এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে হুজ্জুতি পাকানোর অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু, সংগঠনের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষে পুলিশকে ফোনে হুমকি দেওয়ার পরে সাসপেন্ড করা হল রানিগঞ্জের টিএমসিপি ব্লক সভাপতি সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি অশোক রুদ্র বলেন, ‘‘এই ধরনের আচরণ যারা করবে, আমাদের সংগঠনে তাদের কোনও জায়গা নেই।’’
গত বছর পর্যন্ত রানিগঞ্জের টিডিবি কলেজে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সৌমিত্র। কলেজ ছাড়ার পরে সংগঠনের ব্লক সভাপতি হন। গত বছরই কলেজে মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গোলমালে তাঁর নাম জড়ায়। এবিভিপি-র লোকজনকে প্রার্থী দিতে না দেওয়ার জন্য হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে টিএমসিপি-র বিরুদ্ধে। সেই সময়ে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে লাঠি চালালে তিনি আহত হন বলে অভিযোগ। তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধেও এর আগে কলেজে ভর্তির সময়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল।
এ দিন অনলাইনে ভর্তির সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানাতে কলেজে গিয়েছিলেন সৌমিত্র। অধ্যক্ষের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক কথা বলার পরে বেরিয়ে আসার সময়ে পুলিশের গাড়ি দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন তিনি। পুলিশকে ফোন করে গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, থানায় বোমা মারার হুমকি দিতে শোনা যায় তাঁকে। রাত অবধি অবশ্য পুলিশের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়নি। তবে টিএমসিপি-র রাজ্য সভাপতি অশোকবাবু বলেন, ‘‘এই ঘটনা জানার পরেই ওই ব্লক কমিটি ভেঙে দিয়েছি। সৌমিত্রকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সংগঠনের তরফেও তদন্ত শুরু করা হয়েছে।’’ তৃণমূলের আসানসোল জেলা সভাপতি ভি শিবদাসনও বলেন, ‘‘টিএমসিপির রাজ্য নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দল তা সম্পূর্ণ সমর্থন করছে। পুলিশকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানিয়েছি।’’ ঘটনার পরে মুখে কুলুপ এঁটেছেন সৌমিত্র। তিনি বলেন, ‘‘যা বলার সংগঠনের নেতৃত্ব বলবেন।’’
গোটা ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে সরব হয়েছেন বিরোধী নেতারা। আসানসোলের প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরীর বক্তব্য, ‘‘সারা রাজ্যের কলেজগুলিতে নৈরাজ্য চলছে। টিডিবি কলেজ যে তার বাইরে নয়, তা এই ঘটনা থেকেই প্রমাণ।’’ এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শুভেন্দু কাফরিও বলেন, ‘‘শাসক দলের ছাত্রনেতারা কলেজগুলিতে কী পরিস্থিতি তৈরি করছে, তা এই ঘটনায় সামনে এল।’’ যুব কংগ্রেসের রানিগঞ্জ ব্লক সভাপতি সন্দীপ গোপের ক্ষোভ, ‘‘পুলিশ বারবার নানা কারণ দেখিয়ে আমাদের মিছিল করারই অনুমতি দিচ্ছে না। অথচ, প্রকাশ্যে পুলিশকে হুমকি দিলেও গ্রেফতার করা হচ্ছে না শাসক দলের ছাত্রনেতাকে। পুলিশের কী হাল, এর থেকেই পরিষ্কার।’’