Advertisement
E-Paper

তদন্তে দেরি, ক্ষুব্ধ প্রৌঢ়া

ছেলে খুনের তদন্ত চেয়ে পুলিশের দরজায় দরজায় ঘুরছেন বিধবা প্রৌঢ়া। তদন্তের আর্জি নিয়ে দিন কয়েক আগে দেখা করেছিলেন খোদ পুলিশ সুপারের সঙ্গে। অভিযোগ, পুলিশ সুপারের নির্দেশের পরেও নানা টালবাহানায় এখনও মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেনি পুলিশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:০৯

ছেলে খুনের তদন্ত চেয়ে পুলিশের দরজায় দরজায় ঘুরছেন বিধবা প্রৌঢ়া। তদন্তের আর্জি নিয়ে দিন কয়েক আগে দেখা করেছিলেন খোদ পুলিশ সুপারের সঙ্গে। অভিযোগ, পুলিশ সুপারের নির্দেশের পরেও নানা টালবাহানায় এখনও মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেনি পুলিশ।

বীরভূমের মহম্মদবাজারের ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া গ্রাম বলিহারপুর। স্থানীয় বাসিন্দা প্রৌঢ়া সরমা রায়ের অভিযোগ, গত বছরের ২৪ অক্টোবর অজ্ঞাতপরিচয় জনা কয়েক লোক তাঁর ছেলে সন্দীপকে (২৯) খুন করে। মহম্মদবাজার থানায় সে অভিযোগ জানাতে গেলে নানা অছিলায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। থানার তরফে কেউই অবশ্য সে ঘটনার সত্যতা মানতে চাননি।

পরিস্থিতি দেখে, গত ২৫ জানুয়ারি পুলিশ সুপার মুকেশ কুমারের দারস্থ হন সরমাদেবী। লিখিত ভাবে গোটা ঘটনা জমা দেন পুলিশ সুপারকে। এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশে মহম্মদবাজার থানা অভিযোগ জমা নিলেও তদন্ত শুরু করেনি বলে অভিযোগ। কেন এমনটা মনে হল? সরমাদেবীর যুক্তি, ‘‘তা হলে ফের অভিযোগ করতে বলা হল কেন?’’

Advertisement

প্রতিক্রিয়া জানতে জেলা পুলিশ সুপারকে একাধিকবার ফোন, এসএমএস করা হলেও কোনও উত্তর আসেনি। জেলা পুলিশের এক কর্তা অবশ্য ওই প্রৌঢ়ার অভিযোগ কার্যত মেনে নিয়েছেন। তাঁর ব্যাখ্যা, যে সময়ের ঘটনা (গত বছরের অক্টোবর) তখন থেকে এই পর্যন্ত মোট তিন জন ওসি বদল হয়েছে। পুলিশ সুপারকে অভিযোগ করার পরে ২৭ জানুয়ারি থানায় অভিযোগ জমা হয়। পরদিনই ওসি বদলি হন। তাঁর সাফাই, ‘‘নতুন ওসি দায়িত্ব নেওয়ার পরে ওই কেসটা আর ধরা হয়নি!’’ তা হলে নতুন করে অভিযোগ করতে বলা হচ্ছে কেন, সে প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি। গোটা ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভূমিকা।

পরিবার সূত্রের খবর, সন্দীপ আসানসোলে কোনও সংবাদ সংস্থার হয়ে কাজ করত। দু’ এক মাস অন্তর বাড়ি আসত। সংসার খরচও দিত। গত বছর দুর্গাপুজোয় ২৪ অক্টোবর দুপুরে বাড়ি আসে সন্দীপ। ওই রাতেই গ্রামের এক মাঠ থেকে অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। সিউড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে জানান।

সন্দীপের জেঠতুতো দাদা সুনীল রায়ের কথায়, ‘‘ওই দিন সাড়ে চারটে নাগাদ বাড়ি থেকে বের হয় ও। দশটা নাগাদ ওর দুই বন্ধু এসে খবর দেয়, সন্দীপকে কয়েক জন মিলে মেরে খেলার মাঠের ধারে ফেলে দিয়েছে। ছুটে গিয়ে দেখি ভাই অচৈতন্য হয়ে মাঠের মধ্যে পড়ে।’’ পরিবারের তরফে ক্ষোভ, পোস্টমর্টেম রিপোর্টে আঘাতের চিহ্নের কথা বলা হয়। কিন্তু, কেন, কারা এই অবস্থার জন্যে দায়ী, পুলিশ তদন্ত করে তা জানার চেষ্টা করেনি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy