Advertisement
E-Paper

কুণালের দাবি, যাবেন না! সঙ্গীর দাবি, সময়েই যাবেন! ইডির দাবি, চিঠি আসেনি! কোথায় গেলেন সায়নী ঘোষ!

তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, যেতে না পারার কারণ জানিয়ে সায়নী ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়েছেন ইডিকে। যদিও ইডি সূত্রে খবর, সকাল পৌনে ১১টা পর্যন্ত তারা এমন কোনও চিঠি হাতে পায়নি।  

আনন্দবাজার অনলাইন সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৩ ১০:৫৭
Summoned by ED for the second time Saayoni Ghosh leaves her Golfgreen flat on wednesday morning

সায়নী ঘোষ —ফাইল চিত্র।

তৃণমূল যুবনেত্রী সায়নী ঘোষের ইডি দফতরে দ্বিতীয় বার হাজির হওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিল। বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সে সায়নী হাজিরা দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছিলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। কুণাল জানান, সায়নী এখন ভোটের কাজে ব্যস্ত। ভোট মিটলে সায়নী ইডি দফতরে যাবেন বলে দাবি করেন কুণাল। বলেন, যেতে না পারার কারণ জানিয়ে সায়নী ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়েছেন ইডিকে। যদিও ইডি সূত্রে খবর, সকাল ১১টা পর্যন্ত তারা এমন কোনও চিঠি হাতে পায়নি। অন্য দিকে, সায়নীর সঙ্গে আগের দিন যিনি সিজিও কমপ্লেক্সে এসেছিলেন, সেই সঙ্গী জানাচ্ছেন, সায়নী ইডি দফতরে যথা সময়েই হাজিরা দেবেন। ঘটনাচক্রে, সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ গল্ফগ্রিনের ফ্ল্যাট থেকে সায়নীকে বেরোতে দেখা গিয়েছে বলে একটি সূত্রের খবর। সায়নীর সিজিও-তে যাওয়া বিপরীতমুখী দুই বক্তব্য পাওয়া যাওয়ায়, যে প্রশ্নটা উঠছে, তা হল কোথায় গেলেন তৃণমূলের যুবনেত্রী?

বুধবার কুণাল বলেন, “আমি যে টুকু জানি, আজ (বুধবার) সায়নী পূর্ব বর্ধমানের গলসির দিকে প্রচারে যাচ্ছেন। তদন্তকারী সংস্থাকে একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, ভোটের পর যে দিন ইডি ডাকবে, তিনি নিশ্চিতভাবে সহযোগিতা করবেন।” কুণাল এ-ও জানান, তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য ৫৩০ পাতার মতো নথি তদন্তকারীদের পাঠিয়ে দিয়েছেন সায়নী।

শুক্রবার ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার পর জনসমক্ষে দেখা যায়নি তৃণমূলের যুব সভানেত্রী সায়নীকে। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানে দলের নির্দেশে প্রচারে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সায়নী যাননি। দলকে জানান, তাঁর মা অসুস্থ। তার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, বুধবার ইডির দফতরে কি হাজিরা দেবেন তৃণমূলের যুবনেত্রী সায়নী ঘোষ? বিষয়টি নিয়ে ‘কৌতূহল’ ছিল তৃণমূলের অন্দরেও। ইডি সূত্রে জানা যায়, বুধবার সায়নীকে কিছু নথিপত্র সংক্রান্ত প্রশ্ন করতেই ডাকা হয়েছে। মায়ের অসুস্থতার কারণে আদৌ কি তিনি যেতে পারবেন, না কি আইনজীবীর মাধ্যমে নথি পাঠিয়ে দেবেন? এ বিষয়ে সায়নী কিছুই জানাননি। তবে ইডির এক সূত্রের মতে, সায়নী নিজে না আসতে পারলে, তা লিখিত ভাবে তদন্তকারী সংস্থাকে জানাতে হবে। কুণালের বক্তব্য মোতাবেক, সায়নী যা করেছেন।

ইডি সূত্রের খবর, সায়নীকে সংস্থার তরফে ডাকা হয়েছে আয়-ব্যয় সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন করতে। ‘অভিযুক্ত’ হিসেবে নয়। বুধবারেও তাঁর কিছু নথিপত্র নিয়ে যাওয়ার কথা। মায়ের অসুস্থতার কারণে মঙ্গলবার ভোটপ্রচারে যেতে পারেননি সায়নী। এই পরিস্থিতিতে বুধবার নিজে ইডি দফতরে সেই নথি নিয়ে যাবেন, না কি তাঁর আইনজীবী মারফত নথি পাঠাবেন, তা মঙ্গলবার পর্যন্ত জানা যায়নি। কুণাল যদিও জানিয়েছেন, নথি পাঠিয়ে দিয়েছেন সায়নী।

গত শুক্রবার সাড়ে ১১ ঘণ্টা পর সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতর থেকে বেরোন যুব তৃণমূল নেত্রী সায়নী। সাংবাদিকদের সামনে তিনি জানান, তদন্তে একশো শতাংশ সহযোগিতা করেছেন। আগামিদিনে তদন্তকারী সংস্থা আবার তাঁকে তলব করলে তিনি আসবেন বলেও জানান। তদন্তের প্রয়োজনে ১১ কেন, ২৪ ঘণ্টা তিনি ইডি দফতরে থাকতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছিলেন সায়নী।কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা যায়, ইডি দফতরে অভিনেত্রী-নেত্রীকে তাঁর সম্পত্তি এবং লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নিয়োগ মামলার তদন্তকারী আধিকারিক-সহ অন্যান্যরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এঁদের মধ্যে মহিলা আধিকারিকেরা ছিলেন। ব্যাঙ্কের নথি, আয়কর রিটার্ন, সম্পত্তির নথি লেনদেনের তথ্য আনতে বলা হয়েছিল সায়নীকে। বেশ কিছু নথি এনেওছিলেন তিনি। কুন্তলের থেকে টাকা পেয়েছেন কি না, কোনও আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন কি না, কুন্তল তাঁর কোনও সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করেছিলেন কি না, বা কোনও অনুষ্ঠানের খরচ বহন করেছিলেন কি না, সে সব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় তাঁর কাছে।

ইডি সূত্রে খবর, রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে ধৃত তথা তৃণমূলের বহিষ্কৃত যুবনেতা কুন্তলের সূত্র ধরেই উঠে আসে তৃণমূল যুবনেত্রী সায়নীর নাম। কুন্তলের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করার সময় সায়নীর নাম উঠে এসেছে বলে ইডি সূত্রে জানা যায়। আর সেই বিষয়েই যুব তৃণমূলের সভানেত্রীকে ইডি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর। ইডি সূত্রে এ-ও জানা যায়, সায়নীকে আয়কর জমা দেওয়ার ফাইল এবং সম্পত্তির হিসাব নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। যুবনেত্রীর যত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তার তথ্য এবং লেনদেনের নথিও নাকি আনতে বলা হয়েছিল। এর আগে কুন্তলের সঙ্গে যুবনেত্রীর একটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছিল (সেই ছবির সত্যতা আনন্দবাজার অনলাইন যাচাই করেনি)। সায়নী তখন জানিয়েছিলেন, তাঁরা দু’জনেই একই দলের সদস্য। তাই এক মঞ্চে থাকতেই পারেন। যদিও সে সময় কুন্তল তৃণমূলের সদস্য হলেও এখন তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কুন্তলের যোগসূত্র ধরেই নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে সায়নীর।

Saayoni Ghosh ED Kuntal Ghosh Recruitment Scam TMC CGO Complex
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy