মধ্যমগ্রামের জোড়া খুনে তিন বাবু-র ত্রিকোণ জটের বৃত্তান্ত জানা গিয়েছিল। গিরিশ পার্কে সাব-ইনস্পেক্টরকে গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত গোপাল তিওয়ারিকে ধরতে গোয়েন্দাদের হাতিয়ার এখন তিন দিলীপ।
‘হাত-কাটা’ দিলীপ। দিলীপ সাউ। দিলীপ সোনকার। গোপালের হদিস পেতে এ বার ওই তিন দিলীপকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চলেছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা। তিন দিলীপই জোড়াসাঁকো এলাকার অস্ত্র আইনের এক মামলায় অভিযুক্ত বলে জানায় পুলিশ। সল্টলেকের নয়াপট্টিতে গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্ত, লেক টাউনের পুরনো দুষ্কৃতী ‘হাত-কাটা’ দিলীপকে ফের গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ১৮ এপ্রিল, পুরভোটের দিন গিরিশ পার্ক এলাকায় দুষ্কৃতীর ছোড়া গুলিতে জখম হন কলকাতা পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর জগন্নাথ মণ্ডল। ওই ঘটনার পিছনে বড়বাজার এলাকার দুষ্কৃতী গোপালের হাত আছে বলে তদন্তে জানতে পারেন গোয়েন্দারা। তার ঘনিষ্ঠ কয়েক জন যুবককে গ্রেফতার করতে পারলেও গোপালের নাগাল এখনও মেলেনি।
জোড়াসাঁকো থানার অস্ত্র মামলায় ১৮ মে গ্রেফতার করা হয় দিলীপ সাউকে। গোয়েন্দাদের দাবি, তাকে জেরা করে জানা যায় দিলীপ সোনকারের নাম। দিলীপ সোনকার হাওয়ালার মাধ্যমে গোপালকে টাকা পাঠাত। তাকে গ্রেফতার করে জানা যায়, হাত-কাটা দিলীপের সঙ্গে গোপালের যোগাযোগ আছে। লেক টাউনের একটি অস্ত্র মামলায় গত ২০ মে গ্রেফতার করা হয়েছিল হাত-কাটা দিলীপকে। বিধাননগর আদালত তাকে জামিন দেয় ২৪ মে। কিন্তু গোয়েন্দারা তার আগেই তাকে গ্রেফতারের আবেদন জানিয়েছিলেন আদালতে। সেই কারণে দমদম জেল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়েননি।
বুধবার দমদম সেন্ট্রাল জেল থেকে হাত-কাটা দিলীপকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তুলে তাকে ১৪ দিন নিজেদের হেফাজতে রাখার আবেদন জানান গোয়েন্দারা। সরকারি আইনজীবী শুভেন্দু ঘোষ জানান, তদন্তের স্বার্থেই অভিযুক্তকে টানা জেরা করা দরকার। হাত-কাটা দিলীপের আইনজীবী অনিন্দ্য রাউত অভিযোগ করেন, পুলিশ মিথ্যা মামলায় তাঁর মক্কেলকে ফাঁসিয়েছে। বেআইনি অস্ত্রের সঙ্গে তাঁর মক্কেলের কোনও যোগ নেই। বিচারক অঞ্জনকুমার সরকার হাত-কাটা দিলীপকে ৬ জুন পর্যন্ত পুলিশি হাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
এ দিন জোড়াসাঁকো থানার মামলায় ধৃত অন্য দুই দিলীপকেও কলকাতা পুলিশের হেফাজত থেকে আদালতে হাজির করানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। পুলিশ আবেদন জানায়, তারা হাত-কাটা দিলীপের সঙ্গে সঙ্গে তারা অন্য দুই দিলীপকেও ফের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায়। সেই অনুমতি দেওয়া হোক। এই আর্জির ভিত্তিতে বিচারক ওই দুই দিলীপকে ৩০ মে পর্যন্ত পুলিশি হাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
তদন্তকারীরা জানান, জোড়াসাঁকো থানার মামলায় জেরার মুখে দিলীপ সাউ ও দিলীপ সোনকার যে-সব তথ্য দিয়েছিল, তা তদন্তকে বিপথে চালিত করেছে। তাই ফের তাদের পুলিশি হাজতে নিয়ে জেরা করার দরকার। গোয়েন্দারা জানান, দিলীপ সোনকার জেরায় বলেছে, গোপালের সঙ্গে হাত-কাটা দিলীপের যোগাযোগ আছে। সেই কারণে একসঙ্গে তিন জনকে জেরা করা দরকার।
গিরিশ পার্কের ঘটনার তদন্তে নেমে বীরভূমে প্রচুর বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গোপাল পুরভোটের জন্য তা জোগাড় করেছিল বলে জানান গোয়েন্দারা।