তারাপীঠ যাওয়ার গাড়ির ভিড়ে রামপুরহাট শহরের প্রধান-প্রধান রাস্তায় যানজট লেগেই থাকে। সেই জট কাটিয়ে যাতায়াত করা বাসিন্দাদের কাছে প্রাণান্তকর হয়ে উঠেছে। ছোট খাটো দুর্ঘটনাও হামেশাই ঘটছে। এমনকী প্রাণহানিও ঘটেছে।
এ বার বাসিন্দাদের দাবি মেনে রামপুরহাট শহরের যানজট দূর করতে আসরে নামল তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ।
বৃহস্পতিবার উন্নয়ন পর্ষদ তারাপীঠ যাওয়ার জন্য রামপুরহাট শহরে একটি বাইপাস নির্মাণের প্রথম পর্বের কাজ শুরু করল। রামপুরহাট থানার পাখুড়িয়া গ্রামের মধ্যে যাওয়া ওই রাস্তা তৈরির কাজে বৃহস্পতিবার তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে হাতে কোদাল চালিয়ে সেই নির্মাণ কাজের সূচনা করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন পর্ষদের এগজিকিউটিভ সদস্য তথা রামপুরহাটের মহকুমা শাসক উমাশঙ্কর এস, রামপুরহাটের উপপুরপ্রধান সুকান্ত সরকার, রামপুরহাট ১ ব্লকের সহকারী বাস্তুকার প্রমুখ। বুধবার অবশ্য রামপুরহাট পাঁচমাথা মোড়ে একটি সভায় এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আশিসবাবু। সেখানে আরও অন্যান্য নতুন নতুন প্রকল্পও ঘোষিত হয়।
আশিসবাবু জানান, শহরের যানজট দূর করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছিল। তাই তারাপীঠ ও রামপুরহাটের মধ্যে যাতায়াতের জন্য অটো, ট্রেকার প্রভৃতি ছোট যানবাহনের জন্য বাইপাস তৈরি করা হচ্ছে। বাইপাস ধরে রামপুরহাট রেল স্টেশন থেকে ছ ফুঁকো রাস্তা ধরে চাকলামাঠ হয়ে পাখুড়িয়া গ্রামের পাশ দিয়ে সহজে জাতীয় সড়কের উপর সানঘাটা কাঁদর সংলগ্ন এলাকায় উঠতে পারবে গাড়িগুলি। সে জন্য তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এবং এই রাস্তা নির্মাণে ৩০ লক্ষ ৫ হাজার টাকা ইতিমধ্যে উন্নয়ন পর্ষদ থেকে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রথম পর্বের কাজ শুরু হল।
জানা গিয়েছে প্রথম পর্বে ছ ফুঁকো থেকে চাকলামাঠ –পাখুড়িয়া -সানঘাটা কাঁদর পর্যন্ত দু’কিমি বাইপাসের মধ্যে ১.২ কিমি রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। ওই কাজে পাখুড়িয়া গ্রাম ঢুকতে একটি পুকুর পাড়ের গার্ডওয়াল, দশ ফুট চওড়া বিটুমিনের রাস্তা এবং রাস্তার দু’ধার আরও দু’ফুট করে চওড়া করা হবে। সেই সঙ্গে ওই রাস্তার মধ্যে তিনটি হিউম পাইপ দিয়ে কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।
এ দিকে বৃহস্পতিবার রাস্তাটি নির্মাণের প্রথম পর্বের কাজ শুরুর সময় দেখা যায় এলাকাবাসী তাঁদের মাঠের জল বের হওয়ার জন্য দিকে রাস্তার উপর আরও তিনটি কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানান আশিসবাবুর কাছে। পাখুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আলি হোসেন, শা আলমরা জানান, মাঠের জল বের করার জন্য নির্মীয়মাণ রাস্তার উপর আরও তিন জায়গায় হিউম পাইপ বসিয়ে কালভার্ট নির্মাণের প্রয়োজন আছে। আশিসবাবু অবশ্য তাদের সে ব্যপারে আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি পাখুড়িয়া গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়া কাঁদর সংস্কার সংশ্লিষ্ট রামপুরহাট ১ ব্লক প্রশাসনের সহযোগিতায় বরশাল পঞ্চায়েতের মাধ্যমে করা হবে বলে জানান। এ ছাড়াও নির্মীয়মান রাস্তার দু’ধারে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থারও আশ্বাস দেন তিনি।