Advertisement
E-Paper

মন্দিরে উটকো লোক ঠেকাতে চালু আইডি

উটকো লোকের ভিড় ঠেকাতে এ বার তারামায়ের মন্দিরে মা তারার মূল সেবাইতদের সাহায্যকারী পান্ডাদের সচিত্র পরিচয় পত্র দেওয়া হচ্ছে। ঠিক হয়েছে, নতুন পরিচয়পত্র ঝুলিয়েই পুজোর যাবতীয় কাজ করতে হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মার্চ ২০১৬ ০২:৫৮

উটকো লোকের ভিড় ঠেকাতে এ বার তারামায়ের মন্দিরে মা তারার মূল সেবাইতদের সাহায্যকারী পান্ডাদের সচিত্র পরিচয় পত্র দেওয়া হচ্ছে। ঠিক হয়েছে, নতুন পরিচয়পত্র ঝুলিয়েই পুজোর যাবতীয় কাজ করতে হবে। সম্প্রতি এক বৈঠকে তারাপীঠ সেবাইত সমিতি, তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ এবং প্রশাসনকে নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত মতো, তারাপীঠে আজ সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত তিনদিন মূল সেবাইতদের সাহায্যকারী পান্ডাদের মন্দিরে পুজোর যাবতীয় ক্রিয়াকর্ম থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। এবং আজ থেকে তা সেই নিয়ম বলবৎও হয়েছে। পাশাপাশি তারাপীঠ মন্দিরে নিয়ম মেনে পুজো, ভোগ নিবেদন থেকে সন্ধ্যা আরতি, মায়ের মূল মন্দিরের গেট খোলা এবং বন্ধ করা এবং ভোর বেলায় মায়ের স্নানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় বেধে দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকে সেই নিয়ম মেনে চলার জন্য মন্দির কমিটিকে নির্দেশও দিয়েছে প্রশাসন।

প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ করে তারাপীঠে মন্দির কমিটির সেবাইতদের প্রতি প্রশাসনের এত নজরদারি কেন?

এসব প্রশ্নে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের সহকারি সভাপতি সুকুমার মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের পক্ষ থেকে তারাপীঠে এখন নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ কর্ম চলছে। এ সমস্ত কিছুই তারাপীঠ ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্যই করা হচ্ছে।’’ তাঁর দাবি, তারাপীঠে এসে দর্শনার্থী-পর্যটকরা যেন শৃঙ্খলা মেনে সুনির্দিষ্ট সময়ে পুজা দিয়ে মা তারার দর্শন পেতে পারেন সেই জন্য কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

তারাপীঠ মন্দিরে প্রায় ৩০০-র বেশি মূল সেবাইত আছে। তাদের অধীনে দু’ একজন করে সাহায্যকারী হিসাবে ছড়িদারের কাজ করে। মূলত দর্শনার্থীদের জন্য পুজোর ডালা আনা, হোম যজ্ঞের কাজে সাহায্য করা এই সমস্ত কাজ তাঁরা করে থাকেন। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক ধ্রুব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওই সমস্ত ছড়িদারদের হালকা গোলাপি জামা চিহ্নিত পোশাক করা আছে। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে একজন ছড়িদারের অধীনেও আরও অনেক কাজ করছে। এর ফলে ছড়িদারের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। আবার অনেকে ছড়িদার সেজে পুজোর ব্যবস্থাপনা করছে। তাঁদের কোনও পরিচয় পত্র না থাকার জন্য দর্শনার্থীদের সঙ্গে কোনও ঝামেলা বাধলে তাদেরকে চিহ্নিত করা মুশকিল হয়ে পড়ছে। এর জন্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ছড়িদার বা মূল সেবাইত-সাহায্যকারীদের পান্ডাদের সচিত্র পরিচয় পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

কিন্তু কী দেখে এই নতুন পরিচয় পত্র দেওয়া হচ্ছে, সে প্রশ্নে তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ছড়িদার বা মূল সেবাইতদের সাহায্যকারী পান্ডাদের কাছ থেকে তাদের রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড, যে মূল সেবাইতের কাছে কাজ করেন তাঁর স্বাক্ষর করা আবেদন পত্র মন্দির কমিটির কাছে সোমবার থেকে বুধবারের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র পরীক্ষা করে সচিত্র পরিচয় পত্র দেওয়া হবে।’’

মন্দির সূত্রে খবর, ছড়িদারদের চিহ্নিত করার জন্য সোমবার থেকে বুধবার তাঁদের মন্দিরের যাবতীয় ক্রিয়াকর্ম থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। এবং যারা যারা পরিচয় পত্র পাবেন তাঁদেরকে বৃহস্পতিবার থেকে মূল সেবাইতের সহযোগী হিসাবে মন্দিরে কাজ করতে দেওয়া হবে।

শিলান্যাস। ময়ূরেশ্বর থানার ঘোষগ্রামে মা লক্ষ্মী মন্দিরের নতুন করে সংস্কারের কাজের শিলান্যাস হল সোমবার। শিলান্যাস করেন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাঁসন কেন্দ্রের বিধায়ক অসিত মাল প্রমুখ।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy