গাড়ি-সহ শান্তিনিকেতনের মনু চৌধুরী অন্তর্ধানের ঘটনায়, অসম থেকে উদ্ধার হওয়া গাড়ি এল বোলপুরে। তবে পুলিশের দাবি, মনুর এখনও পর্যন্ত কোনও খোঁজ পায়নি তারা। জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনার তদন্তকারী অফিসার রতন সেন গাড়ি উদ্ধার এবং অসমে ধৃত দু’জনকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, অগস্ট মাসের ২১ তারিখ শান্তিনিকেতনের দক্ষিণ গুরুপল্লির বাসিন্দা পেশায় গাড়ি চালক মনু চৌধুরী বোলপুর ডাকবাংলো ট্যাক্সিস্ট্যান্ড থেকে ভাড়া নিয় হাজারদুয়ারী যান। ওই দিন ফেরার কথা থাকলেও, ফেরেননি। পরের দিন অনেক রাত পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে না দেখে, গাড়ির মালিক মাধব সিংহ এবং মনুর বাবা নির্মল চৌধুরী রাতে নিখোঁজের ডায়েরি করেন। ওই দিনের পর থেকেই তাঁরা নানা জায়গা খোঁজ-খবর শুরু করেন। পুলিশও তদন্তে নামে। তল্লাশি অভিযানের সময়ে অসম পুলিশ মনুর গাড়িটিকে কারবিয়াংলং জেলার বড়পাথের থানা এলাকায় আটক করে। ধরা পড়ে কেতাব আলি ও মহম্মদ সালাম আলি নামে দু’জন।
মনুর দাদা অর্জুন চৌধুরী এবং গাড়ি মালিক মাধব সিংহের দাবি, গাড়ির কাগজপত্র দেখে আসানসোলে ফোন আসে অসম পুলিশের। তার পর থেকেই বিষয়টি জানাজানি হয়। ঘটনার খবর চাউর হতেই, গত সোমবার গাড়ি মালিক মাধব সিংহ এবং জেলা পুলিশের বোলপুর থানার এস আই তথা ঘটনার তদন্তকারী অফিসার রতন সেন অসমে যান। জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, গাড়ির চাকা এবং নম্বর প্লেট পাল্টে পাচারের চেষ্টা হচ্ছিল। সূত্রের খবর, গাড়ির চাকা, নম্বর-সহ একাধিক বিষয় পাল্টানোয় সন্দেহ হয় অসম পুলিশের। তাই ২৬ অগস্ট দুপুর দেড়টা নাগাদ তল্লাশি অভিযানের সময়ে, তারা ওই গাড়িটি আটক করে। পরিবারের অভিযোগ, গত ২৭ তারিখ অসম পুলিশ মারফত এ রাজ্যে খবর এলেও, পুলিশ কিন্তু এত দিন কাউকে কিছু জানায়নি। তা নিয়েই, ক্ষোভ উগরে দিয়েছে নিখোঁজের পরিবার।
ইতিমধ্যেই এই রাজ্য এবং লাগোয়া আশেপাশের রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়, পরিবারের উদ্যোগে নিখোঁজ চালকের হদিশ পেতে পোস্টার দেওয়া হয়েছে। চালকের বাবা নির্মল চৌধুরী বলেন, “ওই সময়ে খবর আসার পর পুলিশ যদি উদ্যোগী হত, তাহলে আমার ছেলের সন্ধান এত দিনে পাওয়া যেত। কিন্তু পুলিশ কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় আজও মনুর নিখোঁজের কোন কিনারা হইনি।”
জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, উদ্ধার হওয়া গাড়ি ওই থানা থেকে বোলপুরে নিয়ে এসেছে ঘটনার তদন্তকারী অফিসার। ওই গাড়ি সহ ধৃত কেতাব আলি ও মহম্মদ সালাম আলিকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে বোলপুর আদালতে দ্বারস্থ হয়েছেন ঘটনার তদন্তকারী অফিসার রতন সেন।