E-Paper

সাদা খামে টাকা ভরে কর্মীরা তা রাখবেন দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ছবির সামনে, প্রশ্ন বিজেপিতেই

শনিবার ছিল দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। বিজেপি সূত্রে খবর, এ দিন পদাধিকারী ও কর্মীরা সাধ্যমতো টাকা খামে ভরে, তা দীনদয়ালের ছবির সামনে রাখেন।

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০৬:৩৬
Representational image of BJP.

বিজেপির দাবি, দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে, জনসঙ্ঘের সময় থেকেই ‘সমর্পণ দিবস’ পালিত হয়। প্রতীকী ছবি।

সাধ্যমতো টাকা খামে ভরে সেই খাম নেতা-কর্মীরা রাখবেন দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ছবির সামনে। খামে নাম-পরিচয় লেখা যাবে না। বিজেপির তরফে এমনই নির্দেশ এসেছে জেলায় জেলায়। শনিবার সেই নির্দেশ মেনে খামে ভরে টাকা জমাও দিলেন জলপাইগুড়ির বিজেপি নেতা-কর্মীরা। যদিও তাঁদের একাংশের প্রশ্ন, যেখানে কে, কত টাকা দিচ্ছে, তা কেউ জানতে পারছে না, রসিদও দেওয়া হচ্ছে না, সে টাকা কি কালো টাকার জন্য দরজা খুলে দেবে না? বিজেপির পাল্টা দাবি, দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে, জনসঙ্ঘের সময় থেকেই ‘সমর্পণ দিবস’ পালিত হয় এবং গোটা দেশেই এই ভাবে চাঁদা নেওয়া হয়।

শনিবার ছিল দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। বিজেপি সূত্রে খবর, এ দিন পদাধিকারী ও কর্মীরা সাধ্যমতো টাকা খামে ভরে, তা দীনদয়ালের ছবির সামনে রাখেন। সে খামে নাম বা পরিচয়সূচক কিছু না থাকলেও, যাঁরা খাম জমা দিচ্ছেন, তাঁদের নাম লিখে রাখা হয়েছে খাতায়। কিন্তু কত টাকা, সেটা লেখা হয়নি। এর পাশাপাশি দলীয় সাংসদ এবং বিধায়কদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা তাঁদের এক মাসের বেতন দলকে দেবেন ‘চেক’-এ।

সাদা খামে টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে একান্ত আলোচনায় প্রশ্ন তুলেছেন দলের কয়েক জন নেতা-কর্মী। এক নেতার কথায়, “এই ভাবে কেউ কালো টাকা দিলেও দল তা জানতে পারবে না। যা করা হচ্ছে, ভেবে দেখা প্রয়োজন।” তবে বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি বাপী গোস্বামীর ব্যাখ্যা, “খামে কেউ এক টাকাও দিতে পারেন। যাঁর-যা সাধ্য। কেউ যাতে নিজের সমর্পণ নিয়ে লজ্জিত না হন, তাই খামে নাম না লিখতে দল বারণ করেছে।” রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এর মধ্যে কোনও নতুনত্ব নেই। দীনদয়ালজির মৃত্যুদিবসে জনসঙ্ঘের আমল থেকে এই রীতি চালু। এর সঙ্গে কালো টাকা সাদা টাকার কোনও সম্পর্ক নেই।’’

বিজেপি সূত্রে বলা হচ্ছে, গুরুপূর্ণিমায় আরএসএসের অনুষ্ঠানেও মুখ বন্ধ খামে টাকা ভরে গেরুয়া পতাকার সামনে রাখতে হয়। তবে সে খামে নাম লিখে দিতে হয় এবং সঙ্ঘ পরে রসিদও দেয়। তার বদলে এমন কর্মসূচি কেন? এই সূত্রেই তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায় অভিযোগ করেন, ‘‘রসিদ ছাড়া যে টাকা তোলা হয়, তা কালো টাকা। অবশ্য কালো টাকা দেশে ফেরত এনে নাগরিকদের মধ্যে বিলি করবে বলেছিল যারা, শেষ পর্যন্ত তারা সে টাকার কী করেছে, জনতা জানে।’’ বিজেপির জেলা সভাপতির দাবি, ‘‘আমাদের দলে তেমন কেউ নেই, যাঁর ফ্ল্যাটে বা ঘরে বান্ডিল বান্ডিল কালো টাকা আছে। সে সব তৃণমূলে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP Samarpan Diwas

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy