E-Paper

দ্বারকায় জঞ্জালে, লজে বাড়তি ভাড়ায় নিষেধ

দ্বারকা নদে জঞ্জাল নোংরা আবর্জনা ফেলা নিয়ে এ ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও অভিযোগ জানান পর্ষদের চেয়ারম্যান।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ অগস্ট ২০২৩ ০৭:০৬
তারাপীঠ দ্বারকা নদ।

তারাপীঠ দ্বারকা নদ। —ফাইল চিত্র।

দ্বারকা নদের জঞ্জাল না ফেলা ও কৌশিকী অমাবস্যায় হোটেল-লজের বাড়তি ভাড়া না নিতে হোটেল মালিকদের সতর্ক করল প্রশাসন। শনিবার রামপুরহাট মহকুমা প্রশাসনিক ভবনে কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে বৈঠকে জেলাশাসক বিধান রায় এই বার্তা দেন।

জেলাশাসক জানান, কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী দ্বারকা নদের জলে স্নান করে পুজো দেন। সেই জলের নোংরা আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য সেচ দফতর বলা হয়েছে। দ্বারকায় জমে থাকা পলি সাফ করার জন্যও বলা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে জেলাশাসক বলেন, ‘‘তারাপীঠে ব্যবসা করছেন করুন। কিন্তু দ্বারকা নদের উপর আপনারা লজের, হোটেলের, দোকানের আবর্জনা ফেলে দূষিত করবেন, আর প্রশাসনকে তা সাফ করতে হবে এটা চলতে পারে না। আগামী দিনে এ ব্যাপারে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ করবে।’’

জঞ্জাল নিয়ে জেলাশাসকের নির্দেশের বিষয়ে তারাপীঠ লজ মালিক সমিতির সভাপতি সুনীল গিরির অনুপস্থিতিতে সংগঠনের সদস্য সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তারাপীঠে প্রতিটি লজ মালিকরা তাদের লজের ময়লা আবর্জনা লজের সামনে ডাস্টবিনে জমা করে রাখেন। ডাস্টবিন থেকে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের লোকজন আবর্জনা নিয়ে যান। এ জন্য তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ থেকে লজ মালিকদের কাছ থেকে মাসিক টাকা নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, ‘‘পর্ষদ জঞ্জাল ফেলার নির্দিষ্ট কোনও জায়গা করতে পারেনি। সেই জঞ্জাল রাস্তার ধারে, চিলা কাঁদরের মাঠে ফেলা হয়। পরে তা নদীতে গিয়ে পড়ে।’’

লজ মালিক সমিতির এই যুক্তি মানতে চাননি পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায়। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘চিলার কাঁদরে ফেলা জঞ্জাল কী ভাবে দ্বারকা নদের ধারে তারাপীঠ শ্মশান লাগোয়া এলাকায় বা দ্বারকা সেতু লাগোয়া বিশ্ববাংলা ঘাটে গিয়ে জমতে পারে?’’ সুকুমারের অভিযোগ, ‘‘দ্বারকা নদের ধারে যে সমস্ত ভাতের হোটেল, লজ আছে সেই সমস্ত লজ ভাতের হোটেলের আবর্জনা হোটেলের জানালা দিয়ে দ্বারকা নদে ফেলা হয়। এছাড়াও রাস্তার ধারে যে সমস্ত অস্থায়ী খাবারের দোকান বসে তাদের জঞ্জাল দ্বারকা নদের ঘাটে ফেলা হয়।’’

দ্বারকা নদে জঞ্জাল নোংরা আবর্জনা ফেলা নিয়ে এ ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও অভিযোগ জানান পর্ষদের চেয়ারম্যান। সেচ দফতরের ময়ূরাক্ষী উত্তর বিভাগের নির্বাহী আধিকারিক বরুণ দাস বলেন, ‘‘সেচ দফতর থেকে দ্বারকা নদের দুই ধারে উপর অংশের দেড় কিলোমিটার জঞ্জাল পরিস্কার করা হবে। এখন দ্বারকা নদে জল থাকায় পলি সরানোর কোনও নির্দেশ ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ দেননি।’’

এ দিনের বৈঠকে পুলিশ-প্রশাসন এবং পর্ষদ থেকে কৌশিকী অমাবস্যায় লজের অস্বাভাবিক ভাড়া নেওয়ার ব্যাপারে লজ মালিকদের সতর্ক করা হয়। তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘যাঁরা একদিনের জন্য লজে থাকবেন তাদের এক দিনের ভাড়া, দু’দিনের জন্য দুদিনের ও তিন দিনের জন্য তিন দিনের ভাড়া ঠিক করতে বলা হয়েছে। এক দিনের জন্য থাকলে কোনও মতেই যেন তিনদিনের ভাড়া যেন না নেওয়া হয়।’’ জেলাশাসকও এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত বলে জানান।

অন্য বছরের মতো এ বারও যাতে কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে উৎসব সুষ্ঠু ভাবে পালন করা হয় সে ব্যাপারে বিদ্যুৎ দফতর, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর, স্বাস্থ্য দফতর, পূর্ত দফতর সেচ দফতর সহ বিভিন্ন দফতরের নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy