Advertisement
E-Paper

পথের দাবিতে আগাম ভোট বয়কট বাঁকুড়ার গ্রামে! শুরু রাজনৈতিক তরজা, একে অপরকে দুষছে তৃণমূল ও বিজেপি

আদিবাসী অধ্যুষিত ওই এলাকার বাসিন্দারা এ বার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আগে রাস্তা, পরে ভোট। বস্তুত, ‘আগে রাস্তা, পরে ভোট’— এই স্লোগান তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে গ্রামের সর্বত্র পোস্টার দিয়েছেন সকলে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫২
ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে আন্দোলনে বাঁকুড়ার গোটা গ্রাম।

ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে আন্দোলনে বাঁকুড়ার গোটা গ্রাম। —নিজস্ব ছবি।

ভোট আসে ভোট যায়। কখনও শাসক বদলায়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়িত হয় না। এ বার আর শুকনো প্রতিশ্রুতি নয়, গ্রামের বেহাল রাস্তা আগে পাকা করতেই হবে। এই দাবি তুলে বিধানসভা ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে আন্দোলনে বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের সারেশকানালি গ্রামের মানুষ। ওই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের নাকাইজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের যশোদানন্দনপুর থেকে বাপমারা খাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন সারেশকানালি, ডিহিপাড়া, দলদলি, শালুকডোবা, চাতরা-সহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষেরা। ওই রাস্তার খানাখন্দ ডিঙিয়ে শীত, গ্রীষ্মে কোনও ক্রমে যাতায়াত করা গেলেও বর্ষা এলেই কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গ্রামগুলি। গ্রামগুলিতে পৌঁছোনোর একমাত্র কাঁচা মোরামের রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় হাঁটুসমান বৃষ্টির জল জমে। তখন স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে যায়। অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে অ্যাম্বুল্যান্সও মেলে না। পাওয়া গেলেও চালক তিন গুণ ভাড়া হাঁকেন।

আদিবাসী অধ্যুষিত ওই এলাকার বাসিন্দারা এ বার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আগে রাস্তা, পরে ভোট। বস্তুত, ‘আগে রাস্তা, পরে ভোট’— এই স্লোগান তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে গ্রামের সর্বত্র পোস্টার দিয়েছেন সকলে। সারেশকানালির বাসিন্দা সুমন্ত সোরেন বলেন, ‘‘এলাকার চার থেকে পাঁচটি গ্রামের মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। এলাকার একাধিক হাই স্কুল থেকে পাঁচমুড়া কলেজে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা। বারবার আমরা রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু প্রশাসনের ঘুম ভাঙেনি। এ বার তাই আগে রাস্তা, তার পর ভোট স্লোগান তুলে ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’ সারেশকানালি গ্রামের বধূ সরলা সোরেন বলেন, ‘‘রাস্তার অভাবে আমাদের গ্রামে অ্যাম্বুল্যান্স বা কোনও ভাড়াগাড়ি যাতায়াত করতে চায় না। রাস্তার বেহাল দশার কারণে আত্মীয়-স্বজনেরাও গ্রামে আসে না। শুধু ভোটের সময় নেতারা এসে বলেন, ‘ভোট মিটলেই রাস্তা হবে।’ আজ পর্যন্ত সেই রাস্তা পাকা তো হল না।’’

গ্রামবাসীদের দাবি অন্যায্য নয়। বলছেন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য বদন সোরেন। তাঁর দাবি, অনেক চেষ্টা করেও এই রাস্তা পাকা করাতে পারেননি। তৃণমূল পরিচালিত ওন্দা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অভিরূপ খাঁ দুষছেন বিজেপিকে। তাঁর কথায়, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাকে ভাতে মারতে টাকা আটকে রেখেছে। তা সত্ত্বেও পথশ্রী প্রকল্পে ওই রাস্তা পাকা করার জন্য ইতিমধ্যেই অর্থ বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। দ্রুত ওই রাস্তা পাকা করার কাজ শুরু হবে।’’ পাল্টা ওন্দার বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা বলেন, ‘‘তৃণমূল এবং প্রশাসন বার বারে ওই রাস্তা পাকা করার আশ্বাস দিয়েও তা পালন করেনি। এ বারও সেই একই রকম ভাঁওতা দিচ্ছে ওরা। গ্রামবাসীদের এই আন্দোলনের কারণ ওরাই।’’

BJP TMC road Election Vote Boycott
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy