Advertisement
E-Paper

স্কুলের সামনে রাস্তা, আশঙ্কায় অভিভাবক

সামনে ব্যস্ত রাস্তা। সেখান দিয়ে ঘন ঘন ছুটে যায় ছোট বড় গাড়ি। আর বাকি তিন দিকে কাঁদর। এরই মধ্যে চলছে স্কুল। অথচ স্কুলের চারপাশে নেই কোনও পাঁচিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা, ময়ূরেশ্বর

শেষ আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ০১:৫৩
স্কুলের তিনদিক ঘিরে রেখেছে কাঁদর। আর সামনেই রাস্তা। — সোমনাথ মুস্তাফি।

স্কুলের তিনদিক ঘিরে রেখেছে কাঁদর। আর সামনেই রাস্তা। — সোমনাথ মুস্তাফি।

সামনে ব্যস্ত রাস্তা। সেখান দিয়ে ঘন ঘন ছুটে যায় ছোট বড় গাড়ি। আর বাকি তিন দিকে কাঁদর। এরই মধ্যে চলছে স্কুল। অথচ স্কুলের চারপাশে নেই কোনও পাঁচিল। তাই পড়ুয়াদের নিয়ে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় কাটে ময়ূরেশ্বরের দুনা-বহড়া মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষক ও অভিভাবকদের। প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষণ করেও স্কুলের পাঁচিল নির্মাণের কোনও ব্যবস্থা করা যায়নি বলে অভিযোগ।

প্রশাসন এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৯ সালে মাত্র এক জন শিক্ষক এবং ২১ জন পড়ুয়াকে নিয়ে ওই শিক্ষাকেন্দ্রটি চালু করা হয়। বছর খানেক আগে সর্বশিক্ষা মিশনের অর্থানুকূল্যে প্রায় ১৩ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা ব্যয়ে দুনা গ্রামের কাছে নির্মিত হয়েছে দোতলা স্কুলবাড়ি। তৈরি হয়েছে শৌচাগার-সহ মিড-ডে মিলের রান্নার ঘরও। কিন্তু বিস্তর আবেদন-নিবেদন করে পাঁচিল নির্মাণের টাকা জোটেনি বলে অভিযোগ। অথচ ওই স্কুলকে তিনদিকে ঘিরে রয়েছে গভীর কাঁদর। বর্ষা তো বটেই, বছরের অন্যান্য সময় কম বেশি জল থাকে সেই কাঁদরে।

ওই স্কুলের সামনে দিয়ে গিয়েছে শিবগ্রাম-ষাটপলসা সড়ক। বাস, ট্রাক-সহ সমস্ত রকমের যানবাহন চলাচল করে সেই রাস্তায়। এই পরিস্থিতিতে স্কুল চালাতে কার্যত নাজেহাল হয়ে পড়েছেন স্কুলের একমাত্র প্রধান শিক্ষক অম্বিকাচরণ ভট্টাচার্য। স্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬০। কিন্তু আর কোনও শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। অথচ নিয়মানুযায়ী, একটি মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের জন্য ক্রমান্বয়ে ৬ জন শিক্ষক নিয়োগ হওয়ার কথা। ওইসব নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে আবেদনকারীদের মধ্যে শিক্ষাগত যোগত্যায় সর্বাধিক নম্বর প্রাপককে নিয়োগ করে পরিচালন সমিতি। সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সমিতি ওই নিয়োগ অনুমোদন করে।

কিন্তু ২০০৯ সালের পর সরকারি নির্দেশে ওইসব নিয়োগে স্থগিতাদেশ জারি হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন অম্বিকাচরণবাবু। তিনি বলেন, মিড-ডে মিলের রান্নার তদারকি, প্রশাসনিক সমন্বয় রক্ষা থেকে শুরু করে একাই চারটি ক্লাস সামাল দিতে হয়। এর উপর পাঁচিল না থাকায় ছেলেমেয়েদের প্রতি নজর রাখতে গিয়ে পড়ানোর মনোসংযোগটাই নষ্ট হয়ে যায়।’’ তিনি জানান, বিডিও-র দৃষ্টি আকর্ষণ করেও পাঁচিল নির্মাণের কোনও ব্যবস্থা হয়নি।

পাঁচিলের অভাবে দমবন্ধ অবস্থা পড়ুয়াদেরও। সপ্তম শ্রেণির প্রবীর দাস, অষ্টম শ্রেণির টেবিনা খাতুনরা জানায়, পাছে তারা কাঁদর কিংবা রাস্তায় চলে যায়, সে জন্য শিক্ষক তাদের ক্লাসঘর থেকেই বেরোতে দেন না। টিফিনের সময়েও পড়ুয়াদের খেলতে দেওয়া হয় না একই কারণে। অভিভাবক সাবের আলি , জীবন দাসরাও সমান দুশ্চিন্তায় থাকেন। তাঁরা বলেন, ‘‘এই পরিস্থিতিতে ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকি। সংশ্লিষ্ট ময়ূরেশ্বর ২ বিডিও সৈয়দ মাসুদুর রহমান বলেছেন, ‘‘পাঁচিল নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখব।’’ তবে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy