Advertisement
E-Paper

যুবকের দেহ উদ্ধার, ক্ষোভ

ধান চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে দীর্ঘক্ষণ মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ দেখালেন মৃতের পরিজন এবং গ্রামের মানুষ। শেষ পর্যন্ত এক তৃণমূল নেতার হস্তক্ষেপে মৃতদেহ উদ্ধার করতে সমর্থ হয় পুলিশ। ঘটনাস্থল ময়ূরেশ্বরের ছোট তুড়িগ্রাম সংলগ্ন এলাকা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৫ ০১:৪৯
ময়ূরেশ্বরে দেহ ঘিরে গ্রামবাসীর জটলা। —নিজস্ব চিত্র।

ময়ূরেশ্বরে দেহ ঘিরে গ্রামবাসীর জটলা। —নিজস্ব চিত্র।

ধান চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে দীর্ঘক্ষণ মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ দেখালেন মৃতের পরিজন এবং গ্রামের মানুষ। শেষ পর্যন্ত এক তৃণমূল নেতার হস্তক্ষেপে মৃতদেহ উদ্ধার করতে সমর্থ হয় পুলিশ। ঘটনাস্থল ময়ূরেশ্বরের ছোট তুড়িগ্রাম সংলগ্ন এলাকা।

বৃহস্পতিবার সকালে ওই গ্রামের বাইরে একটি পুকুরে যুবকের পচাগলা দেহ ভাসতে দেখা যায়। পুলিশ জানায়, ওই যুবকের নাম ইয়াজউদ্দিন সেখ (৩০)। বাড়ি ছোটতুড়ি গ্রামেরই দক্ষিণপাড়ায়। গত রবিবার সন্ধ্যা থেকে ওই যুবক নিখোঁজ ছিলেন। এ দিন সকালে গ্রামের বাইরে মাঠের মাঝে একটি পুকুরে বুকে বাঁশ এবং শ্যাওলা চাপা অবস্থায় ওই যুবকের পচাগলা দেহ ভেসে থাকতে দেখেন স্থানীয় চাষিরা। খবর পেয়ে পুলিশ ওই মৃতদেহ উদ্ধার করতে গেলে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়ে। যতবারই তারা বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে দেহ উদ্ধারের চেষ্টা করেন ততবারই উত্তেজিত জনতা কার্যত রে রে করে তেড়ে যান।

এ দিন বেলা সাড়ে ১১ টা নাগাদ গিয়ে দেখা গেল, তখনও পুকুরের জলে পড়ে রয়েছে দেহ। ওই পুকুরের পাড়েই রয়েছে পার্শ্ববর্তী গ্রামের মাঠ পাহারাদারদের খুপড়ি ঘর। মৃত যুবকের বিধবা মা জালেকাবিবির দাবি, রবিবার সন্ধ্যায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বেড়িয়েছিল ইয়াজউদ্দিন। মস্তিকবিকৃত জনিত কারণে ভালভাবে গুছিয়ে কথাও বলতে পারত না। সেই জন্য মাঠ পাহারাদারেরা হয়ত তাঁকে ধান চোর সন্দেহে পিটিয়ে মেরে জলে বাঁশ চাপা দিয়ে ডুবিয়ে রাখে।

উপস্থিত জনতাও একই অভিযোগে পাহারাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে মৃতদেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। একসময় পাহারাদারদের গ্রাম আক্রমণেরও প্রস্তুতিও শুরু করে দেন তারা। সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁচ্ছোন তৃণমূলের সংশ্লিষ্ট অঞ্চল কমিটির সভাপতি জুল্লুর রহমান। তিনি উপযুক্ত পুলিশি তদন্তের আশ্বাস দেওয়ার পরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। জুল্লুর অবশ্য এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে গ্রামবাসীদের দাবি, মাঠ পাহারার জন্য রাতভর পুকুরপাড়ের ওই খুপড়িতে পাহারাদাররা থাকেন। সেক্ষেত্রে ওই যুবক যদি কোনও কারণে পুকুরের জলে পড়েও যান বা অন্য কেউ খুন করে পুকুরে ডুবিয়ে দিয়ে যান তাহলে তাদের নজর এড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়। পুলিশকে এইসব দিক খতিয়ে দেখার জন্যই পাহারাদারদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়েছিল। পুলিশ জানায়, ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ বলা যাবে না।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy