Advertisement
E-Paper

পাল্টে গিয়ে বাজার ধরছে বিষ্ণুপুর মেলার হস্তশিল্প

চেনা বাজারের গণ্ডি টপকাতে হস্তশিল্পে পরিবর্তন আনছেন লোকশিল্পীরা। বিষ্ণুপুর মেলার কারিগরের হাটে ঘুরে দেখা মিলছে এমনই পালাবদল।বাঁকুড়ার বিকনার জিতনের কর্মকারের দোকানে ডোকরার হার, দু’জোড়া কানের দুল আর বালা দেখতে দেখতে এক মহিলা জানতে চাইলেন, ‘‘ভাই এই গয়নার সেটটার দাম কত?’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ ০০:৫৯
ডোকরার অলঙ্কার। শুভ্র মিত্রের তোলা ছবি।

ডোকরার অলঙ্কার। শুভ্র মিত্রের তোলা ছবি।

চেনা বাজারের গণ্ডি টপকাতে হস্তশিল্পে পরিবর্তন আনছেন লোকশিল্পীরা। বিষ্ণুপুর মেলার কারিগরের হাটে ঘুরে দেখা মিলছে এমনই পালাবদল।

বাঁকুড়ার বিকনার জিতনের কর্মকারের দোকানে ডোকরার হার, দু’জোড়া কানের দুল আর বালা দেখতে দেখতে এক মহিলা জানতে চাইলেন, ‘‘ভাই এই গয়নার সেটটার দাম কত?’’ জিতেন বলেন, ‘‘দিদি আপনার জন্য ৩০০ টাকা।’’ ওই মহিলার মতো আরও অনেকের হাতে তখন ডোকরার গয়না নাড়াচাড়া হচ্ছে। এক ফাঁকে জিতেন জানান, বাবা বচন কর্মকার একসময়ে শুধু ডোকরার দেবদেবী, আদিবাসী নরনারী এ সব তৈরি করতেন। কিন্তু বাজারে তেমন চাহিদা ছিল না। মাথা খাটিয়ে তৈরি করলাম গয়নার সেট, দরজার হ্যান্ডেল, চপস্টিক, অ্যাশট্রে, ফটোফ্রেম। ক্রেতাদের কাছে ডোকরা এল নতুন রূপে। এ সবের চাহিদা এখন তুঙ্গে।’’ গত বছরে এই মেলায় তাঁদের ১২ হাজার টাকার বেচাকেনা হয়েছিল। এ বারও শুরুটা মন্দ হয়নি। তিনি জানান, তাঁদের মতো অনেক ডোকরা শিল্পীই এখন সরকারের সহায়তায় ডোকরা শিল্পে নতুনত্ব এনে সুখের মুখ দেখছেন। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা তো বটেই, ভিন্‌ রাজ্যের মেলাতেও ডাক পাচ্ছেন। বাইরে রফতানির বাজারও পাচ্ছেন।

চিরাচরিত ভাবনা ছেড়ে বাজার ধরতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বিষ্ণুপুরে বাসন্তীতলার টেরাকোটা শিল্পী হীরালাল পাল, সুরজিৎ পালেরা। বিষ্ণুপুরি ঘোড়া, হাতির সঙ্গে তাঁরা এখন মেলায় এনেছেন বাহারি গাছ, ছোটদের মাটির খেলনা, পশু-পাখির মূর্তি প্রভৃতি। তবে প্রশিক্ষণের অভাবের জন্য তাঁরা আক্ষেপ করছিলেন। হীরালালবাবুর কথায়, ‘‘আমাদের যদি আধুনিক পদ্ধতিতে এই কাজটা শিখিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হতো তাহলে আরও উৎকৃষ্ট কাজ তুলে ধরতে পারতাম।’’

Advertisement

পুরুলিয়ার গাড়াফুসুর অঞ্চলের শ্যামপুর গ্রামের রামপদ কালিন্দি, দান্দুরাম কালিন্দি সেদিক থেকে ভাগ্যবান। রামপদবাবু বলছিলেন, ‘‘আগে আমরা বাঁশ থেকে ঝুড়ি, ডালা, কুলো, ঝাঁটা— এ সব তৈরি করতাম। বাজার ছিল না। পুরুলিয়া শিল্প দফতর থেকে আমাদের নিয়মিত আধুনিক প্রশিক্ষণ দিয়ে এই বাঁশ থেকেই মানুষের নিত্য ব্যবহারের দেখতে ভাল নানা উপকরণ তৈরি করতে শেখায়।’’ মেলায় তাঁরা বাঁশের তৈরির খবরের কাগজ, পত্রপত্রিকা রাখার স্ট্যান্ড, ফল রাখার ট্রে, পেন রাখার স্ট্যান্ড, মগ প্রভৃতি গেরস্থালি সামগ্রী এনেছেন। দান্দুরামবাবু বলছিলেন, ‘‘মেলার প্রথম দিন থেকেই বেশ বেচাকেনা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে ভালই বিক্রিবাটা হবে মনে হচ্ছে।’’

মানুষের রুচির সঙ্গে তার মিলিয়ে তাই লোকশিল্প এখন বাজারমুখী।

Bishnupur Festival 2016
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy