পুজো উদ্যোক্তাদের কেউ এখনও ধরা পড়েনি। অথচ পুলিশ গ্রেফতার করল ডেকোরেটার মালিক-সহ তিন কর্মীকে। শনিবার রাতে সিউড়ির সিজেএম ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়কে চাঁদার জন্য নিগ্রহের মামলায় পুলিশের এমন ভূমিকায় বিভিন্ন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে কতকটা তারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল সিউড়ি আদালতে ভারপ্রাপ্ত সিজেএম-এর এজলাসে।
এ দিন সকাল থেকে সিউড়ি থানা ও এসপি অফিসে বিক্ষোভ দেখে ধৃতদের আদালতে হাজির করানোর সময়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছিল পুলিশ। ধৃতদের আদালতে নিয়ে আসা যাওয়ার সময় প্রচুর পুলিশ বাহিনী প্রিজন ভ্যানটিকে ঘিরে রেখেছিল। সিজেএম ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায় ছুটিতে থাকায় এ দিন আদালতে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত মুখ্যবিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট ঋষি কুশারি। বেলা ১২টা নাগাদ মামলাটা উঠতেই সরকারি আইনজীবী বিকাশ পৈতণ্ডী পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে দিব্যেন্দু সরকার এবং মির মিমনের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজত চান। যুক্তি হিসাবে সরকারি আইনজীবী বলেন, ‘‘ওই দিন যে ঘটনা ঘটেছিল, তার অভিঘাত বুঝেই পুলিশ ধৃতদের হেফাজতে চাইছে। কেননা ধৃতদের কাছ থেকে ওই দিনের ঘটনায় জড়িত অন্যদের নাম জানা যাবে। চাঁদা আদায়ের রসিদও মিলতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।’’ বিচারক অভিযুক্তদের দিকে তাকিয়ে জানতে চান, তাঁদের কোনও আইনজীবী আছেন কিনা। অভিযুক্ত দিব্যেন্দু তখন বলে ওঠেন, ‘‘আমি কী কিছু বলতে পারি?’’ বিচারক সায় দিলে দিব্যেন্দু জানান, তিনি মণ্ডপসজ্জার কাজ করেন। শহরে এ বার একাধিক মণ্ডপ তৈরি করছেন। মণ্ডপ তৈরির চুক্তিপত্র এবং নিজের পরিচয় জানানো সত্ত্বেও কোনও কথা না শুনে বিনা অপরাধে পুলিশ তাঁকে এবং তাঁর তিন সহকারিকে তুলে এনেছে বলে আদালতের কাছে নালিশ করেন দিব্যেন্দু।
বিচারক এ বার জানতে চান জেলা লিগাল সেলের কেউ রয়েছেন কিনা। আইনজীবী শিবসাগর ঘোষ উঠে দাঁড়ান। তিনি পুলিশ হেফাজতে চাওয়ার বিরোধিতা করে ধৃতদের জামিনের আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘‘সে দিন মাননীয় বিচারকের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ জন্য আমরাও আন্দোলন করছি। আমরা সকলেই চাই আসল অপরাধীরা ধরা পড়ুক। তা বলে নিরপরাধদের ফাঁসিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।’’ তিনি অভিযোগ করেন, ধৃতেরা সকলেই নির্দোষ। পুলিশ তাঁদের ফাঁসাচ্ছে। দিব্যেন্দুদের সমর্থনে উঠে দাঁড়িয়ে আর এক আইনজীবী সুকুমার ঘোষ জানান, পুলিশ প্রয়োজনে টিআই প্যারেডের আবেদন করুক। তা হলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।
যদিও দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে দু’জনকেই তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠান বিচারক। বাকি দু’জনকে আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত জেল হাজতে রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আগামী শুক্রবার মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালতে কেস ডায়েরি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক। পাশাপাশি পুলিশকে বিশেষ ভাবে সতর্ক করে বলেন, কোনও ভাবেই হেফাজতে ধৃতদের উপর শারিরীক নির্যাতন যেন না চালানো হয়।
দেহ উদ্ধার। ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এক ছাত্রের। পুলিশ জানিয়েছে, শঙ্কর সিংহ (১৬) নামে ওই ছাত্রের বাড়ি বর্ধমান শহরের গুডশেড রোডে। মানসিক অবসাদ থেকেই সে আত্মঘাতী হয়েছে বলেও পুলিশের দাবি। শঙ্করের বাবা জানান, মোটরবাইক কেনার জেদ ধরেছিল ছেলে। পরীক্ষার পরে কিনে দেবেন জানিয়েছিলেন।