Advertisement
E-Paper

অসুস্থ বৃদ্ধকে ডাক্তার ফেরালেন, পরে ভর্তি

রোগীকে ফিরিয়ে দিয়ে ওই ডাক্তার ভুল করেছেন বলে স্বীকার করেন বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার তড়িৎকান্তি পাল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২০ ০৩:০৯
 হয়রানি: স্টেশন থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। বিষ্ণুপুরে রবিবার। নিজস্ব চিত্র

হয়রানি: স্টেশন থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। বিষ্ণুপুরে রবিবার। নিজস্ব চিত্র

করোনা-পরিস্থিতিতে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি যাতে রোগী ফেরত না পাঠায় সে জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুরোধ করেছেন। কিন্তু রবিবার রোগী ফেরত পাঠানোর অভিযোগ উঠল সরকারি বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের এক ডাক্তারের বিরুদ্ধেই। অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলার সুদামডিহি থানার ৭২ বছরের ওই বৃদ্ধ শ্বাসকষ্ট ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে গেলে স্থানীয় কেউ সঙ্গে না থাকায় নিয়মের ‘অজুহাত’ দেখিয়ে জরুরি বিভাগের এক ডাক্তার তাঁকে ফিরিয়ে দেন। পরে খবর পেয়ে সুপার ওই বৃদ্ধকে হাসপাতালে ফিরিয়ে এনে তাঁকে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করেন।

রোগীকে ফিরিয়ে দিয়ে ওই ডাক্তার ভুল করেছেন বলে স্বীকার করেন বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার তড়িৎকান্তি পাল। তিনি বলেন, “এখন বিদেশ থেকে রোগী আসায় কিছুটা হলেও আতঙ্কে আছেন অনেক ডাক্তার। তাই সাবধানতা নিতে গিয়ে এক জন কম বয়সি ডাক্তার রোগীর স্থানীয় পরিচিত কাউকে চেয়েছিলেন। তবে এখন চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়াই প্রধান কর্তব্য। ঘটনাটি জানার পরেই হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে আসা হয়। উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকায় তাঁকে ভর্তি করানো হয়। তাঁর বাড়িতেও খবর পাঠানো হয়েছে।”

ওই ডাক্তারের সঙ্গে চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি।

ওই বৃদ্ধের বক্তব্য, তিনি আদ্রায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আসছিলেন। ট্রেনে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ঘুম ভাঙলে তিনি দেখেন, তিনি দেখেন ট্রেন তখন বিষ্ণুপুর স্টেশনে। তড়িঘড়ি নেমে পড়ে প্ল্যাটফর্মে ফিরতি ট্রেনের অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময়েই তিনি অসুস্থ বোধ করায় শুয়ে পড়েছিলেন। ‘জনতা-কার্ফু’ চলায় সুনসান প্ল্যাটফর্মে বৃদ্ধ নিজের অসুস্থতার কথা কাউকে জানাতে পারেননি।

স্টেশনের বাইরে সংবাদপত্রের হকারদের নজরে আসে বিষয়টি। তাঁরা ওই পরিচিত বৃদ্ধকে বিষ্ণুপুর হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। বৃদ্ধ বলেন, ‘‘একটি টোটো ধরে কোনও রকমে সকাল ৭টা নাগাদ বিষ্ণুপুর হাসপাতালে পৌঁছই। জরুরি বিভাগে শারীরিক সমস্যার কথা জানিয়ে ভর্তি হতে চাইলে দায়িত্বে থাকা ডাক্তার বলেন, ‘অপরিচিত কাউকে ভর্তি করা যাবে না।’ তিনি স্থানীয় পরিচিত কাউকে নিয়ে আসতে বলেন। অপরিচিত এই শহরে কাকে পাব? অসুস্থ শরীরে তাই ফের রেল স্টেশনে ফিরে যাই।’’

স্টেশনের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্থানীয় যুবক সুশান্ত বসু, স্বপন দত্ত, তুফান রক্ষিতেরা। তাঁরা বৃদ্ধকে কাহিল অবস্থায় দেখে কী হয়েছে জানতে চান। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁরা ফোন করেন হাসপাতাল সুপারকে। তড়িঘড়ি তিনি হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স পাঠিয়ে স্টেশন থেকে বৃদ্ধকে নিয়ে গিয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy