Advertisement
E-Paper

আঁচল-কুঁচির ঝরা পাতায় বাজার মাত

ছোট ছোট পাতা ছড়িয়ে রয়েছে আঁচল জুড়ে। আর সারা শাড়িতে রেশম সুতোর বুনন। পাড়েও সেই রেশমের কাজ-শাড়িটা হাতে পেয়েই লাফিয়ে উঠেছিল কমলিনী। এমন শাড়ির ইচ্ছে ওর যে অনেক দিনের!

মোনালিসা ঘোষ

শেষ আপডেট: ২৩ অগস্ট ২০১৫ ০১:৫২

ছোট ছোট পাতা ছড়িয়ে রয়েছে আঁচল জুড়ে। আর সারা শাড়িতে রেশম সুতোর বুনন। পাড়েও সেই রেশমের কাজ-শাড়িটা হাতে পেয়েই লাফিয়ে উঠেছিল কমলিনী। এমন শাড়ির ইচ্ছে ওর যে অনেক দিনের! কিন্তু কলেজ যাওয়ার টাকা বাঁচিয়ে এমন শাড়ি কেনা যাবে কি? খানিকটা দ্বিধা নিয়েই দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করেছিল দামটা। হেসে দোকানদারের উত্তর ২৭০০ টাকা। লাল রঙের ‘ঝরা পাতা’ শাড়ি ব্যাগে পুরে দোকান ছেড়েছিল কমলিনী।

পুজোর আর খুব বেশি দেরি নেই। সারা বছর জিনস্-টপ, সালওয়ার-কামিজের রোজনামচার মধ্যে এই কয়েকটা দিনই তো একটু আলাদা হয়ে ওঠা। তার জন্য শাড়ি ছাড়া ভার আর কিছুই হতে পারে না। বাবা-মার সঙ্গে গিয়ে শাড়ি-জামা তো কেনাই যায়। কিন্তু হাতখরচা বাঁচিয়ে ভাল শাড়ি কেনার মজাটাই একেবারে আলাদা। এ বার পুজোয় বাজার মাতাচ্ছে কোন কোন শাড়ি?

ফুলিয়ার তাতঁ ব্যবসায়ী তপন হালদার জানালেন, প্রতি বছরের মতো এ বছর বাংলার চিরকালীন তাতেঁর চাহিদা রয়েছেই। তবে কম বয়সী মেয়েদের একটু বেশি ঝোঁক ঢাকাইয়ের দিকে। চিরাচরিত ঢাকাইয়ের পাশাপাশি এ বার পুজোয় ইন ‘সফট্ ঢাকাই।’ কেমন এই শাড়ি? তপনবাবু বলেন, ‘‘সাধারণত ঢাকাই একটু কড়কড়ে হয়। অনেকের এমন শাড়ি সামলাতে কিছুটা অসুবিধা হয়। তাই সফট্ ঢাকাই। এই ঢাকাই একেবারে হাল্কা। গায়ে জড়িয়ে থাকে।’’ বিভিন্ন রঙে মিলবে এই শাড়ি। দক্ষিণা? ৩০০০ টাকা। তবে তপনবাবুর সংযোজন, ‘‘এই ঢাকাইয়ের নকলও বেরিয়ে গিয়েছে। সেগুলো ১৫০০-২০০০-এ বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু ওই শাড়িতে কয়েক পরই সুতো সরতে থাকে। আস্তে আস্তে কাপড় ফেটে যায়। তাই একটু কাপড়টা দেখে কিনতে হবে।’’

হাওড়ার এক বুটিকের কর্ণধার জানান, ‘ঝরা পাতা’ শাড়ির এ বার পুজোয় চাহিদাও বেশ ভালো। আঁচল জুড়ে ছোট ছোট পাতা আর সারা শরীরে রেশমের চেকস। মণিপুরি কটন শাড়িও বাজারে চলছে ভালো। এই শাড়িতে সুতো দিয়ে একটানা কাজ করা রয়েছে। দাম পড়বে ২৫০০ টাকার মধ্যে। এছা়ড়া কদম শাড়িও কম বয়সীদের নজর টেনেছে ভালই। এই শাড়ির আঁচলে ছোট ছোট কদম ফুলের আকারে গিঁট ফেলা রয়েছে। সেটাকেই দেখতে লাগে কদম ফুলের মতো। এই শাড়ির দাম ১০০০ টাকার মধ্যে।

শিলিগুড়ির এক বুটিকের কর্ণধারের কথায়, ‘‘আমাদের এখানে ফুলিয়ার হাল্কা তাঁতে ভাল চাহিদা রয়েছে। সঙ্গে চলছে গামছা শাড়ি।’’ কেমন এই শাড়ি? জাল জাল বুননের এই শাড়ি খুব হাল্কা, এমনকী পুজোর পর স্কুল-কলেজের অনুষ্ঠানেও দিব্যি পরা যায় এই শাড়ি।’’ দাম ১০০০ টাকার মধ্যে। বারাসাতের এক শাড়ি ব্যবসায়ী জানালেন, প্রতি বছরের মতো এ বারও কম বয়সীদের জন্য সিফন রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘নানা রঙের সিফন টিনএজার বা কলেজ পড়ুয়াদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। এই শাড়ি ১৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকা অবধি পাওয়া যায়। যেমন গুণগত মান হবে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দাম।’’

মেদিনীপুরের দোকানে মায়ের সঙ্গে শাড়ি কিনতে এসেছিল কলেজ পড়ুয়া শ্রেয়সী। হেসে বলে, ‘‘মা শাড়ি কিনে দেয়। তবে এ বার আমি নিজে টাকা জমিয়ে শাড়ি কিনেছি।’’ বলেই ব্যাগ থেকে করে দেখায় লাল রঙের একটা সফট্ ঢাকাই। প্রথম শাড়ি কেনার আনন্দে তার গালও তখন শাড়ির মতোই রাঙা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy