Advertisement
E-Paper

দিল্লিকে লজ্জায় ফেললেন হেজ়লউড, ভুবনেশ্বর, ৭৫ রানে শেষ অক্ষরেরা, কোটলায় ৮১ বল বাকি থাকতে ৯ উইকেটে জয় বেঙ্গালুরুর

প্রথমে ব্যাট করে দিল্লির ইনিংস শেষ হয় ৭৫ রানে। জবাবে ৯ উইকেট হারিয়েই জয়ের রান তুলে নেয় বেঙ্গালুরু। ভুবনেশ্বর ৫ রানে ৩টি এবং হেজ়লউড ১২ রানে ৪টি উইকেট নিয়েছেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০০
cricket

বেঙ্গালুরুর ক্রিকেটারদের উল্লাস। ছবি: পিটিআই।

ম্যাচ, না কি ম্যাচের পুনঃসম্প্রচার? সোমবার ফিরোজ শা কোটলায় দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যাটিং দেখে এই ভাবনা আসতে বাধ্য। ৮ রানে ৬ উইকেটের পতন— অতীতে আইপিএলে কবে দেখা গিয়েছে তা নিয়ে ভাবতে হতে পারে। তেমনই হল ভুবনেশ্বর কুমার এবং জশ হেজ়লউডের সৌজন্যে। বেঙ্গালুরুর বোলারদের দাপটে ঘরের মাঠে বেনজির ব্যাটিং বিপর্যয়ের সামনে পড়ল দিল্লি।

আইপিএলের ইতিহাসে সর্বনিম্ন রান তোলার লজ্জা থেকে বাঁচল তারা। সৌজন্যে বাঙালি অভিষেক পোড়েলের ধৈর্যশীল ইনিংস। প্রথমে ব্যাট করে দিল্লির ইনিংস শেষ হয় ৭৫ রানে। জবাবে ১ উইকেট হারিয়েই জয়ের রান তুলে নেয় বেঙ্গালুরু। ভুবনেশ্বর ৫ রানে ৩টি এবং হেজ়লউড ১২ রানে ৪টি উইকেট নিয়েছেন।

দুই পেসারের সৌজন্যে বেঙ্গালুরুকে মাত্র ৭৬ রান তুলতে হত। সেই কাজ সহজেই কাজ দিলেন ব্যাটারেরা। ঘরের মাঠে খেলতে নেমেছিলেন বিরাট কোহলি। তিনি দিল্লিরই ছেলে। দিনের শেষে হাসিমুখেই মাঠ ছাড়লেন। জিততে বেঙ্গালুরুকে বিন্দুমাত্র পরিশ্রম করতে হয়নি। প্রথমে জেকব বেথেল (২০), পরে দেবদত্ত পডিক্কল (অপরাজিত ৩৪) মিলে বেঙ্গালুরুকে অনায়াসে জিতিয়ে দিলেন। কোহলিকে (অপরাজিত ২৩) সে ভাবে খেলতেই হল না। তবে সপ্তম ওভারে জোড়া ছক্কা মেরে দলকে জেতালেন তিনিই। আইপিএলে প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে ৯ হাজার পূরণও করলেন তিনি। চাপের মুখে নিয়ন্ত্রণহীন বল করলেন কাইল জেমিসন। পঞ্চম ওভারে তাঁর ওভারে দু’টি চার এবং দু’টি ছয়-সহ ২১ রান ওঠে। ওখানেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়।

তার আগে, দিল্লির ইনিংসের শুরুতে ভুবনেশ্বর এবং হেজ়লউড যে বোলিংটা করেন তা দীর্ঘ দিন মনে থেকে যেতে বাধ্য। দু’জনের বোলিংয়ের মধ্যে একটি ব্যাপারে সাদৃশ্য রয়েছে। বোলিংয়ে বিশেষ বৈচিত্র আনেন না। শুধু নির্দিষ্ট লাইন এবং লেংথে বল করে যান। সেই অস্ত্রই কাজে লাগল এ দিন। সঙ্গে ছিল ভুবনেশ্বরের সুইং। তাতেই বাজিমাত বেঙ্গালুরুর।

দ্বিতীয় বলেই প্রথম উইকেট পড়ে দিল্লির। ১৮ বছরের সাহিল পারখ এ দিন প্রথম দিল্লির হয়ে খেলতে নেমেছিলেন। প্রথম বলেই অল্পের জন্য আউট হওয়া থেকে বেঁচে যান। দ্বিতীয় বলে ভুবনেশ্বর যে ইয়র্কারটি দেন সেটি সাহিল (০) কেন, যে কোনও ব্যাটারই আউট হবেন। সাহিলের সামনে কোনও জবাব ছিল না সেই বলের।

দ্বিতীয় ওভারের প্রথম দু’বলে দু’টি উইকেট তুলে নেন হেজ়লউড। প্রথম বলটি ছিল বাউন্সার। আগের ম্যাচে নজির গড়ে শতরান করে কেএল রাহুল (১) কোনও মতে ব্যাটটি চালান। কানায় লেগে উঠে যাওয়া বল তালুবন্দি করেন জিতেশ শর্মা। পরের বলেই সমীর রিজ়ভি (০) খোঁচা দেন জিতেশের হাতে। দিল্লির স্কোর তখন দেখাচ্ছিল ২ রানে ৩ উইকেট।

তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ভুবনেশ্বর ফেরান ট্রিস্টান স্টাবসকে। নিরীহ বল ছেড়ে দেওয়ার বদলে চালাতে যান স্টাবস (৫)। খোঁচা লেগে তা জমা পড়ে পডিক্কলের হাতে। সেই ওভারেই তৃতীয় উইকেট নেন ভুবনেশ্বর। তৃতীয় বলে অক্ষর পটেলের ব্যাটে বল লেগেছে কি না তা জানতে ডিআরএস নিয়েছিল বেঙ্গালুরু, যাতে প্রত্যক্ষ মদত ছিল জিতেশেরই। পরের বলেই অক্ষর (০) জিতেশের হাতে ক্যাচ তুলে দেন।

বেগতিক দেখে ম্যাচের তৃতীয় ওভারেই ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নামিয়ে দেয় দিল্লি। সাহিলকে তুলে নিয়ে নামানো হয় অভিষেককে, যিনি চলতি মরসুমে প্রথম বার সুযোগ পেলেন। দিল্লির খারাপ দশা অবশ্য তাতেও কাটেনি। হেজ়লউডের দ্বিতীয় ওভারে নীতীশ রানাও (১) ফিরে যান। দিল্লির স্কোর তখন ৮ রানে ৬ উইকেট।

আইপিএলে সর্বকালীন লজ্জার সামনে ছিল দল। দিল্লিকে বাঁচানোর দায়িত্ব নেন ডেভিড মিলার এবং অভিষেক। কোনও মতে ভুবনেশ্বর এবং হেজ়লউডের বাকি ওভারগুলি কাটানোই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। সপ্তম ওভারে রসিখ সালামকে মারা দু’টি চার কিছুটা চাপ কাটায়। তবে নায়ক হওয়ার সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি মিলার। রাসিখেরই দ্বিতীয় ওভারে তিনি আউট হন। পুল করতে গিয়ে মিলারের (১৯) ব্যাটের কানায় লেগে বল আকাশে উঠে যায়। সহজ ক্যাচ ধরেন জিতেশ।

অষ্টম ওভারের পর কিছু ক্ষণ খেলা বন্ধ রাখতে হয়। মাঠে হঠাৎ করে শুরু হয় ধুলোর ঝড়। বিভিন্ন জিনিস উড়ে এসে পড়তে থাকে মাঠে। বেঙ্গালুরুর রজত পাটীদার কথা বলতে থাকেন আম্পায়ারদের সঙ্গে। বেঙ্গালুরু দল মাঠ না ছাড়লেও অপেক্ষা করতে থাকে পরিস্থিতি ঠিক হওয়ার। বেশি ক্ষণ খেলা থেমে থাকেনি। ১০ মিনিট পর খেলা শুরু হয়।

রোমারিয়ো শেফার্ডকে ১১তম ওভারে চার-ছয় মেরে বিপক্ষের উপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন কাইল জেমিসন। তবে তিনিও বেশি ক্ষণ ক্রিজ়ে টিকতে পারেননি। ১৩তম ওভারেই ক্রুণাল পাণ্ড্যের বলে ফিরতে হয় জেমিসনকে (১২)। হেজ়লউড ১৭তম ওভারে তুলে নেন অভিষেককে (৩০)।

সংক্ষেপে
  • ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হয়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
  • এখনও পর্যন্ত আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে তারা। তবে প্লে-অফের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
  • আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ বার করে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্স জিতেছে তিন বার। গত বছর প্রথম বার ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু।
Delhi Capitals Bhuvneshwar Kumar Josh Hazelwood RCB
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy