এফআইআর-এ কারও নাম নেই। টিআই প্যারেডে তাঁদের শনাক্ত করেননি অভিযোগকারী। পুলিশ যেমন জোরালো কোনও তথ্য-প্রমাণ আদালতের সামনে রাখতে পারেনি, তেমনই বিরোধিতা আসেনি সরকারি আইনজীবীর দিক থেকেও। মঙ্গলবার তাই সহজেই জামিন পেয়ে গেলেন বীরভূমের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম)-কে নিগ্রহের অভিযোগে ধৃত সিউড়ি শহরের একটি ক্লাবের পাঁচ সদস্য। সরকারি আইনজীবী কুন্তল চট্টোপাধ্যায় জানান, ব্যক্তিগত দু’হাজার টাকার বন্ডে পাঁচ জনকেই জামিন দেন সিউড়ি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোৎস্না রায়। তবে, আগামী ৮ ডিসেম্বর তাঁদের ফের আদালতে হাজিরা দিতে হবে।
গত ৮ নভেম্বর রাতে সিউড়িতে জেলা তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে কালীপুজোর চাঁদা আদায়ের নামে বীরভূমের সিজেএম ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়ের গাড়ি আটকে তাঁকে ও তাঁর নিরাপত্তা রক্ষীকে মারধর ও হেনস্থা করেন কয়েক জন চাঁদা আদায়কারী। তৃণমূল অফিসের কাছে থাকা একটি ক্লাবের কিছু সদস্যের দিকেই এই ঘটনায় অভিযোগের তির ছিল। পরের দিনই কালীপুজো উদ্যোক্তাদের মণ্ডপ নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ডেকোরেটর মালিক এবং তাঁর তিন সহকারী-সহ চার স্কুল-কলেজের পড়ুয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ক্লাব উদ্যোক্তাদের বাদ দিয়ে কেন মণ্ডপ নির্মাণের দায়িত্বে থাকা লোকেদের ধরা হল, তখনই এই প্রশ্ন উঠেছিল। চাপের মুখে মনোজ ডোম, বুলেট কর্মকার, সুজয় কাহার, অনুপ দাস এবং রাজু কাহার নামে পাঁচ ক্লাব সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ডেকোরেটর মালিক-সহ ধৃত চার জন আগেই জামিন পেয়েছিলেন। এ বার জামিন পেলেন পাঁচ ক্লাব সদস্যও। এর পরেই পুলিশের বিরুদ্ধে উঠছে এমন স্পর্শকাতর ঘটনার তদন্তে ঢিলেমি দেওয়ার অভিযোগও। ঘটনা হল, সিজেএম হেনস্থার পরেও পুলিশ কেন উপযুক্ত পদক্ষেপ করেনি, তা নিয়ে আদালতে আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর রণজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। পুলিশ তার পরেই ধৃত পাঁচ ক্লাব সদস্যের টিআই (শনাক্তকরণ) প্যারেডের আবেদন করে। গত শুক্রবার সিউড়ি জেলা সংশোধনাগারে সেই টিআই প্যারেড হয়। যদিও কে বা কাকে কাকে সিজেএম ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায় শনাক্ত করেছেন, তা সে দিন জানা যায়নি। এ দিন কিন্তু আদালতে পেশ হওয়া নথিতেই দেখা গিয়েছে, ওই টিআই প্যারেডে সিজেএম কাউকেই শনাক্ত করেননি। এর পাশাপাশি পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের যে বক্তব্যে আদালতে পেশ করেছে, তাতেও ধৃত ক্লাব সদস্যদের বিরুদ্ধে ঘটনায় যুক্ত থাকার কোনও তথ্য প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
সোমবার জলপাইগুড়ি শহরে এক আইনজীবীর খুনের প্রতিবাদে সিউড়ি আদালতে এ দিন কর্মবিরতি পালন করছিলেন আইনজীবীরা। ফলে এজলাসে অভিযুক্তদের কোনও আইনজীবীই উপস্থিত ছিলেন না।
তাই অভিযুক্তেরা নিজেরাই বিচারকের কাছে যে কোনও শর্তে তাঁদের জামিন মঞ্জুরের আবেদন করেন। সরকারি আইনজীবী কুন্তলবাবু এর বিরোধিতা করেননি। তাঁর যুক্তি, ‘‘মামলাটি স্পর্শকাতর। কিন্তু ঘটনায় অভিযুক্তদের যুক্ত
থাকার জোরালো কোনও তথ্য প্রমাণ পুলিশ দেখাতে পারেনি। টিআই প্যারেডেও কাউকে শনাক্ত করা হয়নি। তাই বিচারক ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করেন।’’
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশ তা হলে ওই মামলায় এত দিন কাদের গ্রেফতার করল? জেলার পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার এর সদুত্তর দিতে পারেননি।