Advertisement
E-Paper

জলদি জবাব

আপনার প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কৌশিক ব্রহ্মচারী।কন্দ ও কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা লেগেছে গাছে। এক্ষেত্রে রাসায়নিক ওষুধ (কার্বোফিউরন থ্রি জি বা কার্টাপ ফোর জি) দিতে পারেন। কিন্তু এই সমস্ত ওষুধ বা আপনি যা দিয়েছেন, তার বিষক্রিয়া রয়ে যায় ৬ সপ্তাহের বেশি। ফলন্ত গাছ হলে রাসায়নিক ওষুধ না দেওয়াই ভাল।

শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০১৫ ০১:০২

• আমার একটা কলাবাগান আছে (চাঁপা কলা, কাঁঠালি কলা)। এখন ব়ড় বড় ফলন্ত গাছগুলো ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। কেটে দেখছি ভিতরে কালো পোকা আর তার লার্ভায় খেয়ে গিয়েছে সব। থায়োমেট ১০ গ্রাম ও প্রফেনফস দিয়ে লাভ হয়নি। কী ওষুধ দেব?

গুরুপদ মল্লিক, দার্জিলিং

Advertisement

কন্দ ও কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা লেগেছে গাছে। এক্ষেত্রে রাসায়নিক ওষুধ (কার্বোফিউরন থ্রি জি বা কার্টাপ ফোর জি) দিতে পারেন। কিন্তু এই সমস্ত ওষুধ বা আপনি যা দিয়েছেন, তার বিষক্রিয়া রয়ে যায় ৬ সপ্তাহের বেশি। ফলন্ত গাছ হলে রাসায়নিক ওষুধ না দেওয়াই ভাল। বরং একটা টোটকা করে দেখুন। আর প্রয়োজনীয়তা নেই এমন কলাগাছের (কাঁদি কেটে নেওয়া হয়েছে বা ভেঙে পড়েছে) কাণ্ড উপর-নীচে কিছুটা বাদ দিয়ে এক হাত করে কেটে নিন। এরপর মাঝ বরাবর ফালি করে কাটুন। অর্ধবৃত্তাকার ওই সিলিন্ডারগুলি কলাবাগানের বিভিন্ন জায়গায় উপুড় করে রেখে দিন। কাটা অংশটা মাটির সঙ্গে লেগে থাকবে, কিন্তু একেবারে নয়। মাঝে দু’একটা মাটির ঢেলা দিয়ে এক ইঞ্চির মতো ফাঁকা রাখতে হবে। রাতভর ওই ভাবে রাখলে রসের টানে পূর্ণাঙ্গ পোকাগুলো কলাগাছ থেকে বেরিয়ে মাটিতে ফেলে রাখা কাণ্ডে আশ্রয় নেবে। পরদিন ভোরে কাণ্ডগুলো তুলে বেশ কিছুটা দূরে নিয়ে গিয়ে পোকাগুলো ঝেড়ে ফেলুন। এরপর কেরোসিন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিন।

• বছর পঁচিশেক আগে আমার কাকা লিচুর আঁটি ফেলে একটি চারাগাছ করেছিলেন। পরে সেটি তুলে বাগানে বসাই। গাছ এখন খুব বড়। শাখা-প্রশাখায় ভরা। ভরা সবুজ পাতায়। কিন্তু লিচুর দেখা নেই। আমার প্রশ্ন, আর কী লিচু হবে না?

এদিকে, মাস চারেক হল বাজার থেকে কলম কাটা এক লিচু গাছ এনে মাটিতে বসাই। গাছটি বাড়ছে। কিন্তু এর পরিচর্যা করব কী ভাবে জানা নেই। জানালে ভাল হয়।

দীপঙ্কর মান্না, চাকপোতা, আমতা, হাওড়া

অধৈর্য হবেন না। আঁটির গাছ আর কলমের গাছের পার্থক্যটা বুঝুন। শৈশব দশা না পেরোলে আঁটির গাছে ফুল-ফল আসে না। পরিণত অবস্থা কবে আসবে সেটা গাছের জিনগত বৈশিষ্ট্য। ২০ বছর হতে পারে, ৩০ও হতে পারে। কলমের গাছে এই সময়টা লাগে না, কারণ যে গাছ থেকে কলম করা হয়, সেটি পরিণত থাকে। তাই অপেক্ষা করুন। পরিচর্যা নিন। রোগগ্রস্ত, শুকিয়ে যাওয়া ডালপালা তেরচা ভাবে ছেঁটে দিন। কাটা অংশে কপার অক্সিক্লোরাইড ৫০% ডব্লিউপি-এর প্রলেপ দিলে পচন রোধ হবে। তলাটা পরিষ্কার করে গাছ পিছু ৫০ কেজি গোবর অথবা ২৫ কেজি জৈব সার, দু’কেজি বাদাম খোল, ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া, দু’কেজি সিঙ্গল সুপার ফসফেট, ৪০০ গ্রাম মিউরিয়েট অফ পটাশ, ৫০ গ্রাম বোরাক্স, ৫০ গ্রাম জিঙ্ক সালফেট, ২২ গ্রাম মলিবডিনাম একসঙ্গে প্রয়োগ করুন।

কলমের যে গাছটি কিনে এনেছেন তাতেও বর্ষার আগে (কালবৈশাখীর পর) ও পরে (এই সময়টা) সার দিতে হবে। এটির বয়স এক বছর না হওয়া পর্যন্ত ১০ কেজি জৈব সার, ১১০ গ্রাম ইউরিয়া, দেড়শো গ্রাম সিঙ্গল সুপার ফসফেট, ৪০ গ্রাম মিউরিয়েট অফ পটাশ প্রয়োগ করুন। এরপর বয়স যত বাড়বে তত দিয়ে গুণ করে বাড়বে সারের পরিমাণ। গাছে ফল চলে এলে আর পরিমাণ বাড়াতে হবে না।

চাষের দিশা, আনন্দবাজার পত্রিকা, ৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা ৭০০০০১। district@abp.in

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy