অম্বেডকরের জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার সমস্ত সরকারি অফিস থেকে স্কুল কলেজের ছুটি ছিল। এরই মধ্যে ব্যতিক্রম সাঁইথিয়া শশীভূষণ দত্ত বালিকা বিদ্যালয়। মঙ্গলবার স্কুল খোলা রেখে আর পাঁচটা দিনের মতোই ক্লাস নেন শিক্ষিকারা। তবে অন্য দিনের মতো এ দিনের ক্লাসে বাঁধাধরা স্কুলের বই পড়ানো হয়নি। তার পরিবর্তে ছাত্রীদের অম্বেডকর কে ছিলেন, কেন তাঁর জন্মদিনে কেন্দ্রীয় থেকে রাজ্য সমস্ত সরকারি অফিস, স্কুলকলেজ ছু’টি দেওয়া হয়— সে সব জানানো হয়।
তবে এ দিন এই স্কুল খোলা থাকায় শহর জুড়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। ছুটির দিনে কেন স্কুল রাখা হল? এই প্রশ্নের উত্তরে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ঊমা সরকার ( ঘোষ) বলেন, ‘‘প্রতিবারই নিয়ম মেনে ছুটি দেওয়া হয়। কিন্তু অম্বেডকর কে ছিলেন, কেন তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে ছুটি দেওয়া হয়— এ সব সর্ম্পকে ছাত্রীদের বোঝাতেই এ বার আগেই ঠিক হয়েছিল, দিনিটি গতানুগতিক ছুটি হিসাবে পালন না করে অম্বেডকর সর্ম্পকে ছাত্রীদের বোঝানো দরকার। তাই এ দিন স্কুল খোলা রাখা হয়। অন্য দিনের মতোই শিক্ষিকারা ক্লাসে যান এবং দেশের সংবিধান রচয়িতা অম্বেডকরের জীবনী সর্ম্পকে উপস্থিত ছাত্রীদের বিস্তারিত ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন।’’ কী বলছে ছাত্রীরা? দশম শ্রেণির পর্ণা রুজ, চন্দনা ঘোষ, সঞ্চারী সাহানা, খুশবু খাতুনদের কথায়, ‘‘সত্যি বলতে, আমরা এতদিন অম্বেডকর সমন্ধে সেভাবে যানতাম না। এ দিন প্রধান শিক্ষিকা-সহ অন্য শিক্ষিকারা অম্বেডকরের জীবনী সর্ম্পকে বুঝিয়ে বলেন। জানতে পারি, কী কষ্ট ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাঁর বড় হওয়া এবং যে সংবিধানকে ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত, সেই সংবিধান রচয়িতার জন্মদিনে ছুটি কাটালে এত কিছু আমাদের জানাই হত না। হয়ত আরও বড় হয়ে জানতাম। এদিন স্কুলে এসে সত্যিই আমরা খুব খুশি।’’
শিক্ষিকা সাথী সরকার ও শ্রাবনী দত্ত বলেন, ‘‘এ দিনের ছুটিটা আর পাঁচটা ছুটির দিনের মতো না কাটিয়ে কিছুটা সময় স্কুল করার প্রস্তাব দেন বড়দি ( প্রধান শিক্ষিকা)।’’ কেন? তাঁরা বলেন, ‘‘ছুটি থাকলেও আমরা স্কুলে নেতাজি, গাঁন্ধীজি, বিবেকানন্দ-সহ অনেকের জন্মদিন পালন করে থাকি। সে রকমই এ দিন অম্বেডকরের জন্মদিনটি পালন করার কথা বলেন। তবে একটু অন্যরকম ভাবে। উপস্থিত ছাত্রীদের সকলকে একসঙ্গে নিয়ে নয়। যেমন ক্লাস হয় সেরকম ক্লাসে ক্লাসে গিয়ে ছাত্রীদের মাঝে অম্বেডকরের জীবনী তুলে ধরার কথা বলেন। প্রায় সব শিক্ষিকা ও পার্শ্ব শিক্ষিকারা বড়দির প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাই। এ দিন সেই মতো অম্বেডকরের জন্মদিন পালন করা হয়।’’
এ দিন, ২৯ জন শিক্ষিকার মধ্যে ২১ জন এবং ৫ জন পার্শ্বশিক্ষিকার মধ্যে ৪ জন উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রীদের উপস্থিত ছিল খুবই কম। ২০০০ ছাত্রীর মধ্যে মাত্র দেড়শো জনের মতো ছিল। অধিকাংশই উঁচু ক্লাসের। প্রধান শিক্ষিকা বলেন, ‘‘এ বার হঠাৎ করেই এমন উদ্যোগ নেওয়ায় অনেক ভুল ত্রুটি রয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে এ সব ত্রুটি যাতে না হয় সেদিকে আগে থেকেই নজর দেওয়া হবে।’’ অভিভাবকেরাও শিক্ষিকাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।