Advertisement
E-Paper

ভালভ দেওয়া মাস্ক মজুত করে ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

করোনা সংক্রমণ যেমন বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে মাস্কের চাহিদাও। লকডাউনের প্রথম দিকে বেশি দাম দিয়েও মাস্ক পাননি অনেক ক্রেতা। তারপরেই মাস্কের চাহিদা মেটাতে ওষুধ দোকানিরা বেশী করে মাস্ক আনতে শুরু করেন।

শুভদীপ পাল ও তন্ময় দত্ত

শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২০ ০৪:০৮
নির্দেশিকায় ধাক্কা খেয়েছে এমন মাস্কের বিক্রি। নিজস্ব চিত্র

নির্দেশিকায় ধাক্কা খেয়েছে এমন মাস্কের বিক্রি। নিজস্ব চিত্র

দিন কয়েক আগেই ভালভ যুক্ত মাস্ক পরা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। সেই বার্তায় বলা হয়েছে ভালভ থাকলে সেই মাস্ক পরলেও করোনা-বাহকের থেকে ছড়াতে পারে সংক্রমণ। এরপরেই ভালভ যুক্ত মাস্ক কেনা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে এই ধরনের মাস্ক যাঁরা বিক্রির জন্য মজুত করেছিলেন, বিপাকে পড়েছেন সেই ব্যবসায়ীরা।

করোনা সংক্রমণ যেমন বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে মাস্কের চাহিদাও। লকডাউনের প্রথম দিকে বেশি দাম দিয়েও মাস্ক পাননি অনেক ক্রেতা। তারপরেই মাস্কের চাহিদা মেটাতে ওষুধ দোকানিরা বেশী করে মাস্ক আনতে শুরু করেন। এমনকি সিউড়ি শহরের ছোট ছোট দোকানগুলিতেও মাস্ক বিক্রি শুরু হয়। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, এতদিন এন ৯৫ মাস্কের চাহিদাই বেশি ছিল। কিন্তু হঠাৎ ভালভ যুক্ত এন ৯৫ মাস্ক নিয়ে সতর্কতা নিয়ে জারি হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বহু মাস্ক বিক্রেতা। এক মাস্ক বিক্রেতার কথায়, ‘‘বর্তমানে মাস্কের চাহিদা ব্যাপক। ভালভ যুক্ত মাস্কের চাহিদা অন্য মাস্কের থেকে বেশি ছিল। তাই সেগুলি বেশি করে আনিয়েছিলাম।’’ কিন্তু ওই নির্দেশিকা জারি হতেই ভালভ যুক্ত মাস্কের চাহিদা কমেছে। ওই মাস্কগুলি ফেলে দেওয়া ছাড়া তাঁদের কাছে আর কোনও রাস্তা নেই। সিউড়ির মাস্ক বিক্রেতা ভৈরব কর্মকার, অমিতাভ ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘‘যেখান থেকে মাস্ক আনিয়েছিলাম তাঁরা তো আর মাস্ক ফেরত নেবেন না। তাই যে কটা মাস্ক রয়েছে সেটা আমাদের লোকসানের খাতায় যাবে।’’

রামপুরহাটেও রাস্তার ধারে নানা দোকানে ভালভ যুক্ত মাস্ক ঝুলতে দেখা ছিল পরিচিত ছবি। মুরারইয়েও যে সমস্ত ব্যবসায়ীরা এন ৯৫ মাস্ক বিক্রির জন্য চড়া দামে কিনেছিলেন তাঁদের মাথায় হাত। মুরারইয়ের এক ওষুধের দোকানের মালিক মইদুল ইসলাম বলেন, ‘‘লকডাউনের প্রথম দিকে এন ৯৫ মাস্কের চাহিদা ছিল। ৪০০ টাকাতেও মাস্ক কিনেছি। চাহিদা থাকায় এক হাজার মাস্ক কিনেছিলাম। এখন মনে হচ্ছে পুরো টাকাটাই লোকসান হয়ে গেল।’’ সিউড়ির ওষুধ ব্যবসায়ীরা অবশ্য জানাচ্ছেন, এখন এন ৯৫ মাস্ক যেটা আসছে সেটা ভালভ ছাড়াই। যা ছিল তা নির্দেশিকা জারি হওয়ার আনেক আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছে।

এই নির্দেশিকার জেরে লাভের আশা করছেন কাপড়ের মাস্ক বিক্রেতারা। মুরারই, নলহাটিতে বহু মানুষ কাপড়ের তৈরি মাস্কই কিনছেন। পাইকরের বাসিন্দা সুজয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমি কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করছি। অনেক গরিব মানুষজন আছেন তাঁরা এত দাম দিয়ে মাস্ক কিনতে পারছিলেন না। কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অনেক সেলাই কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে।’’ সেলাই কর্মী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, ‘‘স্বামীর রোজগার নেই। ঘরে বসে রয়েছে। তবে কিছুদিন যাবত কাপড়ের দোকানিরা মাস্ক তৈরির বরাত দিচ্ছেন। দিনে গড়ে তিনশোটি মাস্ক তৈরি করেছি। এর ফলে আমাদের মতন সেলাই কর্মীদের রোজগার বেড়েছে।’’

coronavirus Health Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy