Advertisement
E-Paper

ইঞ্জেকশন দিলে শাস্তি পাবেন ওয়ার্ড বয়েরা

এ বার তা থেকে শিক্ষা নিতে চাইছেন রামপুরহাট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় বা ওয়ার্ড গার্লেরা রোগীকে ইঞ্জেকশন দিচ্ছেন—রামপুরহাট হাসপাতালে এ ছবি অহরহ দেখা যায়

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০১:১৯
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

কাঁচা হাতে রোগীকে ইঞ্জেকশন দিতে গিয়ে বিপত্তির নজির রয়েছে বহু। কিছু ক্ষেত্রে আবার রোগীর প্রাণ সংশয়ও হয়েছে। যাঁদের যে কাজ করার নয়, সে কাজ করতে গিয়েই ঘটেছে বিপত্তি। এ বার তা থেকে শিক্ষা নিতে চাইছেন রামপুরহাট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় বা ওয়ার্ড গার্লেরা রোগীকে ইঞ্জেকশন দিচ্ছেন—রামপুরহাট হাসপাতালে এ ছবি অহরহ দেখা যায়। এ বার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বয় বা ওয়ার্ড গার্লদের প্রয়োজনে কাজ থেকে বরখাস্ত করার হুঁশিয়ারি দিলেন কর্তৃপক্ষ।
ওয়ার্ড বয় বা ওয়ার্ড গার্লদের বিরুদ্ধে রোগীকে ইঞ্জেকশন দেওয়ার অভিযোগ বেশ কিছু দিন ধরে পাচ্ছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রামপুরহাট জেলা ও সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের এই কাণ্ডে ক্ষুব্ধ ছিল রোগী কল্যাণ সমিতিও। ওয়ার্ড বয় বা ওয়ার্ড গার্লেরা ভবিষ্যতে যাতে এ কাজ থেকে বিরত থাকেন সে ব্যাপারে মঙ্গলবার রোগী কল্যাণ সমিতির আলোচনা সভায় সতর্ক করে দিয়েছেন রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান, মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। নার্সদেরও সতর্ক করে দেন মন্ত্রী।
আশিসবাবু জানান, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মরত ওয়ার্ড বয় বা ওয়ার্ড গার্লেরা কেন রোগীদের ইঞ্জেকশন দিচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট নার্সিং সুপারের কাছে তার জবাবদিহি চাওয়া হয়। মন্ত্রীর দাবি, নার্সিং সুপার এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেননি। জেলা হাসপাতালের সুপার শর্মিলা মৌলিক জানান, মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাউন্ড দেওয়ার সময় ওয়ার্ড বয় এবং ওয়ার্ড গার্লেরা রোগীদের ইঞ্জেকশন দিচ্ছে বলে অভিযোগ আসে। তার পরেই হাসপাতালের নার্সদের নিয়ে বৈঠক ডেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। পরে রোগী কল্যাণ সমিতির সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়।
রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পরমার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, ওয়ার্ড বয় বা ওয়ার্ড গার্লদের ডিউটি নিয়ে এত দিন কোনও অভিযোগ তাঁর কাছে জমা পড়েনি। এ বার অভিযোগ আসায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাট সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী হিসেবে চুক্তির ভিত্তিতে স্বাস্থ্যভবন থেকে এজেন্সির মাধ্যমে ওয়ার্ড বয় বা ওয়ার্ড গার্ল হিসেবে কয়েকজন কর্মী নেওয়া হয়। ওই কর্মীরা মূলত ওয়ার্ডে নার্সদের আর্জি মতো চিকিৎসকদের কল বুক দেওয়া, রোগীর অক্সিজেন সিলিন্ডার লাগিয়ে দেওয়া, রোগীকে শয্যায় পৌঁছে দেওয়া— এই সমস্ত কাজের জন্য নিযুক্ত। তার বাইরে ইঞ্জেকশন দেওয়ার কাজ করার কথা নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামপুরহাট সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয় জানিয়েছেন, অনেক সময় কর্তব্যরত নার্সদের নির্দেশেই ইঞ্জেকশন দিতে হয়। জেলা হাসপাতালের নার্সিং সুপারিন্টেডেন্ট সুস্মিতা বণিক সে কথা মানতে চাননি।

Health Rampurhat Goverment Hospital
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy