Advertisement
E-Paper

টুকলি হাতে নেই ‘স্পাইডারম্যান’

পরীক্ষার কেন্দ্রের ১৫০ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে নাছোড় দিদি! কিন্তু তাঁর অনুরোধ, উপরোধ— কোনও ঢেঁকিই গিললেন না তরুণ সিভিক পুলিশ!

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:০১
কোনও পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে মিলল কাগজ। -নলহাটিতে নিজস্ব চিত্র।

কোনও পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে মিলল কাগজ। -নলহাটিতে নিজস্ব চিত্র।

পরীক্ষার কেন্দ্রের ১৫০ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে নাছোড় দিদি!

কিন্তু তাঁর অনুরোধ, উপরোধ— কোনও ঢেঁকিই গিললেন না তরুণ সিভিক পুলিশ!

ওদিকে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতর থেকে দিদির হাতে চুটকার দিকে চোখ নবম শ্রেণির বোনের। ‘চুটকা’ মানে, ইতিহাস বইয়ের পাতা ছিঁড়ে ভাঁজে ভাঁজে খিলাফৎ আন্দোলনের ফলাফল!

এমন ছবি নলহাটি থানার ভগলদিঘি হাই স্কুলের। শেষ অব্দি খিলাফৎ আন্দোলনের ফলাফল পৌঁছল না বোনের হাতে। পরীক্ষা যখন শেষ হতে ৪০ মিনিট বাকি, দলবল নিয়ে মাঠে ঢুকলেন খোদ নলহাটি থানার অফিসার ইনচার্জ। মাঠ ততক্ষণে ফাঁকা!

রামপুরহাট মহকুমায় অবশ্য টুকলির দৃশ্য নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্রে টুকলির যোগান খবর শিরোনামে এসেছে। তবে, গত কয়েক বছরে স্কুলের পাঁচিল বেয়ে উঠে বা জানালায় জানালায় দাঁড়িয়ে টুকলি জোগান দেওয়া যেন বেড়েই চলছিল। এ বার ঠিক ততটা নয়। নেই দেওয়াল বেয়ে তরতরিয়ে উঠে টুকলির যোগানদার স্পাইডারম্যানরাও।

এক পুলিশ কর্মীর দাবি, ‘‘ঠিক যেন স্পাইডারম্যান। একটু অন্যমনস্ক হলেই, কী দ্রুত যে উঠে পড়ে ওরা ভাবাই যায় না। তবে এ বার অনেকটাই রুখে দেওয়া গিয়েছে।’’

রামপুরহাট মহকুমায় এ বছর ১৭ হাজার ৪৫৩ জন পরীক্ষাত্রীর জন্য ৩৮টি কেন্দ্র রয়েছে। এ বছর নলহাটি থানার ভদ্রপুর মহারাজা নন্দ কুমার হাইস্কুল, রামপুরহাট শরদিন্দু মেমোরিয়াল স্কুল— এই দুটি স্কুলকে মাধ্যমিক সেন্টার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ওই দুটি সেন্টারের মধ্যে ভদ্রপুর মহারাজা নন্দকুমার হাইস্কুলের পাঁচিল লাগোয়া বাড়ি থেকে, কখনও স্কুল সংলগ্ন বাঁশ বন থেকে কঞ্চি কেটে তার ডগায় টুকলি জোগান দেওয়া হতো। বেশ কয়েকবছর থেকে ওই কেন্দ্রে টুকলি নিয়ে নানান বিশৃঙ্খলার সম্মুখীন হতে হয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে। সেই জন্য এ বছর ওই কেন্দ্রটিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার শরদিন্দু মেমোরিয়াল বিদ্যায়তন স্কুল থেকে গত বছর মাধ্যমিকের একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বাইরে অভিভাবকদের হাতে চলে এসেছিল। সেই জন্য ওই কেন্দ্রটিকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে জেলার মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে টুকলি জোগানে যে দুটি কেন্দ্রের নাম শিরোনামে চলে আসে তাদের মধ্যে রয়েছে নলহাটি থানার লোহাপুর মহাবীর রাম হাইস্কুল এবং লোহাপুর চারুবালা হাইস্কুল। ওই দুটি স্কুলে এ বছর পঞ্চাশ জনের বেশি সিভিক এবং ১৫ জনের বেশি পুলিশ কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।

এ বছর, এখনও পর্যন্ত ওই স্কুল দুটি ঘুরে দেখা গিয়েছে পরীক্ষা চলছে সুষ্ঠভাবেই। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরাও তেমনই দাবি করছেন।

শিক্ষা দফতরের রামপুরহাট মহকুমা সহকারি পরিদর্শক (মাধ্যমিক) আবুল হোসেন বলেন, ‘‘এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তার কারণ, কেন্দ্রগুলিতে যথেষ্ট ভাবে পুলিশ ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে সিভিক পুলিশ প্রতিটি কেন্দ্রে ভালো ভাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও পর্ষদের সদস্য, শিক্ষা দফতরের কর্মীরা, গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা ভালোভাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন যার জন্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো গিয়েছে।’’

রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক কমল বৈরাগ্য বলেন, ‘‘প্রতিটি কেন্দ্রে সিভিক পুলিশ, ভিলেজ পুলিশ, পুলিশ কর্মীরা-সহ স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা দফতরের কর্মীরা সজাগ থাকার জন্য তোমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। আশা করব আগামী দিনগুলিতেও ঘটবে না।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy