Advertisement
E-Paper

দক্ষিণের কড়চা

কেউ গান লেখে, সুর করে, কেউ গিটার বাজায় কেউ বা ড্রাম। গান পাগল ছয় বন্ধু। সেই ছোট থেকেই জীবনমুখী ও ব্যান্ডের গান মাতিয়ে দিত চিরন্তন, কৌশিক, প্রলয়, রুদ্রদীপ, স্বপ্নদীপ ও ঋদ্ধিদের। তাই স্কুলেই ঠিক হয়, নিজেরাই বাংলা রকব্যান্ড তৈরি করবেন তাঁরা।

শেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:৩৫

রকের সুরে বন্ধুতা

কেউ গান লেখে, সুর করে, কেউ গিটার বাজায় কেউ বা ড্রাম। গান পাগল ছয় বন্ধু। সেই ছোট থেকেই জীবনমুখী ও ব্যান্ডের গান মাতিয়ে দিত চিরন্তন, কৌশিক, প্রলয়, রুদ্রদীপ, স্বপ্নদীপ ও ঋদ্ধিদের। তাই স্কুলেই ঠিক হয়, নিজেরাই বাংলা রকব্যান্ড তৈরি করবেন তাঁরা। সিউড়ি জেলা স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়তে পড়তেই তৈরি হয়েছিল ব্যান্ড, জানাচ্ছেন ‘হাইড্রোজেন’-এর সদস্যরা। সালটা ২০০৯। প্রথম স্টেজ শো ব্যান্ড গড়ার ঠিক দু’বছর পর। তখন সকলেই একাদশে। তার পরে কেটেছে চারটে বছর। স্কুল ছাড়িয়ে সকলেই এখন স্নাতক স্তরের পড়ুয়া। ছড়িয়ে আছেন নানা কলেজে। কিন্তু তাতে গানের চর্চা থেমে থাকে নি। বন্ধুরা প্রতি রবিবার মিলিত হয়ে চলে রেওয়াজ। তবে দল বহরে একটু বেড়েছে। ছ’জনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সপ্তম সদস্য, বয়সে একটু ছোট আকাশ দত্ত। আকাশ বাজান লিড গিটার। ‘‘তাতে সম্বৃদ্ধ হয়েছে দল’’, বলছেন ওই গান লেখা, সুর করা ও গাওয়ায় যাঁর মুখ্য ভূমিকা, সেই চিরন্তন দে। দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, পথটা মোটেই সহজ ছিল না। ‘রকগান’ বললেই নাকি বিস্তর চেঁচামেচি-হৈ হট্টগোলের একটা ব্যাপার থাকে, এমনই ধারণা ছিল অভিভাবকদের অনেকের।

তবে গানে শব্দ প্রয়োগ দেখে, গান শুনে এখন অভিভাবক আত্মীয় বন্ধু সকলেই সমর্থন করছেন হাইড্রোজেনকে। পাশে পেয়েছেন একঝাঁক সমমনস্ক বন্ধুদেরও। মূলত তাঁদের সাহায্যে-সমর্থনেই সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে সিউড়ির সিধো কানহু মঞ্চে রক ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করেছে তরুণদের ওই ব্যান্ড। দলের অপর এক লিড গিটারিস্ট কৌশিক মণ্ডল জানাচ্ছেন, সেপ্টেম্বরের প্রতিটি রবিবার জুড়ে হবে অনুষ্ঠান। থাকবে আয়োজক দলের বাইরে শহরের ও বাইরের নতুন ব্যান্ড। একঝাঁক তরুণ-প্রাণের সুর নাড়া দেবে শহরকে। রকগান মিশে যাবে প্রাক-আশ্বিনের আকাশে। গানের সুরে বন্ধুতায় বাঁধা পড়বে সকলেই।

Advertisement

ক্যানভাসে জঙ্গলমহল

কেমন আছে বেলপাহাড়ির কাঁকড়াঝোর কিংবা আমলাশোল? ক্ষমতার পালাবদলের পরে জঙ্গলমহল জুড়ে উন্নয়নের ছড়াছড়ির দাবি। বহিরঙ্গে বদল হয়েছে অনেকটাই। দু’টাকা কিলো দরে চাল পেয়ে মানুষের দৈনন্দিন অভাবও কিছুটা মিটেছে। কিন্তু, পরিবর্তন কতটা হয়েছে? জঙ্গলমহলের তরুণ শিল্পী সোমনাথ ঘর খুঁজেছেন তাঁর আঁকা দু’টি ছবিতে। বেঙ্গল ফাইন আর্টস্‌ কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র বছর চব্বিশের সোমনাথ আউটডোর স্টাডিতে গিয়ে জঙ্গলমহলের বেশ কিছু ছবি এঁকেছেন। দু’টি ছবি ‘অল ইন্ডিয়া ফাইন আর্টস্‌ অ্যাসোসিয়েশনে’র প্রদর্শনীতে মনোনীত হয়েছে। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতীয় জাদুঘরের আশুতোষ গ্যালারিতে শুরু হয়েছে প্রবীণ ও নবীন শিল্পীদের আঁকা পাঁচ দিনের ছবির প্রদর্শনী। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৪৪তম জন্মোত্‌সব উপলক্ষে আয়োজিত প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিল্পী রামানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমনাথের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের শিলদায়। একটি ছবি জলরঙে আঁকা বেলপাহাড়ির কাঁকড়াঝোর গ্রামের। আদিবাসী পাড়ার বাড়িগুলি মাটির, তবে বিদ্যুৎ এসেছে। অন্য একটি আমলাশোল নিয়ে। বসে রয়েছেন এক প্রৌঢ়। সোমনাথের কথায়, “এলাকায় গিয়ে প্রান্তিক গরিব মানুষগুলির জীবনযাত্রার যে ছবি চোখে দেখেছি, সেটাই রং-তুলিতে ফুটিয়ে তুলেছি।’’

নীর-বাগানে

বাগান থেকে তুলে আনা রঙ্গন, বেল, জুঁই, আর বিভিন্ন গাছের পাতাতেই তৈরি হয় রাখি। বসন্ত উৎসবের আবীরও তৈরি হয় বাগানের ফুল থেকে। এ ভাবেই তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাড়ির বাগানেই রাখি-উৎসব পালন করেন শ্রীরামপুর বড়বাগানের স্বপ্না ঘোষাল। উৎসব শেষে থাকে জলখাবারের আয়োজন। শুরুটা ১৯৮২ সালে। রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী স্বপ্না তৈরি করেন ‘উন্মেষ গোষ্ঠী’। ফি-বছর রবীন্দ্রজন্মোৎসব, বসন্ত উৎসব আর রাখি পূর্ণিমায় নাচ, গান, আবৃত্তিতে ভরপুর হয়ে ওঠে স্বপ্নার বাড়ি, ‘নিশানীর’। স্বপ্নাদেবী জানান, এ বার গোষ্ঠীরই সদস্য, পঞ্চতপা’র তৈরি কড়ি আর ধানের তৈরি রাখি সকলের নজর কেড়েছে।

গুপ্ত-রব

‘গীতাঞ্জলি’ হাতে নিয়ে ছেলেটির কবি হওয়া শুরু। শেষমেশ যদিও সে আঁকড়ে ধরতে চেয়েছে রবীন্দ্র-দর্শন— জম্মুর যুবক লাকিজি গুপ্তর ‘মা মুঝে টেগর বনা দে’ এ বার গোটা দেশ ঘুরে বাংলার রঙ্গমঞ্চেও। সৌজন্যে হাবরার নান্দনিক নাট্য সংস্থার উৎসব। উৎসবে সংস্থার তরফে মঞ্চস্থ করা হয় ‘গুপ্তধন’। নির্দেশনায় দেবব্রত দাস। সংস্থার তরফে ঊর্ণাব্রতী সেন বলেন, ‘‘উৎসব এ বার পঞ্চম বর্ষে পড়ল। কেন্দ্রের সংস্কৃতি মন্ত্রকের আর্থিক সহায়তায় পরিবেশিত ‘গুপ্তধন’ নাটকে মোট ১৩ জন সদস্য অভিনয় করেন।’’ কোনও প্রবেশ মূল্য ছিল না। প্রায় ৫০০ জন মানুষ এসেছিলেন বলে উদ্যোক্তাদের দাবি।

বাউল মেলা

তেরো বছর আগে কয়েকজন বন্ধু, বাউল শিল্পী আর পাড়া-পড়শিকে নিয়ে জলঙ্গি নদীর ধারে, করিমপুরে মেলার শুরু। সেই বাউল-ফকির মেলা এখন লোক গবেষকদের আনাগোনা আর ভেসে আসা লালনের সুরে মাতোয়ারা। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আনন্দপল্লি আনন্দপীঠ শ্মশান চত্বরে বসে মেলা। অন্ধ বাউল শিল্পী মদনগোপাল দাসের উদ্যোগ মনে রেখে এ বারও শুরু হয়েছে চারদিনের মেলা। শেষ হবে বুধবার। রবিবারের সকালে ছিল গীতা পাঠের আসর। এ বার গান শোনাতে এসেছেন গৌড়ভাঙার মনসুরা ফকির, জগন্নাথ দাস বাউল, হাঁসখালির ধীরেন দাস বাউল, নবদ্বীপের নারান দাস বাউল প্রমুখ।

উল্টো-পাঠক

‘নাচছে বুড়ো উল্টোমাথায়...!’— সুকুমার রায়ের ‘নাচের বাতিকে’র মানুষটিকে মনে পড়তে পারে রাজপুরের ব্রজলাল বিশ্বাসকে দেখলে। সকালবেলায় সকলের মতো তিনিও উতলা হন খবরের কাগজের জন্য। কিন্তু কাগজ ধরতেই আওয়াজ আসে, ‘দাদা উল্টো দিকে যে।’ একটু হেসে রাজপুরের ব্রজলালবাবু ফের নজর দেন কাগজে। তিনি জানান, ছোট থেকে বই, দরকারি কাগজপত্র— সবকিছুই উল্টো করে পড়া অভ্যাস। এক গপ্পো শোনান তিনি। একবার দিঘায় ব্রজলালবাবুকে উল্টো দিকে ধরে কাগজ পড়তে দেখে হাসির রোল ওঠে। গড়গড়িয়ে ‘উল্টো’ কাগজ পড়তেই তাক লাগে পর্যটকদেরও।

পিয়ানোর টুং টাং

সারা দিন কী টুং টাং করিস, দু’টো হিন্দি গান বাজালেও তো পারিস— আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সকলের থেকে এই কথাটা শুনে শুনে বড় হচ্ছিল সদ্য কিশোরটি। কিন্তু তত দিনে পেয়ে বসেছে বাখ, মোজার্ট, বিটোভনদের সুরের জাদু। বারাসতের মতো মফ্‌সসল অঞ্চলে বেড়ে ওঠা বিশ্বজিৎ সমাদ্দারের পক্ষে পিয়ানোয় ওয়েস্টার্ন ক্ল্যাসিক্যাল সঙ্গীতের শিক্ষাটা তাই শুরু থেকে ছিল বেশ কঠিন। কিন্তু বছর দ’শেক বয়সে ধ্রুপদ-ধামারের শিক্ষা বন্ধ করতে হয়েছিল গলার সমস্যায়। হীরক শাঁখারি নামে এক সঙ্গীত শিল্পী পরামর্শ দিয়েছিলেন পিয়ানো শেখার। সেই শুরু। স্কুলের পরে কলকাতায় উজিয়ে যেতে হতো পিয়ানোর ক্লাস করতে। প্রণব ঘোষের কাছে বছর দু’য়েক তালিম নেওয়ার পরে খোঁজ পান শ্যাম ইঞ্জিনিয়ার নামে এক পার্সি পিয়ানো বাদকের। তাঁর কাছেই তেরো বছর নাড়া বেঁধে পড়েছিলেন বিশ্বজিৎবাবু। সেটা নব্বই দশকের শুরুর দিক। তখনও ইন্টারনেট ঘাঁটলেই ওয়েস্টার্ন ক্ল্যাসিক্যাল সঙ্গীত শোনার সময় আসেনি। ম্যাক্সমুলার ভবনে যেতে হতো শুধু বাজনা শুনতে। সেখান থেকে বাড়িতে শোনার জন্য দেওয়া হতো দু’টি করে ক্যাসেট। তাই নিয়েই শেষ ট্রেন ধরে বিশ্বজিৎ ফিরতেন মফস্‌সলের বাড়িতে। কিছু দিন ভাড়া নেওয়া পিয়ানোয় কাজ চালানোর পরে টাকা জমিয়ে কেনেন নিজের পিয়ানো। পরিবারের বাকিদের পাশে না পেলেও ভাইয়ের বাজনার শখ মেটানোর যাবতীয় খরচ-খরচার ভার প্রাথমিক ভাবে তুলে নিয়েছিলেন দাদা রণবীরবাবু। এখন কলকাতার বেশ কয়েকটি নামী স্কুলে পিয়ানো শেখান বিশ্বজিৎবাবু। তাঁর আক্ষেপ, বারাসত অঞ্চলে এখনও পিয়ানোয় ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল মিউজিক শেখার ছাত্র প্রায় মেলে না বললেই চলে। বেশির ভাগই চায় চায় কি-বোর্ডে হিন্দি গানের সুর বাজাতে।

এই সপ্তাহে

অনুষ্ঠান, যা হয়ে গেল:

সেকেন্দারপুর হাইস্কুল, হুগলি: ৫ সেপ্টেম্বর। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সদ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ড: এপিজে আব্দুল কালামের জীবন নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করেন স্কুলের গ্রন্থাগারিক শ্রী সৈকত রায়। অনুষ্ঠানটির পরিচালনায় রয়েছেন শ্রী সমর রায়।

রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়, নদিয়া: ৫ সেপ্টেম্বর, সকাল সাড়ে ১১টা। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে নদিয়ার সর্ব প্রথম আর্ট গ্যালারির দ্বারোদ্ঘাটন। আর্ট গ্যালারিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাস্কর শ্রী গৌতম পাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক অরুণ ভট্টাচার্য।

অনুষ্ঠান, যা হবে:

পীতাম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমতা: ২০ সেপ্টেম্বর, বিকেল ৪টে। বিপ্লবী বাঘাযতীনের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ক্যুইজ। আয়োজক: ‘শত ফুল বিকশিত হোক’: ভাবনা।

জয়শ্রী আর্ট সেন্টার, পুরুলিয়া: ১৭ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর, সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা। ছবির প্রদর্শনী। আয়োজক: আশীষ নন্দী।

দিঘরি হাইস্কুল (উচ্চ মাধ্যমিক), ধুলিয়ান: ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর। ছবি প্রদর্শনী, বিজ্ঞান বিষয়ক প্রদর্শনী এবং বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আয়োজক: কুন্তল চাকি।

নিজের এলাকার সংস্কৃতির খবর দিন আমাদের। ই-মেল করুন district@abp.in-এ। সাবজেক্টে লিখবেন ‘দক্ষিণের কড়চা’।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy