অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা তথা বোলপুর পুরসভার স্যানিটারি ইনস্পেক্টর সুদীপ্ত ঘোষের নামের বোর্ড খুলে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে পুরসভা জুড়ে। দু-এক দিন আগে ওই বোর্ড সরানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কিন্তু, এর পিছনে কারণ কী, তা জানা যায়নি। শুক্রবার পুরসভায় গিয়ে দেখা গিয়েছে, সুদীপ্তের ঘরও তালাবন্ধ।
এক বছর যাবত অনুব্রত জেলায় না থাকায় জেলা তৃণমূলের অন্দরের অনেক সমীকরণ পাল্টেছে। অনুব্রত না থাকলেও জেলায় পঞ্চায়েতে বিপুল জয় পেয়েছে শাসকদল। অনুব্রত-ঘনিষ্ঠদের ‘গুরুত্বহীন’ করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে দলের অন্দরে। এ বার পঞ্চায়েত নির্বাচনে টিকিট পাননি অনুব্রত-ঘনিষ্ঠ আব্দুল কেরিম খান। সম্প্রতি সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছেন প্রণব কর। দলের দ্বন্দ্বের জেরেই তিনি পদ ছাড়লেন বলে জল্পনা। অথচ খোদ অনুব্রতই তাঁকে গত বছর পুর-নির্বাচনের পরে পুরপ্রধান করেছিলেন। আব্দুল কেরিম বলছেন, “এক বছর হয়ে গেল আমাদের অভিভাবক নেই। আমাদের অনেক কিছু বলার থাকলেও বলার জায়গা পাচ্ছি না।’’
এই আবহে বোলপুরের দাপুটে তৃণমূল নেতা এবং জেলা কোর কমিটির সদস্য সুদীপ্ত ঘোষের নামের বোর্ড সরানো নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে খয়রাশোল ব্লকের পর্যবেক্ষক পদ থেকেও সরানো হয়েছিল সুদীপ্তকে। সম্প্রতি গরু পাচার মামলায় সুদীপ্ত ও তাঁর স্ত্রী তথা পুরপ্রধান পর্ণা ঘোষ সহ চার জনকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তলব করে বলে সূত্রের খবর। ওই চার জনের কেউই হাজিরা দেননি বলে খবর।
সে কারণেই সুদীপ্তের বোর্ড সরল কি না, তা অবশ্য জানা যায়নি। পুরপ্রধান বা অন্য কোন আধিকারিকের নামের বোর্ড সরেনি। সুদীপ্তকে এ দিন বারবার ফোন করা হলেও ফোন বন্ধ ছিল। এ দিন পুরসভাতেও তাঁর দেখা মেলেনি। পুরপ্রধান পর্ণা ঘোষ অবশ্য বলেন, “আমরা কাজে বিশ্বাসী। সাইনবোর্ডে কোনও কিছু যায় আসে না। দেখতে হবে, উনি প্রতিদিন অফিসে আসছেন কি না এবং তাঁর দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করছেন কি না।” বিজেপি বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সন্ন্যাসীচরণ মণ্ডলের কটাক্ষ, “অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ায় তৃণমূল কালিমালিপ্ত হয়েছে। তা থেকে মুক্ত হতে অনুব্রতের অনেক ঘনিষ্ঠকে ছেঁটে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে, যাঁদের ছেঁটে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে, তাঁরাও খুব একটা সাধু নন।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)