মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে সপ্তদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার শেষ অধিবেশন। তার আগে সোমবার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে বসে কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠক। ওই বৈঠকে বিরোধী বিধায়কদের মধ্যে একমাত্র উপস্থিত ছিলেন ভাঙড়ের ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। প্রত্যাশিত ভাবেই ছিলেন না বিজেপি পরিষদীয় দলের কোনও সদস্য। শাসকদলের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক, মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, উপ-মুখ্য সচেতক দেবাশিস কুমার, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু, বিধায়ক অশোক দেব ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক প্রমুখ।
বৈঠকে অধিবেশনের প্রাথমিক সূচি চূড়ান্ত করেন স্পিকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার অধিবেশনের প্রথম দিনে প্রথামাফিক শোকপ্রস্তাব গ্রহণের পর সভা মুলতবি করা হবে। বুধবার শবে বরাত উপলক্ষে বিধানসভা বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ দিন। ওই দিন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের ভাষণের পর বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হবে। তার আগে একই দিনে বিধানসভায় বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে বাজেটের অনুমোদন নেওয়ার পরই বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ হবে।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার বিধানসভায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। সংবিধানের ১৬৯ ধারায় সরকার পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব আনবেন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। রাজনৈতিক ভাবে এই আলোচনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ অভিযোগ করেন, বিরোধী বিধায়ক বলেই এসআইআর নিয়ে তাঁর জমা দেওয়া নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। যদিও, তাঁর অভিযোগে আমল দিতে চাননি স্পিকার।
এর পর সোমবার বাজেট সংক্রান্ত সাধারণ আলোচনা এবং ‘দি ওয়েস্ট বেঙ্গল ফুড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনা হবে। যদিও আপাতত এই সূচিই চূড়ান্ত, তবে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি আবার কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকেই অধিবেশনের আগামী কয়েক দিনের কর্মসূচি চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্পিকার বিমান।