Advertisement
E-Paper

জলপাইগুড়ির স্কুলে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল বিলি নিয়ে অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর-সহ তুলকালাম কাণ্ড ঘটল বৃহস্পতিবার। জলপাইগুড়ির রানিনগর রবীন্দ্রনাথ হাই স্কুলে এই ঘটনায় দুই পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:১২
জলপাইগুড়ি হাসপাতালে আহত পুলিশকর্মী। নিজস্ব চিত্র।

জলপাইগুড়ি হাসপাতালে আহত পুলিশকর্মী। নিজস্ব চিত্র।

স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল বিলি নিয়ে অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর-সহ তুলকালাম কাণ্ড ঘটল বৃহস্পতিবার। জলপাইগুড়ির রানিনগর রবীন্দ্রনাথ হাই স্কুলে এই ঘটনায় দুই পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।

স্কুলটিতে এ দিন সাইকেল বিলি করার কথা ছিল। কিন্তু দিনভর অপেক্ষা করেও সাইকেল না মেলায় ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। বিকেলের দিকে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে এক ছাত্রকে চড় মেরেছে বলে অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে হইচই বাঁধে। সে সময় এক শিক্ষককেও পুলিশ লাঠি দিয়ে মারলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজিত জনতা পুলিশের দু’টি গাড়ি লক্ষ করে পাথর ছুড়তে থাকে। একটি গাড়ি ভাঙচুর করে উল্টে দেয়। তাতে দু’জন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। সন্ধের মুখে ছাত্রছাত্রী শিক্ষকরাও স্কুল থেকে চলে যান। পরে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার আকাশ মেঘারিয়া বিরাট পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। প্রধান শিক্ষিকা মৌসুমী দত্তকে বারবার ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরতে চাননি। পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে উল্টে দেওয়া হয়। দু’জন সাব ইন্সপেক্টর জখম হন। এক জনের মাথা ফেটে গিয়েছে। তাঁকে জলপাইগুড়ি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় একটি মামলাও রুজু করা হয়েছে।’’ পুলিশ সুপারের দাবি, পুলিশ ছাত্রদের কাউকে চড় মারেনি বা কোনও শিক্ষকের উপর লাঠি চালায়নি।

স্কুল এবং পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে প্রধান শিক্ষিকা একটি নোটিস দিয়ে জানান বৃহস্পতিবার স্থানীয় বেলাকোবা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস থেকে সাইকেল বিলি করা হবে। সেই মতো ৪৮৭ জন ছাত্রছাত্রীকে সাইকেল বিলি করা হবে বলে ঠিক ছিল। শিক্ষকেরা সাইকেল বিলির জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত গেলে সাইকেল বিলি শুরু হবে। স্কুল থেকে অন্তত ৬ কিলোমিটার দূরে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে সেই মতো একাংশ ছাত্রছাত্রী গেলেও অপর অংশ যেতে চাননি। তাদের দাবি, তারা অন্য কোথাও যাবেন না। স্কুল থেকেই সাইকেল বিলি করতে হবে দাবি করেন। সে কারণে শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও তারা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে যেতে বাধা দেন। তাতে ওই শিক্ষকেরা সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত-ও যেতে পারেননি। প্রধান শিক্ষিকা জরুরি বৈঠকে জলপাইগুড়ি শহরে গিয়েছিলেন। ছাত্রছাত্রীর একাংশের দাবি, ফোনে তারা প্রধান শিক্ষিকাকে বিষয়টি জানালে তিনি আশ্বাস দেন সাইকেলগুলি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস থেকে স্কুলে আনিয়ে সেখান থেকেই বিলি করার ব্যবস্থা করবেন। এর আগেও সাইকেল দেওয়ার কথা থাকলে তা দেওয়া হচ্ছিল না, বলে অভিযোগ। গত ৮ ডিসেম্বর একবার সাইকেল দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ৪৮৭ টার মধ্যে মাত্র ১৮২ টি সাইকেল ব্লক অফিস থেকে দেওয়া যাচ্ছে জানালে সে সময় বিলি করা হয়নি। তাই এ দিন ছাত্রছাত্রীদের একাংশ সরব হয়, যত দেরিই হোক তারা সাইকেল নিয়েই যাবেন।

Advertisement

সেই মতো সাইকেলগুলি স্কুলে আনার ব্যবস্থা করা হয়। বেলা দেড়টা নাগাদ স্কুলে সাইকেল আনা শুরু হয়। একটি গাড়িতে করে প্রতিবার ৬৪টি করে সাইকেল আনা হচ্ছিল। বেলা ৩টে নাগাদ পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ যায়। এ দিন সাইকেল নিয়ে আসতে সময় লাগবে দেখে পুলিশ ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি চলে যেতে বোঝায় বলে অভিযোগ। কিন্তু পড়ুয়াদের একাংশ তা না মানতে চাইলে পুলিশ একজনকে চড় মারে বলে অভিযোগ। তা নিয়ে হইচই হচ্ছে দেখলে শিক্ষকদের অনেকে এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করেন। তাঁরা পুলিশকে সরে দাঁড়াতে বলেন। সেই সময় এক শিক্ষককে পুলিশ লাঠি দিয়ে মারলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এলাকার লোকজন ততক্ষণে ভিড় জমিয়েছিল। উত্তেজিত জনতা এর পর পুলিশের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। পুলিশের গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। পুলিশের সামনেই একটি গাড়ি উল্টে দেওয়া হয়।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy