Advertisement
E-Paper

গুলি চলা নিয়ে মন্ত্রী-পুলিশ দ্বন্দ্ব

বাগদায় জনরোষ সামলাতে গিয়ে পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলে স্বীকার করেনি। অথচ, রাজ্যের এক মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক উপেন বিশ্বাস সোমবার এলাকায় গিয়ে বললেন, ‘‘মহিলারা আমাকে গুলির খোল দেখিয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ গুলি চালিয়েছিল।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০১৫ ০৩:৩২
বাগদার ট্যাকেরহাট গ্রামে মহিলাদের সঙ্গে কথা বলছেন মন্ত্রী উপেন বিশ্বাস। ছবি: নির্মাল্য প্রামাণিক

বাগদার ট্যাকেরহাট গ্রামে মহিলাদের সঙ্গে কথা বলছেন মন্ত্রী উপেন বিশ্বাস। ছবি: নির্মাল্য প্রামাণিক

বাগদায় জনরোষ সামলাতে গিয়ে পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলে স্বীকার করেনি। অথচ, রাজ্যের এক মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক উপেন বিশ্বাস সোমবার এলাকায় গিয়ে বললেন, ‘‘মহিলারা আমাকে গুলির খোল দেখিয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ গুলি চালিয়েছিল।’’ এললাকায় পুলিশের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ আছে, তা নিয়ে উপেনবাবু জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে লিখিত রিপোর্ট দেবেন বলে উপেনবাবুর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানানো হয়েছে।

ঊষা বৈরাগী নামে এক মহিলার আত্মহত্যার ঘটনাকে ঘিরে রবিবার দুপুরের পর থেকে তুলকালাম বাধে বাগদার ভবানীপুর এলাকায়। লাঠিসোঁটা, ঢিল-পাটকেল নিয়ে জনতা তাড়া করে পুলিশকে। প্রায় দু’কিলোমিটার ছুটে কোনও রকমে পিঠ বাঁচায় পুলিশ। তা-ও জনতার হামলায় জখম হন জনা দশেক পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ার। পুলিশের বিরুদ্ধে পাল্টা মারধরের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় মানুষজন। কয়েকজন গ্রামবাসীও পুলিশের মারে জখম হয়েছেন বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি সামাল দিতে একটা সময়ের পরে ঘুরে দাঁড়ায় পুলিশ। সে সময়ে তারা শূন্যে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কেউ অবশ্য হতাহত হয়নি। গুলি চালানোর কথা স্বীকারও করেননি জেলা পুলিশ কর্তারা।

Advertisement

বাগদা এলাকাটি রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ মন্ত্রী উপেন বিশ্বাসের বিধানসভা কেন্দ্র। মন্ত্রী সোমবার আসেন এলাকায়। কথা বলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। তাঁর সামনে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মহিলারা। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে ক্ষোভ-বিক্ষোভের কথা ধৈর্য ধরে শোনেন মন্ত্রী। কিছু কিছু নোটও নেন। গ্রামের মহিলারা মন্ত্রীকে বলেন, বাগদা থানায় যে এএসআইয়ের সামনে ঊষাদেবীকে অপমান করেছিল প্রতিবেশী পবিত্র কাঞ্জিলাল ও তার পরিবার, সেই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পবিত্রকে জনতার মারধর থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু তারপর থেকে আর খোঁজ নেই ওই ব্যক্তির। তার স্ত্রী-ছেলেকে গ্রেফতার করা হলেও পবিত্রকেও যত দ্রুত সম্ভব ধরতে হবে। বাগদার ওসি প্রসূণ মিত্রের ভূমিকাতেও অসন্তুষ্ট এলাকার মানুষজন। তাঁকে বদলির দাবি উঠেছে। মহিলাদের ক্ষোভ, ঊষাদেবীর মৃত্যুর সুবিচার তাঁরা পাননি। উল্টে প্রতিবাদ দেখাতে গেলে পুলিশই আক্রমণ করেছে। একটি খালি বুলেটের খোলও দেখানো হয় মন্ত্রীকে। পুলিশকে তাঁরা আক্রমণ করেননি বলে মন্ত্রীর সামনে দাবি করেছেন স্থানীয় মানুষজন।

এ দিন ঊষাদেবীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্বামী সুনীলের সঙ্গেও কথা বলেছেন উপেনবাবু। পরিবারটিকে তিনি বলেন, ‘‘তোমরা যাতে ন্যায় বিচার পাও, সে বিষয়ে আমি পদক্ষেপ করব।’’ মন্ত্রী কয়েকজন মহিলাদের মোবাইল নম্বর টুকে নিয়েছেন। তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন, ‘‘আমি তোমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখব।’’ মন্ত্রী পরে বলেন, ‘‘মহিলাদের অভিযোগগুলি নির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা যাতে সুবিচার পান, সেই বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে গোটা বিষয়টি জানিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের কথা বলব।’’

এ দিকে, পুলিশের উপরে হামলার ঘটনায় সোমবার স্থানীয় তৃণমূল নেত্রী মাধুরী সরকার-সহ ২০ জনের বিরুদ্ধে নিজে থেকেই মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরুণ হালদার জানিয়েছেন, বেআইনি জমায়েত, পুলিশের উপরে হামলা, প্রাণে মারার চেষ্টা-সহ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।’’ গ্রামবাসীদের তোলা অভিযোগ প্রসঙ্গে ওই পুলিশকর্তার বক্তব্য, মূল অভিযুক্তের খোঁজ চলছে। পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy