Advertisement
E-Paper

দূরে থানা, পুলিশ ক্যাম্প চায় মানাচর

বাড়ি ফেরার পথে উধাও হয়ে গিয়েছেন ছেলে। রাস্তায় মিলেছে তাঁর উল্টে পড়ে থাকা মোটরবাইক। কিন্তু রাতে পুলিশের কাছে যেতে পারেননি উদ্বিগ্ন বাবা-মা। কারণ, তাঁদের এলাকা থেকে থানার দূরত্ব প্রায় ষাট কিলোমিটার। বাড়ির কাছাকাছি একটি থানা রয়েছে, কিন্তু তাঁদের এলাকার সেই থানার অধীনে পড়ে না।

বিপ্লব ভট্টাচার্য রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৪:০১

বাড়ি ফেরার পথে উধাও হয়ে গিয়েছেন ছেলে। রাস্তায় মিলেছে তাঁর উল্টে পড়ে থাকা মোটরবাইক। কিন্তু রাতে পুলিশের কাছে যেতে পারেননি উদ্বিগ্ন বাবা-মা। কারণ, তাঁদের এলাকা থেকে থানার দূরত্ব প্রায় ষাট কিলোমিটার। বাড়ির কাছাকাছি একটি থানা রয়েছে, কিন্তু তাঁদের এলাকার সেই থানার অধীনে পড়ে না।

যে কোনও রকম অভিযোগ জানানো বা পুলিশি সহায়তার প্রয়োজনে অনেকটা পথ উজিয়ে সোনামুখী থানায় যেতে হয় কাঁকসার সিলামপুর লাগোয়া লালবাবা মানাচরের বাসিন্দাদের। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের পৌঁছতেও দেরি হয়ে যায় অনেক। ওষুধ ব্যবসায়ীকে অপহরণের ঘটনার পরে এলাকায় একটি পুলিশ ক্যাম্প বসানোর দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পানাগড় রেলপাড়ে দোকান বন্ধ করে মানাচরে বাড়ি ফেরার পথে ওষুধ ব্যবসায়ী ভানুবেন্দ্র গুছাইত অপহৃত হন বলে অভিযোগ। শুক্রবার তাঁকে বিহারের বক্সার থেকে ফিরিয়ে এনেছে সোনামুখী থানার পুলিশ। অপহরণকারীদের চোখে ধুলে দিয়ে পালিয়ে এক ট্রাক চালকের সহায়তায় তিনি বক্সারের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাঁড়িতে পৌঁছেছিলেন বলে পুলিশকে জানান ভানুবেন্দ্র। তিনি অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে আসতে পারায় পরিবার ও প্রতিবেশীরা খুশি। কিন্তু, ভয়ও রয়েছে তাঁদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, এত দূরের এলাকায় সোনামুখী থানার কোনও নজরদারি নেই। দশ কিলোমিটারের মধ্যে কাঁকসা থানা থাকলেও এই এলাকা তাদের অধীনে না হওয়ায় তারা কোনও ব্যবস্থা নেয় না। তাই ওই দুষ্কৃতীরা ফের চড়াও হলে কী হবে, সে নিয়েই আতঙ্কে রয়েছে তাঁরা।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দা অমিত মাইতি, হরিপদ চৌধুরীদের কথায়, ‘‘আমাদের এলাকা কার্যত অরক্ষিত। খানিক দূরে পিচ রাস্তা দিয়ে কাঁকসা থানার পুলিশ টহল দিয়ে গেলেও আমাদের গ্রামের রাস্তায় সে সবের কোনও ব্যবস্থা নেই।’’ তাঁদের দাবি, এলাকায় পুলিশি টহল থাকলে এমন অপহরণের ঘটনা ঘটত না। এলাকার বহু ছেলেমেয়ে স্কুলে যায়। টিউশনের জন্য তাঁদের কাঁকসায় যেতেই হয়। সন্ধ্যা বা রাতের দিকে বাড়ি ফেরে তারা। এলাকার বধূ কল্পনা গায়েন, ছন্দা মাইতিরা জানান, ভানুবেন্দ্রর ঘটনার পর থেকে তাঁরাও ভয়ে রয়েছেন। তাঁরা বলেন, ‘‘ছেলেমেয়েরা অনেকেই বাইরে টিউশনে যেতে ভয় পাচ্ছে। এলাকায় একটা পুলিশি ক্যাম্প হলে অনেকটা আতঙ্কমুক্ত হওয়া যায়।’’

দামোদরের চরের এলাকা কারা দেখবে, সে নিয়ে নানা থানার টালবাহানা অবশ্য নতুন নয়। বছর কয়েক আগে দুর্গাপুর লাগোয়া দামোদরের সোনাইচণ্ডীপুর মানার বাসিন্দা এক বধূর বাড়িতে ঢুকে দুষ্কৃতীরা ধর্ষণের চেষ্টা করে ও তাঁর স্বামীকে মারধর করে বলে অভিযোগ। অভিযোগ করার জন্য তাঁকে দুর্গাপুরের ওয়ারিয়া ফাঁড়ি, বড়জোড়া থানা, গঙ্গাজলঘাঁটি থানা ও মেজিয়া থানায় দৌড়ে বেড়াতে হয়েছিল। সব থানাই তাঁকে জানিয়েছিল, ওই এলাকা তাদের মধ্যে পড়ে না। শেষে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে মেজিয়া থানা তাঁর অভিযোগ নেয়।

লালবাবা মানার বাসিন্দাদের ব্যাপারেও কাঁকসা থানার পুলিশের বক্তব্য, তারা নিজেদের এলাকায় টহল দেয়। অন্য থানা এলাকার ক্ষেত্রে সে ভাবে কিছু করার থাকে না। সোনামুখী থানা থেকে লালাবাবা মানাচরের কোনও ঘটনার তদন্ত করা যে সমস্যার তা মানছে বাঁকুড়া জেলা পুলিশের একাংশ। এক পুলিশকর্তার বক্তব্য, ‘‘ওই এলাকায় যেতে হলে আমাদের দুর্গাপুর ঘুরে যেতে হয়। প্রায় ৬০ কিলোমিটার রাস্তা। তুলনায় কাঁকসা থানা অনেকটা কাছে। তদন্তের স্বার্থে বারবার আমাদের যাওয়াআসা করা খুবই সমস্যার।’’

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুরত্বের কারণেই ভানুবেন্দ্র অপহরণ কাণ্ডে কাঁকসা থানার সহায়তা নিতে বাধ্য হয়েছিল সোনামুখী থানা। বাঁকুড়ার জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলেন, ‘‘লালবাবা মানাচরের বাসিন্দাদের থেকে সরাসরি কোনও দাবি এখনও আমাদের কাছে আসেনি। তবে ওঁরা যদি লিখিত ভাবে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কাছে জানান, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy