এলাকা দখলের লড়াইয়ে তেতে উঠল রামপুরহাটের মুরারই থানার চাতরা পঞ্চায়েতের নয়নী গাঙ্গেড্ডা গ্রাম। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা মোজেখা বিবির ছেলে গোলাবুর সেখ এবং পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্যা সিনু বিবির স্বামী মতিউর রহমানের মধ্যে এলাকায় ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে বোমা ও গুলি চলে। ঘটনায় গোলাবুর সেখ ও মমিনুর রহমান বোমায় জখম হয়েছেন। মুজিবর রহমান নামে এক তৃণমূল সমর্থক গুলিতে জখম হয়েছেন। তিন জনকেই গভীর রাতে রামপুরহাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখান থেকে তাঁদের গভীর রাতে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়।
চাতরা গ্রামের বাসিন্দা, তৃণমূলের মুরারই ১ ব্লক যুব সভাপতি সুজয় দাস এবং তৃণমূলের মুরারই ১ ব্লক সভাপতি বিনয় ঘোষ দু’জনেই গোষ্ঠী সংঘর্ষের কথা অস্বীকার করেছেন। শাসকদল আড়াল করলেও, এলাকার তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের কথায় গোষ্ঠী কোন্দলের কথাই উঠে আসছে। ঘটনায় গুলিতে জখম মুজিবর রহমানের জ্যেঠতুতো দাদা তথা মুরারই ১ পঞ্চায়েত সমিতির নারী ও শিশু কল্যাণ বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ সিনু বেগমের স্বামী মতিউর রহমান বলেন, ‘‘১৯৯৯ সাল থেকে তৃণমূল করছি। আর ওরা এখন তৃণমূল করলেও আদতে ওরা এখনও কংগ্রেস। ওরা পঞ্চায়েতে জয়ী হয়ে নিজেদের ক্ষমতা জাহির করছে। ১০০ দিন প্রকল্পে গ্রামের মোড়ল পাড়ার একটা রাস্তা সংস্কারে নিজেদের লোকেদের রাস্তা থেকে ২ ফুট ছেড়ে দিয়ে রাস্তা তৈরি করছে। অথচ আমার লোকের বাড়ির ফাঁকা জায়গায় মাটি ফেলে দিয়ে রাস্তা সংস্কার করছে।’’
তাঁর দাবি, প্রতিবাদ করায় পঞ্চায়েত সদস্যা মোজেখা বিবির ছেলে গোলাবুর সেখ তাঁর দলল নিয়ে সন্ধ্যায় সময় মারধর করে আনারুল সেখ নামে তাঁর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে। পরে বোমা-বন্দুক নিয়ে এলাকায় আক্রমণ করে। তখনই মুজিবর সেখের বাঁ পায়ে গুলি লাগে। নিজেদের বোমা ফেটেই গোলাবুর সেখ ও মমিনুর রহমান আহত হয়। গোলাবুর সেখের দাদা লালচাঁদ সেখ বলেন, ‘‘মা মোজেখা বিবি সিপিএমকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিল কংগ্রেসের প্রতীকে। পরে এলাকার অনেকের সঙ্গে মা তৃণমূলে যোগ দিয়েছে। অন্যদিকে মতিউর রহমানের স্ত্রী সিনু বিবি পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হলেও গ্রামে হেরে গিয়েছিল। তার বদলা হিসাবে গ্রামে নিজের ক্ষমতা জাহির করতে চায় মতিউর রহমান।’’
মঙ্গলবারের রাতের ঘটনা সম্পর্কে লালচাঁদ সেখ বলেন, ‘‘রাত নটা নাগাদ ধুলুসেখ নামে আমাদের এক প্রতিবন্ধী ছেলেকে মারধর করে। খবর পেয়ে ভাই ও অন্যান্যরা এলাকায় নিরস্ত্র ভাবে পৌঁছয়। ওরা প্রথমে চারটে বোমা ছোড়ে এবং গুলি করতে থাকে। ওদের গুলিতে ওদের একজন সমর্থক জখম হয় এবং আমার ভাই সহ-দু’জন ওদের ছোড়া বোমাতে জখম হয়।’’