Advertisement
E-Paper

পাত্রসায়র, ইন্দাসে গর্তে ভরা রাস্তা, কমছে বাস চলা

রাস্তা তো নয়, যেন ডোবা! কোথাও পিচ উঠে গিয়েছে। কোথাও আবার পিচ-বোল্ডার কিছুই নেই। রাস্তাজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সেই গর্তে জল জমে একাকার। বর্ষায় রাস্তা ভেঙেচুরে গিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:০৩

রাস্তা তো নয়, যেন ডোবা!

কোথাও পিচ উঠে গিয়েছে। কোথাও আবার পিচ-বোল্ডার কিছুই নেই। রাস্তাজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সেই গর্তে জল জমে একাকার। বর্ষায় রাস্তা ভেঙেচুরে গিয়েছে। পাত্রসায়র ও ইন্দাস ব্লকের বেশ কয়েকটি রাস্তার এমনই বেহাল দশা। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পাত্রসায়র–রসুলপুর, ইন্দাস-রসুলপুর, ইন্দাস-দিঘলগ্রাম এবং খোসবাগ-শান্তাশ্রম রাস্তার। দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তাগুলির বেহাল দশার জন্য ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা। অবিলম্বে ওই রাস্তা সংস্কারের দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা।

পাত্রসায়র থেকে বর্ধমান যাওয়ার রাস্তার মধ্যে কাঁকরডাঙা মোড়, হাটকৃষ্ণনগর, ফকিরডাঙা, ইদিলচক, রসুলপুর এলাকায় রাস্তার অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। ইন্দাসের খোসবাগ মোড় থেকে আউসনাড়া, শ্রীপুর, বেলবাঁধি, পাহাড়পুর হয়ে শান্তাশ্রম পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার অবস্থাও একই রকম। একই ভাবে রসুলপুর থেকে কুমরুল, বিউর, খোসবাগ হয়ে ইন্দাস পর্যন্ত রাস্তায় দু’হাত অন্তর বড় বড় গর্ত। বছরখানেকের মধ্যে ওই রাস্তায় একাধিকবার বাস-সহ অন্যান্য গাড়িও দুর্ঘটনায় পড়েছে। রাস্তা খারাপের জন্যই ওই সব দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি।

স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রায় একবছর ধরে ওই রাস্তাগুলির অবস্থা খারাপ। ইন্দাস ব্লকের আমরুল, ভগবানবাটি, কেনেটি, রসুলপুর, বাগমারি, আব্দুলপুর, করিশুণ্ডা, পাত্রগাঁতি-সহ আশেপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের ৩০ হাজারের বেশি মানুষ প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে এই রাস্তার উপর দিয়ে যাতায়াত করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তার অনেক জায়গায় বড় বড় গর্ত হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেই গর্ত মেরামতি না করায় তা বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে। তবু রাস্তা সংস্কারে কোনও হুঁশ নেই প্রশাসনের। কেনেটি-রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা অসিতবরণ দে বলেন, “শান্তাশ্রম থেকে এই রাস্তায় আগে বর্ধমান, বিষ্ণুপুর যাওয়ার ৬-৭টি বাস চলত। বৃষ্টিতে রাস্তার অনেক জায়গায় বড় বড় গর্ত হয়েছে। পিচ, বোল্ডার–সব উঠে গিয়েছে। রাস্তার এই বেহাল দশা দেখে প্রায় সব বাস চলাচল বন্ধ হতে বসেছে। এখন মাত্র দু’টি বাস সারাদিনে যাতায়াত করছে।”

ইন্দাস কলেজের ছাত্রী সুমনা দে, রুকসোনা খাতুনের ক্ষোভ, “বর্ধমানে টিউশন নিতে যেতে হয়। রাস্তা খারাপের জন্য বাস চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়ায় কলেজ ও টিউশন নিতে যেতে ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে। এতে পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” পাত্রসায়রের বাসিন্দা এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী বললেন, “দোকান খোলার জন্য প্রতিদিন চারবার করে পাত্রসায়র থেকে রসুলপুর যেতে হয়। আগের তুলনায় রাস্তার অবস্থা দিন দিন খারাপ হয়ে পড়ছে। আমাদের মতো নিত্যযাত্রীরা চরম সমস্যায় পড়ছি।” গাড়ি চালকদের ক্ষোভ, রাস্তার বেহাল দশার জন্য প্রায়দিনই গাড়ির যন্ত্রাংশ ভাঙছে। সময় মতো তাঁরা যাত্রীদের নিয়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারছেন না।

এলাকার মানুষের অভিযোগকে সমর্থন করে পাত্রসায়র পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূলের দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কিছু কিছু এলাকায় রাস্তার অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ। রাস্তাগুলি অবিলম্বে সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে লিখিত ভাবে জানিয়েছি।” তিনি জানান, পুজোর আগেই রাস্তাগুলি সংস্কারের চেষ্টা চলছে। বাঁকুড়া জেলা পরিষদ সূত্রে জানানো হয়েছে, জেলায় বেশ কয়েকটি রাস্তা সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়া থেকে সোনামুখী পর্যন্ত রাস্তা চওড়া করে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে সোনামুখী থেকে পাত্রসায়র পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজ্য পূর্ত দফতর (সড়ক) এর তরফে ইন্দাসের দীঘলগ্রাম, শান্তাশ্রম রাস্তা সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির জন্য রাস্তা সংস্কারের কাজে অসুবিধা হচ্ছে। পুজোর আগেই সব রাস্তা সংস্কারের কাজ হবে বলে জানানো হয়েছে।

ফার্মাস ক্লাব চালু। উন্নত কৃষি প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যে চাষিদের নিয়ে নাবার্ডের সহযোগিতায় আরও তিনটি ফার্মার্স ক্লাব গড়ল ময়ূরেশ্বরের রাধানগর গ্রামের একটি স্বেছাসেবী সংস্থা। ইতিপূর্বে তারা ময়ূরেশ্বর থানা এলাকায় ২৫০ জন চাষিকে নিয়ে ১১টি ফার্মার্স ক্লাব গড়েছে। সোমবার তারা ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকের মল্লারপুর, মহুরাপুর এবং ময়ূরেশ্বর ২ নম্বর ব্লকের দাসপলশা গ্রামের ৭৫ জন চাষিকে নিয়ে আরও তিনটি ফার্মার্স ক্লাবের সূচনা করেন। ওই স্বেছাসেবী সংস্থার কর্ণধার মহম্মদ মকরম আলি জানান, চাষিদের জন্যও বহু সরকারি সুযোগ সুবিধা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু, বেশির ভাগ চাষি তার সুলুক সন্ধান জানেন না। ওই সব সুযোগ সুবিধা নিয়ে চাষিরা যাতে চাষে উন্নয়ন ঘটাতে পারেন, তার জন্যই এই উদ্যোগ।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy