‘শাবাস লালু!’
টিভির পর্দায় চোখ রেখে স্বামীকে এ ভাবে চিৎকার করতে দেখে তড়িঘড়ি পাশের ঘর থেকে ছুটে এসেছিলেন অনিমা মালাকার। স্বামীর কাণ্ড দেখে রীতিমতো ঝাঁঝিয়ে উঠেছিলেন, ‘‘বুড়ো বয়সে এ বার মাথাটাও গেল নাকি? ভরদুপুরে নিজেই নিজেকে এত শাবাস দেওয়া কীসের!’’
করিমপুর রামকৃষ্ণপল্লির জীবন মালাকারের তখন অবশ্য স্ত্রীর কথা কানেই ঢুকছে না। বিহার ভোটের ফলাফলের পরে টিভির স্ক্রিন জুড়ে রীতিমতো রাজ করেছেন লালুপ্রসাদ যাদব! রবিবার দুপুরে বছর বাষট্টির জীবনবাবু উচ্ছ্বসিত হয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে ঘোষণা করে দিলেন, ‘‘আরজেডি প্রধানের একার নয়, এ জয় করিমপুরের লালুপ্রসাদেরও। আজ বিকেলে পাড়ার ছেলেপুলেদের জন্য চপ-পেঁয়াজি এক্কেবারে ফ্রি।’’ জীবনবাবু কথাও রেখেছেন। তবে সে ‘অফার’ ছিল সীমিত সময়ের জন্য।
ততক্ষণে অবশ্য অনিমাদেবীও স্বামীর উচ্ছ্বাসের কারণ বুঝে গিয়েছেন। লালুচিত মেজাজ দেখে মুচকি হেসে আলমারি থেকে নতুন পাজামা-পাঞ্জাবিটাও বের করে দিয়েছিলেন। তুরীয় মেজাজে সেটা পরেই বাসস্ট্যান্ডে বসে আলুর চপ, পেঁয়াজি, ভেজ পকোড়া বিক্রি করেছেন করিমপুরের লালুপ্রসাদ!
আজ্ঞে হ্যাঁ, চুলের স্টাইল, মুখের গড়ন, হাবভাব, রসিকতা করে কথা বলা—সব মিলিয়ে জীবনবাবুকে এই নামেই ডাকেন করিমপুর ও আশপাশের এলাকার লোকজন। জীবনবাবু নিজেও তাঁর চপের দোকানে লিখে রেখেছেন ‘নকল লালুপ্রসাদের চপ’। জীবনবাবুর দাবি, বছর কয়েক আগে বিহারে গিয়ে আসল লালুপ্রসাদের সঙ্গেও তিনি দেখা করেছেন।
‘‘গুরুর সঙ্গে দেখা করেছি। বিস্তর অনুষ্ঠানে লালুপ্রসাদ সেজে পুরস্কারও পেয়েছি। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কমছে মাথার সাদা চুলও। আর কতদিন লালুপ্রসাদ থাকতে পারব কে জানে!’’ সন্ধ্যার ভিড়ে ক্রেতাদের অভিনন্দন কুড়োতে কুড়োতে কিঞ্চিত বিষন্নতাও ঝরে পড়ে লালুপ্রসাদের গলায়।