Advertisement
E-Paper

বিদায় ছদ্ম-বর্ষা, ফিরতে চলেছে প্যাচপ্যাচে গরম

ছদ্ম-বর্ষার প্রভাব কাটলেই ফিরে আসবে অস্বস্তির দিন। আবহাওয়ার হালহকিকত খতিয়ে দেখে শনিবার এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তারা জানাচ্ছে, বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু এ দিন বিকেলে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উপকূলে আছড়ে পড়েছে। কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর থেকে তার প্রভাবও কমে গিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০১৬ ০৩:১৮

ছদ্ম-বর্ষার প্রভাব কাটলেই ফিরে আসবে অস্বস্তির দিন। আবহাওয়ার হালহকিকত খতিয়ে দেখে শনিবার এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তারা জানাচ্ছে, বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু এ দিন বিকেলে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উপকূলে আছড়ে পড়েছে। কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর থেকে তার প্রভাবও কমে গিয়েছে। প্রভাব পুরোপুরি কেটে গেলেই মাথাচাড়া দেবে গরম। দোসর হবে বাতাসের বাড়তি আর্দ্রতাও। সব মিলিয়ে ফের প্যাচপ্যাচে অস্বস্তিকর আবহাওয়া সইতে হবে মানুষজনকে।

ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের দিকে সরে যাওয়ার ফলে এ দিন আকাশে মেঘ থাকলেও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি তেমন মেলেনি। তবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে ৫ ডিগ্রি নীচে ছিল। হাওয়া অফিসের খবর, আজ, রবিবার তাপমাত্রা সামান্য বাড়বে। আগামিকাল, সোমবার থেকে পারদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প দক্ষিণবঙ্গের পরিমণ্ডলে ঢুকেছে। এ দিন কলকাতায় বাতাসে সর্বাধিক ও ন্যূনতম আর্দ্রতা ছিল যথাক্রমে ৯৬ ও ৭৩ শতাংশ। এই বাড়তি আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার যুগলবন্দিতেই অস্বস্তি বাড়বে বলে আবহবিদেরা জানান।

আবহবিদেরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় দানা বাঁধার ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই। সেই সব দিক খতিয়ে দেখেই গত রবিবার মৌসম ভবন জানিয়েছিল, কেরলে বর্ষা ঢুকতে দিন সাতেক দেরি হবে। তার ফলে দক্ষিণবঙ্গেও দেরিতে পৌঁছবে বর্ষা। স্বাভাবিক নিয়মে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা ঢোকার কথা ৮ জুন। কিন্তু কেরলে ঢুকতে দেরি হওয়ার ফলে এ বার দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা ঢুকতে ঢুকতে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ পেরিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন আবহবিদরা। কিন্তু সেই নির্ঘণ্টও পুরোপুরি মিলবে কি না, তা নিয়ে ধন্দ রয়ে গিয়েছে। কেন?

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, ঘূর্ণিঝড় সবে মাত্র স্থলভূমিতে আছড়ে পড়েছে। তাই বর্ষার উপরে সে কী প্রভাব ফেলেছে এবং তা কতটা স্থায়ী হবে, তা এখনও পুরোপুরি হিসেব করে ওঠা যায়নি। সেই হিসেব শেষ হওয়ার পরেই এ ব্যাপারে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা সম্ভব। আদতে বর্ষার ক্ষতি করলেও রোয়ানুর প্রভাবেই তিন দিন বর্ষার আমেজ মিলেছে কলকাতায়। দিনভর আকাশ মেঘলা থেকেছে, দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে।

যা দেখে হাওয়া অফিসেরই এক বিজ্ঞানী বলছেন, ‘‘হোক না ছদ্ম বর্ষা, মে মাসে তিন দিনের স্বস্তিই বা কম কী!’’

বস্তুত, এ বার মার্চ মাস থেকেই গরমের ঠেলায় নাকাল হয়েছে কলকাতা এবং লাগোয়া জেলাগুলি। এপ্রিলে বাতাসে জলীয় বাষ্পের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে বারবার ঢুকে পড়েছে ঝাড়খণ্ডের গরম হাওয়া বা লু। একাধিক বার তাপপ্রবাহে কাবু হয়েছে মহানগরবাসী। আবার মে মাসের শেষ থেকে বাতাসে জোলো ভাব বাড়তেই জাঁকিয়ে বসেছিল ভ্যাপসা গরম। তাপপ্রবাহের জ্বলুনি না থাকলেও পথেঘাটে, বাস-ট্রামে ঘেমেনেয়ে অস্থির হতে হয়েছে মানুষজনকে।

এ বারেও কি তেমন পরিস্থিতি ফিরে আসবে?

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাঞ্চলীয় ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল গোকুলচন্দ্র দেবনাথ এ দিন বলছেন, ‘‘আগের মতো মারাত্মক পরিস্থিতি না তৈরি হলেও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার গুঁতো সইতে হবে।’’ হাওয়া অফিসের খবর, অস্বস্তি বাড়লেও সাময়িক স্বস্তি মেলার সম্ভাবনাও কিন্তু মিলিয়ে যাচ্ছে না। কারণ, বাতাসে বাড়তি জলীয় বাষ্প থাকছে। এর সঙ্গে তাপমাত্রা বাড়লেই পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বজ্রগর্ভ উল্লম্ব মেঘপুঞ্জ তৈরি হতে পারে। তার ফলে সন্ধ্যায় বা রাতে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে কালবৈশাখীর ঝড়বৃষ্টি মিলতে পারে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy