কোভিড হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি থাকা সঙ্কটজনক রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলায়। সমস্যার কারণ, চিকিৎসকের ঘাটতি। একই কারণে সমস্যা রামপুরহাট মেডিক্যালেও। উভয়সঙ্কটের দ্রুত সমাধানে আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছেন রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান।
রামপুরহাটের কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সঙ্কটজনক করোনা রোগীদের জন্য ৫টি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের শয্যা আছে। সেই ৫টি শয্যার রোগীদের দেখভাল করার জন্য প্রথম থেকেই রামপুরহাট মেডিক্যালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্সরা নিযুক্ত আছেন। কিন্তু দিন কয়েকআগে রামপুরহাট মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ ওই চিকিৎসকদের তুলে নেওয়ার জন্য কোভিড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। ওই চিকিৎসকদের তুলে নেওয়া হলে চরম অসুবিধার সম্মুখীন হবেন করোনা আক্রান্ত সঙ্কটজনক রোগীরা।
রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলা সূত্রে জানা গিয়েছে, কোভিড হাসপাতালের জন্য আলাদা করে কোনও ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের চিকিৎসক নিযুক্ত করা হয়নি। ওই দায়িত্ব সামলাতে রামপুরহাট মেডিক্যালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের চিকিৎসকদের করোনা চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। তার পরেও কোভিড হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকদের তুলে নিতে চেয়ে রামপুরহাট মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ কেন আবেদন করছেন? মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি পলাশ দাস জানিয়েছেন, রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে মোট ৬ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৪ জনকে রামপুরহাট কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘এর ফলে রামপুরহাট মেডিক্যালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে রোগীদের চিকিৎসা করা মুশকিল হয়ে পড়েছে।’’
মেডিক্যাল সূত্রে জানা গিয়েছে বর্তমানে সেখানকারা ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ১২টি শয্যা আছে। ১২ টি শয্যার জন্য ৮ জন চিকিৎসক নিযুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ৬ জন চিকিৎসক নিযুক্ত হয়েছেন। ৬ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৪ জন চিকিৎসক, ৪ জন টেকনিশিয়ান, ২ জন নার্স কোভিড হাসপাতালেও নিযুক্ত আছেন। মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসকদের ঘাটতির জন্য রামপুরহাট মেডিক্যালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে। অন্য দিকে, চিকিৎসকদের তুলে নেওয়া হলে সমস্যায় পড়বেন করোনা রোগীরাও। রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, ‘‘আজ-কালের মধ্যে রামপুরহাট মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ-সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।’’