Advertisement
E-Paper

ঝুঁকি এড়াতে দেড়শো দিনের মুক্তির স্বাদ

করোনা আবহে প্রায় হাজার তিনেকের বেশি সাজাপ্রাপ্ত বন্দি এবং বিচারধীন বন্দি প্যারোল এবং অর্ন্তবর্তী জামিনে তিন মাসের জন্য  মুক্তি পেয়েছেন।

প্রদীপ্তকান্তি ঘোষ

শেষ আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২০ ০৬:১০
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

করোনা সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। দীর্ঘদিন তা থেকে রাজ্যের সংশোধনাগার দূরে থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে সংক্রমণ প্রবেশ করেছে। এই পরিস্থিতিতে সংশোধনাগারে ভিড় বাড়লে তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে। তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে বন্দিদের আরও দু’মাস প্যারোল এবং অন্তর্বতী জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর পথে হাঁটছে কারা দফতর।

করোনা আবহে প্রায় হাজার তিনেকের বেশি সাজাপ্রাপ্ত বন্দি এবং বিচারধীন বন্দি প্যারোল এবং অর্ন্তবর্তী জামিনে তিন মাসের জন্য মুক্তি পেয়েছেন। এপ্রিলের গোড়া থেকে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল রাজ্যের সংশোধনাগারগুলিতে। ওই তিন মাসের সঙ্গে আরও দু’মাস যুক্ত হতে চলেছে বলে কারা দফতর সূত্রে খবর। অর্থাৎ কারাগারের বাইরে পাঁচ মাস মুক্তির স্বাদ নিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট বন্দি।

সমাজের অন্য স্তরের মতোই বঙ্গের সংশোধনাগারেও প্রভাব বিস্তার করেছে করোনা। সে ক্ষেত্রে বারুইপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার একেবারে সামনের সারিতে রয়েছে। সেখানের ১৬ জন বন্দি সংক্রমিত হয়েছেন। জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের এক সাজাপ্রাপ্ত বন্দিও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই তালিকায় যোগ হয়েছে আলিপুর মহিলা সংশোধনাগারও। সেখানকার এক মহিলা বন্দি এবং তাঁর সন্তানও করোনায় আক্রান্ত হন। বেশির ভাগই উপসর্গহীন এবং এখনও পর্যন্ত সকলের শারীরিক অবস্থা ঠিকঠাকই রয়েছে। বন্দিদের পাশাপাশি বঙ্গের একাধিক সংশোধনাগারের কর্মী-আধিকারিকেরাও আক্রান্ত হয়েছেন। তবে বসিরহাট মহকুমা সংশোধনাগারের এক কর্মীর শারীরিক অবস্থা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কারা দফতরের। ওই কর্মী উত্তর ২৪ পরগনার কদম্বগাছির কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে প্যারোল এবং অন্তর্বতী জামিনে মুক্ত থাকা বন্দিরা সংশোধনাগারে ফিরলে স্বাভাবিক ভাবেই ভিড় বাড়বে। সে কারণে ওই সব বন্দির মুক্তির মেয়াদ আরও দু’মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটল কারা দফতর। লকডাউন পর্বে অপরাধের মাত্রা কম থাকায় সংশোধনাগারে আসার সংখ্যাও কমছিল। আনলক পর্বে অবশ্য সংশোধনাগারে নানা অভিযোগে আসার সংখ্যা বাড়ছে, তা মানছেন বিভিন্ন সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। তাই তিন মাসের জন্য বাইরে থাকা বন্দিরা সংশোধনাগারে ফিরলে ভিড় স্বাভাবিক ভাবেই বাড়বে। এ রাজ্যের অনেক সংশোধনাগারে ধারণক্ষমতার থেকে অনেক বেশি বন্দি রয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি শরদ বোবডের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ জামিনে এবং প্যারোলে মুক্তি নিয়ে মার্চে নির্দেশ দিয়েছিল। প্রতি রাজ্যে সংশ্লিষ্ট ‘স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটি’ (সালসা)-এর চেয়ারম্যান, সচিব (স্বরাষ্ট্র বা কারা) এবং ডিজি (কারা)-কে নিয়ে একটি ‘উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন’ কমিটি তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। সেই মতো এ রাজ্যে ‘উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন’ কমিটি তৈরি হয়। ওই কমিটিই বন্দিদের প্যারোল এবং জামিনের জন্য সুপারিশ করেছিল।

Coronavirus Health Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy