Advertisement
E-Paper

আজ ছট, ফলের বাজারে দাম চড়া

দীপাবলির রেশ এখনও মেলায়নি। এ বার প্রস্তুতি ছটের। টানা উৎসবের মরসুমে বাজার দর তাই আর নামার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। বিশেষ করে ফল ও সব্জি একে অপরকে দামে পাল্লা দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৫ ০১:৫২
ছটের কেনাকাটা। পুুরুলিয়ার চকবাজারে সোমবার।

ছটের কেনাকাটা। পুুরুলিয়ার চকবাজারে সোমবার।

দীপাবলির রেশ এখনও মেলায়নি। এ বার প্রস্তুতি ছটের।

টানা উৎসবের মরসুমে বাজার দর তাই আর নামার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। বিশেষ করে ফল ও সব্জি একে অপরকে দামে পাল্লা দিচ্ছে। ঝাড়খণ্ড লাগোয় পুরুলিয়ায় ছট উৎসব বড় করেই পালিত হয়। মূলত হিন্দিভাষী সম্প্রদায়ের মধ্যে ছট পুজোর প্রচলন থাকলেও হলেও সম্প্রতি এই পুজোয় সামিল হতে দেখা যাচ্ছে বাঙালিদের। সূর্য দেবতার পুজো ছটে দেবতার উদ্দেশে ফল, সব্জির ডালা সাজিয়ে অর্ঘ্য দেওয়ার কারণে রবিবার থেকেই থেকেই চড়া দাম ফলের বাজারে।

জেলার মধ্যে মূলত পুরুলিয়া শহর, নিতুড়িয়া ব্লকের পারবেলিয়া এলাকা, রেলশহর আদ্রা এবং ঝালদায় ছটের ধুমধাম বেশি। ওই এলাকায় বাজার জমে উঠেছে। অন্য দিকে যে জলাশয়গুলিতে আজ, মঙ্গলবার বিকেলে ও বুধবার ভোরে সূর্যের উদ্দেশে অর্ঘ্য দেবেন ভক্তেরা, সেই জলাশয়গুলির ঘাট পরিষ্কার করে আলোয় সাজানোর কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুজোর উদ্যোক্তারা। আদ্রার আড়রা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তুফান রাই বলেন, “এ বছরও আদ্রার স্বর্গদুয়ার সরোবর, আমতালাও, রামসায়রের মতো পুকুরগুলিতে ঘাট সংস্কার করে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করছি।”

Advertisement

একই ভাবে রবিবার থেকেই পারবেলিয়ায় দামোদর নদের ধারের পারবেলিয়া, শালতোড়, আমধাওড়ার মতো কিছু ঘাট সাফাইয়ের কাজ হচ্ছে। তবে, ঝালদা শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁইচি বাঁধের ঘাট পরিষ্কারে পুরসভা উদ্যোগী না হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রাজেন কর্মকার, ভরত কুইরিরা বলেন, ‘‘ওই পুকুরেই শহরের সমস্ত মানুষ ছটের অর্ঘ্য দেন। এলাকার কাউন্সিলরকে পুকুরের ঘাট পরিষ্কার করতে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুজোর আগের দিন পর্যন্ত কোনও কাজই করেনি পুরসভা।’’

শীত শুরুর আগে কার্তিক মাসে সূর্য পুজো ছট হিসাবে পালিত হয়। গোটা দিন উপবাসে থাকার পরে মূলত পুজো দেন বাড়ির মহিলারা। প্রতি বছর মঙ্গলবার সূর্যাস্তের সময় পুকুর বা নদীতে নেমে কোমরজলে দাঁড়িয়ে ডালা সাজিয়ে অর্ঘ্য দেওয়ার প্রথা। সেই ডালা বাড়িতে এনে শুদ্ধ ভাবে রাতভর রেখে পর দিন বুধবার ভোরে সূর্য ওঠার সময়ে ফের ডালা নিয়ে অর্ঘ্য দেওয়া হবে। বিভিন্ন প্রকার ফল ও পুজোর সামগ্রী দিয়ে সাজানো হয় এই ডালা। তাই ফলের চাহিদা তুঙ্গে। আদ্রা বাজারে মঙ্গলবার সকালে আপেল বিক্রি হয়েছে ষাট থেকে একশো টাকা কেজি দরে। বাতাবিলেবু দাম ছিল ৫০ টাকা কেজি। মুসম্বি ৫০-৭০ টাকা কেজি। একটি নারকেলের দাম ২০-৩০ টাকা। কলার কাঁদি বিকিয়েছে দেড়শো থেকে দুশো টাকায়।

পুজোর উপকরণ হিসাবে কাঁচা হলুদ দেওয়া হয়। গাছ সমেত হলুদের দাম ছিল প্রায় ১০০ টাকা। একই ছবি পুরুলিয়া শহরে। কেজি প্রতি পেয়ারার দাম ছুঁয়েছে শ’টাকা। পারবেলিয়ায় আবার আবার কলার কাঁদির দাম ২৫-৩৫০ টাকা অবধিও উঠেছে! এ দিকে একমাসের মধ্যেই দুর্গাপুজোর পরে দীপাবলি এবং শেষে ছট—পুজোর বাজারে বেরিয়ে তাই ফলের চড়া দামে হাত পুড়েছে ক্রেতাদের। তবে ফল বিক্রেতাদের দাবি, এ বছর ছট দেরিতে হওয়াতে বাজারে ফলের আমদানি বেড়েছে। তাই গতবারের থেকে দাম অনেকটাই কম। আদ্রার গৃহবধূ সুনয়না সিংহ, প্রৌঢ় ভোলাপ্রসাদ সিংহ কিংবা পারবেলিয়ার কৃষ্ণ গিরির কথায়, “এক মাসের মধ্যে তিনটে পুজো হওয়ায় খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি।’’ একই বক্তব্য পুরুলিয়া শহরে বধূ আরতি পান্ডে বা বিন্দু সাউদের। বহু পরিবারই ছটের জন্য নতুন জামা কাপড় কেনে। ফলে পুজোর উপাচারের সঙ্গে জুড়েছে কাপড়ের খরচও।

সোমবার আদ্রা বাজারে বেরিয়ে দেখা যায়, স্টেশন থেকে ফলপট্টি পর্যন্ত ফল ও পুজোর উপকরণ কেনার বাজারে ভিড় জমেছে। সন্ধ্যার পরে ভিড়টা বেড়েছে। একই ছবি পুরুলিয়া শহরের ফলের বাজারে। বস্তুত সময়ের সঙ্গে পুরুলিয়ায় ছট পুজোর প্রচলন বাড়ছে। শহরের সাহেব বাঁধের সামনে ও পারবেলিয়ায় দামোদর নদের পাশে সূর্য দেবতার মন্দির দু’টিতে পুজোর দিনে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy