Advertisement
E-Paper

রোগ বাড়ছে, তবু ভরসা সুস্থতার হার

উদ্বেগের মধ্যেও বীরভূমের ক্ষেত্রে যা আশাব্যঞ্জক সেটা হল, দ্রুত সেরে ওঠার  হার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২০ ০৩:০৪
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

দেশ, রাজ্যের পাশাপাশি জেলায় লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ৩০ এপ্রিল জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল তিন। মাত্র চল্লিশ দিনের মাথায় মঙ্গলবার সকালের হিসেব বলছে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৩৪। সোমবারই নতুন করে ২৯ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

তবে উদ্বেগের মধ্যেও বীরভূমের ক্ষেত্রে যা আশাব্যঞ্জক সেটা হল, দ্রুত সেরে ওঠার হার। আক্রান্ত হওয়ার পরে দিন কয়েকের মধ্যেই কোভিড হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১৯১ জন। সেই তালিকায় তিন বছরের শিশু থেকে ৭০ বছরের বৃদ্ধ আছেন। আছেন উচ্চরক্তচাপে ভোগা রোগী, ডায়াবেটিস থেকে ক্যান্সার আক্রান্ত করোনা রোগীও। যে পরিসংখ্যান উদ্বেগের মাঝেও স্বস্তি দিয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলছেন, ‘‘অন্য রাজ্য বা এ রাজ্যের অন্য জেলা নিয়ে বলতে পারবে না। তবে বীরভূমের দুই স্বাস্থ্য জেলায় করোনা মুক্তির যে তথ্য এখনও পর্যন্ত উঠে এসেছে সেটা অবশ্যই স্বস্তির। এখনও পর্যন্ত এক জনই মারা গিয়েছেন। তিনি জেলার বাইরে চিকিৎসা করিয়েছিলেন। অন্য অসুখেও ভুগছিলেন।’’

৩০ এপ্রিল রামপুরহাট মহকুমার ময়ূরেশ্বর ১ ব্লকে তিন করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলেছিল। তার পর থেকেই সংখ্যাটা ক্রমশ বাড়ছে। অনেকের লালারসের নমুনা টেস্টের জন্য নেওয়া হলেও বকেয়া রয়েছে বহু রিপোর্টও। তার পরেও সংক্রমণের গ্রাফ ভীষণভাবেই ঊর্ব্ধমুখী। যথেষ্ট টেস্ট হলে এবং দ্রুত রিপোর্ট এলে সংখ্যাটা আরও বাড়বে।

রাজ্যে স্বাস্থ্য দফতরের খবর, ধারাবাহিক ভাবে যে সব জেলায় উদ্বেগজনক করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে সেই তালিকায় আছে বীরভূমও। স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য বলছে, দুটি স্বাস্থ্য জেলার মধ্যে রামপুরহাটে সংক্রমণের হার ও বীরভূমে স্বাস্থ্য জেলার তুলনায় বেশি। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৭ জন। বীরভূম স্বাস্থ্য জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮৬। তাঁদের মধ্যে রামপুরহাট কোভিড হাসপাতালে ২১ জন ও বোলপুর কোভিড হাসপাতালে ২৩ জন ছাড়া সকলেই সেরে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। জেলায় প্রথম তৈরি হওয়া বোলপুর কোভিড হাসপাতালের সুপার শোভন দে বলছেন, ‘‘এখান থেকে ১২৫ জন বাড়ি ফিরছেন সুস্থ হয়ে। অন্য দিকে, রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার কোভিড হাসপাতাল থেকে ৬১ জন বাড়ি ফিরেছেন। দুর্গাপুর কোভিড হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ৪ জন।’’

স্বাস্থ্যকর্তারা বলছেন, আরও একটা উল্লেখযোগ্য দিক হল আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র পাঁচ জন ছাড়া বাকি কারও মধ্যেই করোনা সংক্রমণের কোনও উপসর্গ ছিল না। যাঁদের শরীরে অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে, তাঁদের উপসর্গও তেমন প্রকট নয়। সামান্য সর্দি-কাশি গলা ব্যথা আছে। তাই হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও আক্রান্তদের নতুন করে উপসর্গ দেখা না দেওয়ায় বা সুস্থ থাকায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বাড়িতে নিভৃতবাসের থাকা, মাস্ক পরা এবং পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে।

তবে আক্রান্তদের অধিকাংশেরই কোনও উপসর্গ না থাকা এক দিকে সন্তোষজনক মনে হলেও অজান্তে তাঁদের থেকেই অন্যদের সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের যুক্তি, ৩১ মে-এর লকডাউন উঠে যাওয়ায় কেবল কন্টেনমেন্ট জোনগুলিতে বিধি নিষেধ রয়েছে। বাকি প্রায় সব খোলা। শুরু হয়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। এর সঙ্গে আইসিএমআরের গাইড-লাইন মেনে উপসর্গহীন পরিযায়ী শ্রমিকদের টেস্টও বন্ধ করা হয়েছে। তাই আক্রান্ত কারা সেটা ঠিক ভাবে জানা না গেলেও সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব হবে না।

Coronavirus Health COVID-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy