গ্রাম পঞ্চায়েতের সব আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এড়াতে পারল না তৃণমূল। দলের প্রস্তাবিত প্রধান পছন্দ না হওয়ায় পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনে অংশই নিলেন না দলের অধিকাংশ পঞ্চায়েত সদস্য। বাঁকুড়ার পাত্রসায়র ব্লকের হামিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।
বিরোধীরা প্রার্থী দিতে না পারায় বাঁকুড়ার পাত্রসায়র ব্লকের হামিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭টি আসনের সব ক’টিতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয় তৃণমূল। মনোনয়ন পর্ব মেটার পর হাতে শংসাপত্র পেতেই জয়ী সদস্যদের মধ্যে প্রধান হওয়া নিয়ে শুরু হয় ঠান্ডা লড়াই। অভিযোগ, দলের পঞ্চায়েত সদস্যদের একটা বড় অংশকে কার্যত অন্ধকারে রেখে দলের ব্লক ও অঞ্চল নেতৃত্ব মিনতি বাগদীকে প্রধান হিসাবে মনোনীত করে ফেলেন। বুধবার বোর্ড গঠনের ঠিক আগে এই প্রস্তাবিত প্রধানের নাম ঘোষণা হতেই বেঁকে বসেন ন’জন পঞ্চায়েত সদস্য-সদস্যা। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে বুধবার বোর্ড গঠনের দিন পঞ্চায়েতমুখো হননি তাঁরা। গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় থেকে কিছুটা দূরে তাঁরা অবস্থান বিক্ষোভ করেন। যার জেরে উপস্থিত আট জন সদস্যের সমর্থন নিয়ে প্রধান ও উপপ্রধান পদের নির্বাচন হয়। বিক্ষুব্ধ পঞ্চায়েত সদস্যা বৈশাখী দত্ত হালদার বলেন, ‘‘কে পঞ্চায়েত প্রধান হবে, তা দল আমাদের আগে জানায়নি। নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই সিদ্ধান্ত আমাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আমরা চেয়েছিলাম, উন্নয়নের স্বার্থে অন্তত আমাদের মধ্যে এক জন শিক্ষিতকে প্রধান করা হোক। দল সে কথায় কোনও গুরুত্ব দেয়নি। তাই, আমরা বোর্ড গঠনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’’
এ দিকে দলের পঞ্চায়েত সদস্যদের বড় অংশের এমন আচরণে বেশ কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে যান তৃণমূলের স্থানীয় অঞ্চল ও ব্লক নেতৃত্ব। যদিও দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক দিব্যেন্দু সেন বলেন, ‘‘দলের সিদ্ধান্ত সকল কর্মীর কাছেই শিরোধার্য। তা সকলকেই মেনে চলতে হবে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওই পঞ্চায়েতের সদস্যদের কেউ কেউ বোর্ড গঠনে অংশ নিতে পারেননি। তার অর্থ এই নয়, তাঁদের সমর্থন নেই। আজ যাঁরা হাজির হতে পারেননি, কাল তাঁরা সকলে মিলে পঞ্চায়েত পরিচালনা করে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’’
এই ঘটনা নিয়ে শাসকদলকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিরোধীরা। সোনামুখী বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামী বলেন, ‘‘মনোনয়নে বাধা, ভোট লুট, গণনায় কারচুপি করেই তৃণমূল ক্ষান্ত হয়নি। নিজেদের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচিত সদস্যদের মতামতকে কোনও গুরুত্ব না দিয়েই বোর্ড গঠন হয়ে গেল। এই ঘটনা রাজ্যের ইতিহাসে নজির।’’