Advertisement
E-Paper

রাস্তা ভাঙা, ক্ষোভ বাঁকুড়ার দুই ব্লকে

গত বর্ষায় রাস্তা ভেঙেচুরে একাকার হয়ে গিয়েছে। সর্বত্র ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। পাত্রসায়র ও ইন্দাস ব্লকের বেশ কয়েকটি রাস্তার এমনই বেহাল দশা। আর তা নিয়ে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০১৫ ০০:৫৮
বাঁকুড়া –বর্ধমান সড়কে পাত্রসায়রের ফণী সিংহের মোড়ের বেহাল দশা। খন্দে জল জমে রয়েছে। ছবিটি তুলেছেন দেবব্রত দাস।

বাঁকুড়া –বর্ধমান সড়কে পাত্রসায়রের ফণী সিংহের মোড়ের বেহাল দশা। খন্দে জল জমে রয়েছে। ছবিটি তুলেছেন দেবব্রত দাস।

গত বর্ষায় রাস্তা ভেঙেচুরে একাকার হয়ে গিয়েছে। সর্বত্র ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। পাত্রসায়র ও ইন্দাস ব্লকের বেশ কয়েকটি রাস্তার এমনই বেহাল দশা। আর তা নিয়ে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পাত্রসায়র-রসুলপুর, ইন্দাস-রসুলপুর, ইন্দাস-দীঘলগ্রাম এবং খোসবাগ-শান্তাশ্রম রাস্তার। তাঁদের অভিযোগ, পুজোর আগে বোল্ডার আর মোরাম দিয়ে কোনও রকমে জোড়াতালি দেওয়া হয়েছিল। এই ক’দিনে তাও উঠে গিয়েছে। অবিলম্বে রাস্তাগুলির পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা।

পাত্রসায়র থেকে বর্ধমান যাওয়ার রাস্তায় কাঁকরডাঙা মোড়, হাটকৃষ্ণনগর, ফণি সিংহের মোড়, ফকিরডাঙা, ইদিলচক, রসুলপুর এলাকায় রাস্তার অবস্থাও শোচনীয়। ইন্দাসের খোসবাগ মোড় থেকে আউসনাড়া, শ্রীপুর, বেলবাঁধি, পাহাড়পুর হয়ে শান্তাশ্রম পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তার ছবিটাও একই। রসুলপুর থেকে কুমরুল, বিউর, খোসবাগ হয়ে ইন্দাস পর্যন্ত রাস্তা জুড়ে রয়েছে বড় বড় খানা খন্দ। বছরখানেকের মধ্যে ওই রাস্তায় একাধিক বার দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর তার জন্য খারাপ রাস্তার দিকেই আঙুল তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রায় এক বছর ধরে রাস্তাগুলি খারাপ হয়ে রয়েছে। ইন্দাস ব্লকের আমরুল, ভগবানবাটি, কেনেটি, রসুলপুর, বাগমারি, আব্দুলপুর, করিশুন্ডা, পাত্রগাঁতি-সহ আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তাগুলি দিয়ে যাতায়াত করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তার ঠিক মত সংস্কার হয় না। তার উপর বড় গাড়ি যাতায়াতের ফলে সেগুলির অবস্থা আরো খারাপ হয়ে চলেছে। রাস্তাগুলি বর্তমানে বিপজ্জনক হয়ে রয়েছে। কিন্তু সে দিকে কোনও হুঁশ নেই প্রশাসনের। শান্তাশ্রমের বাসিন্দা সহদেব দে জানান, “শান্তাশ্রম থেকে এই রাস্তায় আগে বর্ধমান, বিষ্ণুপুর যাওয়ার ৬-৭টি বাস চলত। রাস্তার বেহাল দশা দেখে প্রায় সব বাস চলাচল বন্ধ হতে বসেছে। এখন মাত্র দু’টি বাস সারাদিনে যাতায়াত করে।’’ ইন্দাস কলেজের ছাত্রী সায়ন্তী দে এবং রুকসানা খাতুন জানান, সপ্তাহে তিন দিন টিউশনি পড়তে তাঁদের বর্ধমান যেতে হয়। খারাপ রাস্তার জন্য বাস চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়ায় খুবই অসুবিধা হচ্ছে। ফলে তাঁদের পড়াশোনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাত্রসায়রের হাটকৃষ্ণনগরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সৌরভ কর অভিযোগ করেন, বছরের অধিকাংশ সময়ই দোকানের সামনে রাস্তার বড় বড় গর্তে জল জমে থাকে। এর ফলে ব্যবসাও মার খাচ্ছে। বাসিন্দারা জানান, রাস্তার পাশে নিকাশি নালা না থাকায় সমস্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। রাস্তা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে গাড়ি চালকদের মধ্যেও। তাঁদের অভিযোগ, খারাপ রাস্তার জন্য প্রায় দিনই গাড়ির যন্ত্রাংশ ভাঙছে। সময় মত গন্তব্যে পৌঁছনো যাচ্ছে না।

এলাকার মানুষের অভিযোগ স্বীকার করেছেন পাত্রসায়র পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূলের দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “কিছু কিছু এলাকায় রাস্তার অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ। অবিলম্বে সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছিল।’’ তাঁর দাবি, রাস্তাগুলির পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের কাজ শুরু হবে বলে রাজ্য পূর্ত দফতরের তরফে জানানো হয়েছে।” বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী জানান, বাঁকুড়া থেকে সোনামুখী পর্যন্ত রাস্তা চওড়া করে সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। সোনামুখী থেকে পাত্রসায়রের রসুলপুর পর্যন্ত রাস্তা দু’দিকে চওড়া করে সংস্কারের পরিকল্পনা হয়েছে। ইন্দাস-আকুই, ইন্দাস-দীঘলগ্রাম, রসুলপুর-ইন্দাস এবং খোসবাগ-শান্তাশ্রম রাস্তা সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। শীঘ্রই টেন্ডার ঘোষণা করে কাজ শুরু হবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy