Advertisement
E-Paper

খেলার মাঠ পাচ্ছে সাগুন, মঙ্গলরা

স্কুলের পাশেই খেলার মাঠ। এবড়ো খেবড়ো সেই মাঠ ভরে ছিল বালিতে। ছোট বড় গর্তে জল জমে থাকত। খেলতে গিয়ে পদে পদে হোঁচট খেতে হতো। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক পড়ুয়াই খেলতে নামত না মাঠে। খেলাধুলোর অনুপোযুক্ত গড় রাইপুর হাইস্কুলের খেলার মাঠ নিয়ে ক্ষোভ ছিল পড়ুয়া থেকে শিক্ষক সকলেরই। খেলার অযোগ্য সেই মাঠ এ বার সংস্কারের কাজ শুরু করেছে রাইপুর পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লক প্রশাসন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০১৫ ০০:০৩
জোরকদমে চলছে মাঠ তৈরির কাজ। ছবি: উমাকান্ত ধর।

জোরকদমে চলছে মাঠ তৈরির কাজ। ছবি: উমাকান্ত ধর।

স্কুলের পাশেই খেলার মাঠ। এবড়ো খেবড়ো সেই মাঠ ভরে ছিল বালিতে। ছোট বড় গর্তে জল জমে থাকত। খেলতে গিয়ে পদে পদে হোঁচট খেতে হতো। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক পড়ুয়াই খেলতে নামত না মাঠে। খেলাধুলোর অনুপোযুক্ত গড় রাইপুর হাইস্কুলের খেলার মাঠ নিয়ে ক্ষোভ ছিল পড়ুয়া থেকে শিক্ষক সকলেরই। খেলার অযোগ্য সেই মাঠ এ বার সংস্কারের কাজ শুরু করেছে রাইপুর পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লক প্রশাসন। মাঠ থেকে বালি সরিয়ে নতুন করে মাটি ফেলে ভরাট করে সমতলীকরণের কাজ চলছে। মাঠ সংস্কারের দীর্ঘদিনের দাবি এতদিনে প্রশাসন পূরণ করায় খুশি স্কুলের পড়ুয়া থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক সকলেই।

জঙ্গলমহলের প্রাচীন স্কুলগুলির মধ্যে অন্যতম গড় রাইপুর হাইস্কুল। পড়াশোনার পাশাপাশি এই স্কুলের খ্যাতি রয়েছে জেলার খেলাধূলার জগতেও। ২০০৮ সালে উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যের মধ্যে প্রথম হয়েছিলেন এই স্কুলের মেধাবী ছাত্র কুমুদ বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘জঙ্গলমহলের গর্ব’ এই স্কুলে খেলার মাঠ থাকলেও তা খেলাধুলোর উপযুক্ত ছিল না। হাইস্কুল ও ব্লক অফিস সংলগ্ন প্রায় ২০ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে এই খেলার মাঠ। এমনিতে খানাখন্দে ভরা এই মাঠে খেলাধুলোর অসুবিধা ছিল, তার উপরে বৃষ্টিতে জল জমে আর খেলার উপযোগী থাকত না। কিছুদিন আগে এই মাঠেই খেলতে গিয়ে ব্লক অফিসের এক কর্মী পড়ে গিয়ে হাত ভাঙেন।

স্কুলের এক শিক্ষক জানান, খেলার মাঠ পিছিল হয়ে পড়েছিল। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা খেলতে গিয়ে প্রায়দিনই আছাড় খেত। অনেকে খেলাধুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। তাই স্কুলের পড়ুয়া এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে মাঠ সংস্কারের দাবি জানাচ্ছিলেন। মাস তিনেক আগে স্কুলের তরফে ব্লক প্রশাসনের কাছে ওই মাঠ সংস্কারের দাবিও জানানো হয়। এরপরেই পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লক প্রশাসন অর্থ বরাদ্দ করে মাঠ সংস্কারের কাজে নামে।

রাইপুরের বিডিও দীপঙ্কর দাস বলেন, “এত নামী স্কুল। অথচ খেলার মাঠ ভাল ছিল না। তাই ওই মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে। এ জন্য পঞ্চায়েত সমিতির তরফে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। গত মার্চ মাস থেকেই ওই মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই ওই কাজ শেষ হয়ে যাবে।” রাইপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তৃণমূল নেতা শান্তিনাথ মণ্ডল বলেন, “ওই মাঠে স্কুলের ছাত্রছাত্রী ছাড়াও এলাকার বহু ছেলেমেয়ে খেলাধুলো করে। সবার স্বার্থেই ওই মাঠ সংস্কারের কাজ করছি আমরা।”

খেলার মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় খুশি স্কুলের পড়ুয়ারাও। খেলাধুলোর সঙ্গে জড়িত স্কুলের ছাত্র সাগুন কিস্কু, মঙ্গল হেমব্রমের উচ্ছ্বাস, “খেলতে গিয়ে কতবার মাঠে পড়ে গিয়েছি। মাঠ সংস্কার হচ্ছে দেখে আমাদের ভীষণ আনন্দ হচ্ছে। এরপর মনের আনন্দে প্রাণ খুলে নির্ভয়ে খেলতে পারব।” স্কুলের টিচার-ইনচার্জ যামিনীমোহন দুলেও বলেন, “কয়েকবছর আগে আন্তঃজেলা স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতায় বাঁকুড়া জেলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আমাদের স্কুল। কিন্তু মাঠের এই অবস্থায় অনেকে নামতে ভয় পাচ্ছিল। পঞ্চায়েত সমিতি এবং বিডিও মাঠ সংস্কারে উদ্যোগী হওয়ায় আমরা সকলেই খুশি। নতুন মাঠে ছেলেমেয়েরা নতুন উদ্যোমে খেলাধুলো করে স্কুলের মান বাড়াবে বলে আমি আশাবাদী।”

raipur high school raipur school ground raipur panchayet raipur play ground bankura raipur high school
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy