Advertisement
E-Paper

কাটতে চলেছে অনিশ্চয়তা, আধা সরকারি শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে উদ্যোগ রাজ্যের

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও ডিএ বকেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪৯
The uncertainty is set to end as the state initiates steps to clear pending Dearness Allowance (DA) dues for semi-government education staff; activity gains momentum at Bikash Bhavan

বকেয়া ডিএ মেটাতে উদ্যোগী রাজ্য। —ফাইল চিত্র।

শিক্ষাক্ষেত্রে কর্মরত আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বহুপ্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানোর প্রক্রিয়া অবশেষে শুরু হল। রাজ্যের শিক্ষা দফতরের সদর দফতর বিকাশ ভবনে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও ডিএ বকেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, কার কত ডিএ প্রাপ্য, তার হিসাবনিকাশও চলছে জোরকদমে। শুধু স্কুলস্তরেই নয়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কর্মরত শিক্ষকদের বিস্তারিত তথ্যও চেয়ে পাঠিয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতর। এর ফলে গোটা শিক্ষাক্ষেত্র জুড়েই বকেয়া ডিএ প্রদানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সময়কালের নির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মীরা কোন পদে কর্মরত ছিলেন, তাঁদের বেতন কাঠামোর ব্যান্ড পে ও অ্যাকাডেমিক গ্রেড পে কত ছিল, এবং সেই অনুযায়ী কত ডিএ প্রাপ্য—এই সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ— এই তিনটি আলাদা সময়পর্বে ভাগ করে তথ্য নেওয়া হচ্ছে, যাতে হিসাব নির্ভুল ভাবে সম্পন্ন করা যায়। এই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ ও গণনার কাজ সম্পূর্ণ হলে ‘ম্যাচিং অর্ডার’ জারি করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। এর পরই বকেয়া ডিএ প্রদানের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হবে। ফলে দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণের পথে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার, এমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Advertisement

উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত ১৫ মার্চ, বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সমাজমাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র রাজ্য সরকারি কর্মচারীই নন, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মী, স্বশাসিত সংস্থা এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও ডিএ পাওয়ার অধিকারী। তিনি আরও জানান, রোপা-২০০৯ অনুযায়ী রাজ্য সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং বিভিন্ন অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বকেয়া ডিএ ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে দেওয়া শুরু হবে। যদিও পরবর্তী কালে শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের জন্য উদ্যোগ শুরু হওয়ায় শিক্ষামহলে সংশয় তৈরি হয়েছিল।

তবে সম্প্রতি নবান্নে অর্থ দফতরের সঙ্গে শিক্ষা দফতর-সহ একাধিক সরকারি দফতরের বৈঠকের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের দাবি, এ বার আর কোনও অনিশ্চয়তা থাকবে না। সব স্তরের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীই পর্যায়ক্রমে তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া ডিএ পাবেন।

Dearness allowance DA WB State Government
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy