E-Paper

প্রচারে প্রতিহিংসা-তত্ত্ব, সরগরম পাথর শিল্পাঞ্চল

শালতোড়া, গঙ্গাজলঘাটি, মেজিয়া ব্লক নিয়ে গঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দা ছোট-বড় কয়েকশো পাথর খাদান ও পাথরকলে বা ক্রাসারে কাজ করতেন।

রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ১০:২৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূল ফিরতেই কেন্দ্রীয় সরকার একের পর এক প্রকল্পে রাজ্যের বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। সে জন্য বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে হামেশাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এটাই গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূলের ভোট প্রচারের হাতিয়ার। শালতোড়ায় অবশ্য এ বার উলটপূরাণ। প্রচারে বেরিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলছেন বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী চন্দনা বাউরি। তৃণমূল নেতৃত্ব তা মানেননি।

শালতোড়া, গঙ্গাজলঘাটি, মেজিয়া ব্লক নিয়ে গঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দা ছোট-বড় কয়েকশো পাথর খাদান ও পাথরকলে বা ক্রাসারে কাজ করতেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে এখানকার বাসিন্দারা বিজেপি প্রার্থী চন্দনা বাউরিকে জেতান। বিজেপির দাবি, তারপরেই অবৈধ দাবি করে শালতোড়ার খাদানগুলি বন্ধ করে দেয় রাজ্য সরকার। বন্ধ হয় কয়েকশো পাথরকল। রুটিরুজির খোঁজে ভিন্ রাজ্যে পাড়ি দেন এলাকাবাসী।

ঠিক পঞ্চায়েত ভোটের আগে নবজোয়ার কর্মসূচিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শালতোড়ায় এসে পাথর খাদান খোলার আশ্বাস দেন। পঞ্চায়েত ভোটে ফের ঘাসফুল ফোটে। লোকসভা ভোটের আগে পাথর খাদান খোলার আশ্বাস দেন বাঁকুড়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ চক্রবর্তী। অরূপের জয়ে বড় ভূমিকা নেয় শালতোড়ায় ঘাসফুলের বিপুল ভোট প্রাপ্তি। তার পরেই চারটেখাদান চালু হয়।

কয়েক মাস আগে শালতোড়ার সভায় অভিষেক জানান, অনেক জটিলতা কাটিয়ে রাজ্য পাথর খাদানগুলিকে বৈধতা দিয়ে চালুর চেষ্টা করছে। তার কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্য সরকার শালতোড়ায় খাস জমিতে নতুন করে ১৭টি পাথরখাদান চালু করতে নিলামের কথা জানায়। তবে পুরোদমে খাদানগুলি চালু হয়নি।

বিধানসভা ভোটের পরেই খাদানগুলিতে কাজ শুরু হবে বলে ঘরে ঘরে প্রচার করছেন তৃণমূল কর্মীরা। তবে কি ভোটের ফলাফলের উপরেই নির্ভর করছে পাথর খাদান চালুর ভবিষ্যৎ— প্রশ্ন ঘুরছে এলাকায়।

শালতোড়ার বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরিও বলছেন, “এলাকাবাসী সব বোঝেন। তৃণমূল বিধানসভা ভোটে হারার জন্য খাদান, পাথরকল বন্ধ করে প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে। বাসিন্দাদের তৃণমূল ভাতে মেরেছে। মানুষ এ বার তৃণমূলকে শিক্ষা দেবে।’’ পাল্টা বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, “শালতোড়ার পাথর খাদানগুলির বৈধ ছিল না। বিজেপিই বিক্ষোভ-আন্দোলন করত। অভিষেক বরং দায়িত্ব নিয়ে বৈধ প্রক্রিয়ায় সেই খাদানগুলি চালু করেছেন। আর কেউ খাদান বন্ধ করতে পারবে না।”

এই কেন্দ্রে বাউরি, শুঁড়ি সম্প্রদায়ের ভোটও ভোট-ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেয়। তাই তৃণমূল সরকার সম্প্রদায়ভিত্তিক নানা সুবিধা দিয়ে কী ভাবে উন্নতি করছে, সে কথা তুলে ধরছেন শাসকদলের কর্মীরা। জল সমস্যা মেটাতে গভীর নলকূপ গড়া হয়েছে বলেও প্রচার করা হচ্ছে। পাল্টা দামোদরের উপরে ঈশ্বরদা ঘাটে সেতু তৈরি না হওয়ার ক্ষোভ উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিরোধীরা।

বিজেপি বিধায়কের ব্যক্তিগত জীবনযাত্রায় আগেই দল বিড়ম্বনায় পড়েছি। এ বার তাঁকে নিয়ে কর্মীদের ক্ষোভের বার বার বর্হিপ্রকাশে দল স্বস্তিতে নেই। বিজেপি প্রার্থী চন্দনার দাবি, “দলের বুথস্তর পর্যন্ত এখন আমাদের পোক্ত সংগঠন। এলাকাবাসীর দাবিদাওয়াকে গুরুত্ব দিয়েই কাজ করেছি। তাই তাঁদের সমর্থন আমি পাবই।” তৃণমূল প্রার্থী উত্তম বাউরির দাবি, “বিজেপিকে মানুষ সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু উন্নয়ন হয়নি। তাই বাসিন্দারা তৃণমূলেই এ বার আস্থা রাখবেন।’’ সিপিএম গত বারের প্রার্থী নন্দদুলাল বাউরিকেই এ বার প্রার্থী করেছে। এলাকায় ঘুরে বাম কর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টাকরছেন তিনি। কে জিতলে এলাকায় পাথর শিল্পের চাকা ঘুরবে, উত্তর খুঁজছে শালতোড়া।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

saltora bankura TMC BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy