বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। পরিবারের দাবি, এসআইআর শুনানির নোটিস পেয়ে দুশ্চিন্তায় আরও শরীর খারাপ হয়ে যায় ৬৬ বছরের অঞ্জলি মণ্ডলের। রবিবার ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তার পর শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। অভিযোগ, বৃদ্ধার অসুস্থতার কথা জানানোর পরেও বাড়ি গিয়ে শুনানিতে উদ্যোগী হয়নি নির্বাচন কমিশন।
অঞ্জলির বাড়ি বীরভূমের সিউড়ি পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে। পরিবার সূত্রে খবর, গত ৮ ই জানুয়ারি শুনানিতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে শুনানিকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি। সেই মতো এলাকার বিএলও-কে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কমিশনের নির্দেশমাফিক বয়স্ক এবং অসুস্থ অঞ্জলির বাড়িতে গিয়ে শুনানি হয়নি। তার পর থেকে বৃদ্ধা আরও চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। ফলাফল কী হতে পারে তাই নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন স্বল্পশিক্ষিত মানুষটি। রবিবার বাড়িতেই মারা যান অঞ্জলি। তার পর পরিবার দায়ী করেছে এসআইআরকে।
সোমবার মৃতার বাড়িতে যান সিউড়ির তৃণমূল বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‘এই মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি গিয়ে এ জন্য লড়াই করছেন।’’ যদিও বিজেপি এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের কটাক্ষ, ‘‘এখন বাংলায় কেউ মারা গেলেই কারণ এসআইআর। এ ভাবেই বিধানসভা ভোটে মানুষের সমর্থন টানতে চায় শাসকদল। কিন্তু মানুষ বোঝেন, কোনটা কী এবং এসআইআর কেন জরুরি। বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবারের অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএলও বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্য দিকে, এসআইআর নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যাচার করছেন এবং বিএলও, বিডিও দ্বারা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন, এই অভিযোগ তুলে জেলায় জেলায় আন্দোলনে নেমেছে বিজেপি। সোমবার হাওড়া জেলা সদর বিজেপি মিছিল করে জেলাশাসককে ডেপুটেশন দিতে যায়। কিন্তু হাওড়া পুরসভা ভবনের সামনে ব্যারিকেড করে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। সেখানেই বিক্ষোভ চলে। কোচবিহারের দফতরের দিকে এগিয়ে আসেন আন্দোলনকারীরা। হাওড়া কর্পোরেশনের সামনে পুলিশের করা ব্যারিকেডে আটকে যায় মিছিল। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুল দাহ করে রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। কোচবিহার এবং হুগলিতেও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিজেপি। এসআইআর শুনানির কাজে শাসকদলের ‘দাদাগিরি’ এবং ‘বিশৃঙ্খলা’-র প্রতিবাদে বিজেপি হুগলি সাংগঠনিক জেলার পক্ষ থেকে জেলাশাসকের অফিসে অভিযান হয়েছে। চুঁচুড়া ঘড়ির মোড় থেকে মিছিল করে হুগলি জেলাশাসকের পুরনো দফতরে যান বিজেপির নেতা-কর্মীরা। পরে সদর মহকুমা শাসকের কাছে ডেপুটেশনও জমা দেন তাঁরা।
আরও পড়ুন:
তৃণমূল ও আইপ্যাকের ‘যোগসাজশে’ এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হয়রানি বাড়ছে— এই অভিযোগ তুলে কোচবিহার জেলা শাসকের দফতরে ডেপুটেশন দিতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন বিজেপি নেতৃত্ব। সোমবার বিকেলে কোচবিহার জেলা বিজেপির প্রতিনিধিদল জেলাশাসক অর্থাৎ, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক রাজু মিশ্রের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। প্রায় এক ঘণ্টা সময় জেলাশাসক দফতরে দাঁড়িয়ে থাকার পর ফিরে যান বিজেপি নেতৃত্ব।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে দিল নির্বাচন কমিশন, নাম দেখা যাবে কমিশনেরই ওয়েবসাইটে
-
অন্ধকারে ঢিল ছুড়বে না সুপ্রিম কোর্ট! এসআইআর মামলায় ফর্ম-৬ নিয়ে তৃণমূলের দাবি ওড়ালেন প্রধান বিচারপতি
-
ট্রাইবুনালে কাজই শুরু হয়নি, প্রবেশেও বাধা! নতুন মামলা সুপ্রিম কোর্টে, কী হচ্ছে জানতে চাইবেন প্রধান বিচারপতি কান্ত
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা