রক্ত পরীক্ষা না করেই ধরা পড়বে রক্তল্পতা? যাঁর শরীরে পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে, রক্তও কম, তাঁর থেকে আর বাড়তি রক্ত টেনে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং রক্ত পরীক্ষা হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতেই। আর তাতেই ধরা পড়বে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া হয়েছে কি না। গুজরাতের এক আধিবাসী অধ্যুষিত প্রত্যন্ত এলাকায় ‘ডিজিটাল ব্লাড টেস্ট’ শুরু করেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন (এনআইএন)।
সারা দেশে মহিলাদের মধ্যে উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে রক্তাল্পতার সমস্যা। পুরুষেরাও কমবেশি এই রোগের শিকার হন। চিকিৎসকেরা বলেন, আয়রনের ঘাটতি রক্তাল্পতার অন্যতম বড় কারণ। তবে কেবল আয়রনের ঘাটতির জন্যই যে রক্তাল্পতা হচ্ছে, তা কিন্তু নয়, নেপথ্যে রয়েছে আরও কিছু কারণ। দীর্ঘ সময় ধরে সমীক্ষা চালিয়ে এমনটাই দাবি করেছে আইসিএমআর। গ্রামাঞ্চলে বা প্রত্যন্ত এলাকায় মহিলা ও শিশুদের একটা বড় অংশ অপুষ্টির শিকার। তাঁদের শরীরে যেমন আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তেমনই ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতিও বেশি। সেটিও রক্তাল্পতার বড় কারণ। গ্রামে গ্রামে ঘুরে রক্ত সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করার পদ্ধতি সহজ নয়। এতে অনেকটাই সময় চলে যায়। তা ছাড়া এত পরিমাণ রক্ত সংগ্রহ করে তার রিপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়াও জটিল। সে কারণে ‘ডিজিটাল ব্লাড টেস্ট’ করার পরিকল্পনা করেছে আইসিএমআর। এতে কম সময়ে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষকে পরীক্ষা করা সম্ভব এবং খুব দ্রুত রিপোর্ট দেওয়াও সম্ভব।
আরও পড়ুন:
কী এই ডিজিটাল ব্লাড টেস্ট?
গুজরাতের ভারুচ জেলার কয়েকটি আদিবাসী গ্রামে প্রথম প্রকল্পটি শুরু হয়েছে। এআই অ্যাপের মাধ্যমে রক্ত পরীক্ষা করছেন গবেষকেরা। প্রথমে স্মার্টফোনের ক্যামেরায় জিভ, চোখের নীচের পাতা ও নখের ছবি তোলা হচ্ছে। তার পরে ফোনের লেন্সের উপরে আঙুলের ডগা চেপে ধরে রেকর্ড করা হচ্ছে প্রায় ৩০ সেকেন্ডের মতো। এতে কাজ হচ্ছে দু’টি— প্রথমত, চোখ, জিভ ও নখের রং দেখে তা এআই অ্যালগরিদমে ফেলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে রক্তের প্রবাহ কতটা কমেছে, কতটা ফ্যাকাশে রং ধরেছে জিভ, চোখ ও নখে। সেই রিপোর্ট দেখে বোঝা যাচ্ছে, রক্তে হিমোগ্লোবিন ঠিক কী পরিমাণে কমেছে। দ্বিতীয়ত, আঙুলের কম্পন রেকর্ড করে এআই অ্যালগোরিদম বোঝার চেষ্টা করছে যে, রক্তের প্রবাহ ও গতি ঠিক কেমন। এটি দেখেও বলে দেওয়া সম্ভব, রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি হচ্ছে কি না।
আইসিএমআর জানিয়েছে, এটি এআই স্ক্রিনিং টেস্ট যা একই সঙ্গে ছবি বিশ্লেষণ করবে এবং কম্পন দেখে রক্তের প্রবাহ ও গতিপ্রকৃতিও মাপবে। প্রাথমিক ভাবে দেখা গিয়েছে, পরীক্ষাটি ঠিক মতো হলে তা প্রায় ৮০ শতাংশ নির্ভুল ডেটা দিচ্ছে। এই পরীক্ষা পদ্ধতি সর্বস্তরে সফল হলে রক্তাল্পতা নির্মূল করতে বড় পদক্ষেপ নেওয়া যাবে বলে দাবি। গ্রাম শুধু নয় শহরেও কোনও কোনও এলাকায় মানুষজন রক্তাল্পতায় বেশি ভুগছেন, তা দেখে সেই মতো পদক্ষেপ করা হবে।