Advertisement
E-Paper

রাস্তা অংশ দখল করে পাঁচিল বানাচ্ছে ব্লকই

রাস্তার জায়গা দখল করে সীমানা পাঁচিল নির্মাণ করা হচ্ছে। খোদ ব্লক প্রশাসনের বিরুদ্ধেই এই অভিযোগে সরব হয়েছেন পুঞ্চা থানা এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। সম্প্রতি এই অভিযোগের পক্ষে স্থানীয় নেতৃত্বও সিপিএম পুঞ্চার বিডিও-কে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

সমীর দত্ত

শেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:৫৪
পিছনে পুরনো পাঁচিল। সামনে নতুনটির নির্মাণ চলছে। — নিজস্ব চিত্র।

পিছনে পুরনো পাঁচিল। সামনে নতুনটির নির্মাণ চলছে। — নিজস্ব চিত্র।

রাস্তার জায়গা দখল করে সীমানা পাঁচিল নির্মাণ করা হচ্ছে। খোদ ব্লক প্রশাসনের বিরুদ্ধেই এই অভিযোগে সরব হয়েছেন পুঞ্চা থানা এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। সম্প্রতি এই অভিযোগের পক্ষে স্থানীয় নেতৃত্বও সিপিএম পুঞ্চার বিডিও-কে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

পুঞ্চা ব্লক অফিসের দক্ষিণ দিকের সীমানা পাঁচিল ভেঙে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ১০-১২ দিন আগে কাজ শুরু হলেও নির্মাণ বন্ধ রাখার দাবিতে গত শুক্রবার পুঞ্চা পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা, সিপিএমের ঠাকুরদাস মাহাতোর নেতৃত্বে সিপিএমের পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত সমিতির কয়েক জন সদস্য বিডিও-র সঙ্গে দেখা করে সীমানা পাঁচিলের কাজ আপাতত স্থগিত রাখার আবেদন জানান। ঠাকুরদাসবাবু সোমবার দাবি করেন, ‘‘পুরনো পাঁচিল থেকে অন্তত তিন ফুট বাড়িয়ে রাস্তার উপরে নির্মাণ হচ্ছে।’’

সিপিএমের পুঞ্চা জোনাল কমিটির নেতা বিপদতারণ শেখরবাবুও বলেন, ‘‘ব্লক অফিসের দক্ষিণের সীমানা পাঁচিলটি যথেষ্ট মজবুত। তবু সেটি ভেঙে নতুন পাঁচিল নির্মাণ করা হচ্ছে কেন, আমরা বুঝতে পারছি না। আমাদের ধারণা, বিশেষ কোনও ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই নির্মাণ শুরু হয়েছে।’’ একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, অভিযোগ মানুষ সমস্যায় পড়লে ব্লক অফিসের দ্বারস্থ হন। ব্লক অফিসই যদি সাধারণের যাতায়াতের ‘রাস্তা’ দখল করে, তা হলে সাধারণ বাসিন্দারা যাবেন কোথায়?

Advertisement

ব্লক অফিস সংলগ্ন এই রাস্তা ধরে বেশ কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে পুঞ্চা বাজারের যোগাযোগ রয়েছে। গোবিন্দপুর, বারমেশিয়া, ধুলিয়াপাড়া, পোড়াডি প্রভৃতি গ্রামের বাসিন্দারা এই রাস্তা ধরেই রোজ পুঞ্চা বাজারে আসা যাওয়া করেন। গোবিন্দপুর ও বারমেশিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ বলেন, ‘‘এই রাস্তায় চার চাকার ছোট গাড়ি বা মিনিট্রাক এমনকী মিনিবাস অবধি আমাদের গ্রাম পর্যন্ত যায়। রাস্তার মাপ কমে গেলে ওই রাস্তায় কি আর বড় গাড়ি ঢুকবে? আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ব্লক অফিসে দরখাস্ত দিয়েছি।’’

সিপিএম নেতাদের দাবি, বিডিও তাঁদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, পাঁচিলের প্রকৃত মাপ চিহ্নিত না পর্যন্ত নির্মাণরকাজ স্থগিত থাকবে। কিন্তু, শনিবার তাঁরা ব্লক অফিসে গিয়ে দেখেন, কাজ দ্রুত গতিতেই চলছে। তাঁরা প্রতিবাদ জানালে শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ঠাকুরদাসবাবুর অভিযোগ, ‘‘সেই সময় তৃণমূলের বেশ কিছু কর্মী-সমর্থক আমাদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে। পুলিশ এসে না পড়লে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হত। পুলিশের উপস্থিতিতে ঠিক হয়, সোমবার ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের কর্মীরা রাস্তা ও পাঁচিলের মাপ নির্দিষ্ট করে দেবেন।’’

এ দিন দুপুরে পুঞ্চা ব্লক অফিসে গিয়ে দেখা গেল, পাঁচিল নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা কাজের তদারকি করছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি দেখে তিনি অবশ্য কিছুক্ষণের মধ্যেই সরে পড়লেন। অফিসের ভিতরে বিডিও এবং জয়েন্ট বিডিওর চেম্বার ফাঁকা। কর্মীরা জানালেন কেউ এখনও অফিসে আসেননি। ফোনে পুঞ্চার বিডিও অজয় সেনগুপ্তকে ধরা হলে পাঁচিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমি এই ব্লকে যোগ দেওয়ার আগেই ওই নির্মাণকাজ কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। ফলে, এ ব্যাপারে আমার তেমন কিছু জানা নেই। সিপিএম নেতাদের বলেছি ভূমি দফতরের কর্তাদের নিয়ে মাপ করে তবেই কাজ শুরু হবে।’’ বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও নির্মাণ কাজ চলছে কেন? বিডিও-র জবাব, ‘‘জরুরি কাজে বাইরে আছি। অফিসে গিয়ে ব্যাপারটা দেখছি।’’

তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা পুঞ্চা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি কৃষ্ণচন্দ্র মাহাতো অবশ্য এই ঘটনায় বিতর্কের কিছু দেখছেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এ নিয়ে এত হট্টগোলের কী আছে? দক্ষিণ দিকের পাঁচিলটা হেলে গিয়েছিল। তাই নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে। রাস্তার মাপ যাতে ঠিক থাকে, সেটা আমরা দেখব। বাম আমলে সিপিএম কী কী করেছে, সে তো সবাই জানে। তারা আবার জনগণের অসুবিধা নিয়ে কথা বলে কী করে!’’

সিপিএমের স্থানীয় নেতারা অবশ্য এখনই রণেভঙ্গ দিচ্ছেন না। তাঁদের হুঁশিয়ারি, ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের কর্মীরা রাস্তা ও পাঁচিলের মাপ নির্দিষ্ট করে না দেওয়া পর্যন্ত নির্মাণ কাজ স্থগিত রাখতেই হবে। তার আগে কাজ চালিয়ে গেলে তাঁরা অনশনেও বসবেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy