ডেপুটি পুলিশ সুপার, ইন্সপেক্টর-সহ বিভিন্ন পদমর্যাদার একাধিক আধিকারিক ছিলেন দলে। থানায় না ঢুকে স্থানীয় থানার পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার দলটি সোজা ১২-১৩ কিমি দূরে অজয় নদ ঘেঁষা গ্রাম নবসনে আসেন।

ওই গ্রামে গত ১২ জুন মিঠুন বাগদি নামে বছরে পঁচিশের এক বিজেপি কর্মীকে কুপিয়ে, থেঁতলে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনাকে ঘিরে প্রথম থেকেই রাজনীতির রং লেগেছিল। ভোট-পরবর্তী হিংসায় অন্যতম অভিযোগ হিসেবে বিজেপি সামনে নিয়ে এলেও শাসক দল বরাবর দাবি করে এসেছে ওই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। প্রাথমিক তদন্তে একই অনুমান ছিল পুলিশেরও। পুলিশের দাবি ছিল। পথ দুর্ঘটনায় মৃত এক যুবকের ক্ষুব্ধ পরিজনদের আক্রোশেই খুন হন মিঠুন। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ডিসেম্বরে কাঁকরতলার নবসন গ্রামের রাস্তায় মোটর বাইকের ধাক্কায় মৃত্যু হয় রাজু বাগদি (২৪) নামে এক যুবকের। মৃতের পরিবারের অভিযোগ ছিল, মিঠুন ইচ্ছাকৃতভাবে বাইকের ধাক্কায় খুন করেছেন রাজুকে। পুলিশ মিঠুকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। জামিনে ছাড়া পেয়ে একটি ভাড়া গাড়ি করে ১২ জুন গ্রামে ফিরতেই রাজুর পরিবার মিঠুনের উপরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। পুলিশ মারাত্মক জখম অবস্থায় মিঠুনকে নাকড়াকোন্দা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলেও তাঁকে বাঁচানো যায় নি। এর পরই নিহতের দাদা কার্তিক বাগদির অভিযোগে পুলিশ রাজুর পরিবারের পাঁচজনকে ধরে।

সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল তা সিবিআই কর্তারা গ্রামে এসে স্থানীয় থানার ওসির কাছে বিশদে জানতে চান। কোথায় দেহ পড়ে ছিল, কী ভাবে পড়েছিল জানতে চান সে সব কিছুই। মৌখিক বর্ণনা দেওয়ার পাশাপাশি ওসি জহিদুল ইসলাম মাটিতে শুয়ে কী ভাবে দেহ পড়েছিল তা দেখান। তবে মিঠুনের পরিবারের কাউকে সেখানে পায়নি সিবিআই। আশপাশের বাড়ির সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন সিবিআই আধিকারিকেরা।

কাঁকরতলা ঘুরে সন্ধ্যা নাগাদ ইলামবাজারের গোপালনগর গ্রামে এসে পৌঁছয় সিবিআইয়ের দল। বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার দিন ইলামবাজার থানার অন্তর্গত গোপালনগর গ্রামে বিজেপি কর্মী গৌরব সরকারকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ভোট গণনার দিন ওই এলাকার বিজেপি সমর্থক গৌরাঙ্গ সরকারের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ বিজেপির। তাঁর দুই ছেলে, গৌরব ও সেতু বাধা দিতে গেলে তাঁদেরও ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বিজেপি সমর্থক গৌরবের। গুরুতর আহত অবস্থায় সেতু সরকারকেও বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে ইলামবাজার থানায় একটি খুনের মামলা দায়ের করা হয়। তৃণমূল যদিও ঘটনায় তাদের কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। শনিবার সন্ধ্যায় মৃত গৌরবের বাড়িতে এসে পৌঁছন সিবিআইয়ের আধিকারিকেরা। তাঁরা মৃতের পরিজনদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। যে জায়গায় গৌরবকে মারধর করা হয়েছিল সেই জায়গাটিও এ দিন পরিদর্শন করেন তাঁরা। মৃতের বাবা গৌরাঙ্গ সরকার বলেন, “সিবিআইয়ের উপর আমাদের পুরো আস্থা রয়েছে। তারা সঠিক তদন্ত করুক এটাই চাই।”

তবে এ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরেও সিবিআইয়ের দল আসেনি মল্লারপুরের কোট গ্রামে। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য নাসিমউদ্দিন শেখের অভিযোগ, তাঁর বাবা, ৭২ বছর বয়স্ক জাকির হোসেনকে খুন করেছে তৃণমূলের লোকজন। তৃণমূলের তরফে যদিও অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় চারটি ভোট পরবর্তী খুনের মামলা পুলিশের হাত থেকে সিবিআইয়ের কাছে গিয়েছে। ঘটনায় পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে তার নথিপত্র সিবিআইকে আগেই দিতে হয়েছে। কাঁকরতলার ঘটনা সেটির অন্যতম। তবে শুধুমাত্র চারটি মামলাই সিবিআই দেখবে না আরও অন্য কোনও মামলা সিবিআই হাতে নেবে সেটা স্পষ্ট নয়।

TMC BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy